নিজস্ব প্রতিবেদক: পদ্মা নদীবেষ্টিত ঈশ্বরদীর সাহাপুর ইউনিয়নের নিভৃত গ্রাম চরগড়গড়ি। তিন দিন ধরে এই গ্রামটি ভারত ও বাংলাদেশের কবি, সাহিত্যিক এবং সাংস্কৃতিক কর্মীদের উপস্থিতিতে আনন্দমুখর ছিল। দুই দেশের প্রায় দুই শতাধিক লেখকের অংশগ্রহণে ‘চরনিকেতন কাব্যমঞ্চে’ অনুষ্ঠিত হলো তিন দিনব্যাপী ‘চরনিকেতন সাহিত্য উৎসব’।
বৃহস্পতিবার উৎসবের আয়োজক কবি মজিদ মাহমুদের ৬০তম জন্মদিন পালনের মধ্য দিয়ে এই জমকালো আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে।
উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব। কবি মজিদ মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন জেলা পরিষদ প্রশাসক জহুরুল ইসলাম বিশু।
দুই বাংলার সাহিত্যিকদের এই মিলনমেলায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পাবনা প্রেসক্লাব সভাপতি আখতারুজ্জামান আখতার, কবি সৈকত হাবিব, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক অখিল পোদ্দার এবং ভারত থেকে আসা কবি মানিক পণ্ডিত ও আব্দুল কাইয়ুম। এ ছাড়া পীপিলিকা সাহিত্য সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ইলিয়াস হোসেন হিমেল রানা, অধ্যাপক হাসানুজ্জামান ও খোন্দকার মাহাবুবুল হক দুদুসহ স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
তিন দিনের এই উৎসবে বিভিন্ন বিষয়ের ওপর আলোচনা সভা, নিজেদের লেখা কবিতা পাঠ, নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন ও উন্মুক্ত আলোচনার ব্যবস্থা ছিল। মূল অনুষ্ঠানের পাশাপাশি প্রাঙ্গণজুড়ে ছিল গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী বাউল ও জারি গানের আসর। বিভিন্ন বইয়ের দোকান ও হস্তশিল্পের প্রদর্শনী চরাঞ্চলের এই আয়োজনকে একটি পূর্ণাঙ্গ লোকজ মেলায় রূপ দেয়।
সমাপনী দিনে কবি মজিদ মাহমুদের জন্মদিন উপলক্ষে তাঁর লেখা ছড়া আবৃত্তি করে ‘সাহিত্য-সংস্কৃতি ও আবৃত্তি সংসদ’-এর শিশুশিল্পীরা। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা কবি আব্দুল আল মামুন। এ সময় ঈশ্বরদী প্রেসক্লাব, ঈশ্বরদী সাহিত্য-সংস্কৃতি পরিষদ, নোঙ্গর-ঈশ্বরদী, বৌটুবানী পাঠশালা ও উত্তরণ পাবনার পক্ষ থেকে কবিকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়।
অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে মজিদ মাহমুদ বলেন, গত এক দশক ধরে এই উৎসবের মাধ্যমে আমরা অবহেলিত চরাঞ্চলে শিল্পের আলো ছড়ানোর চেষ্টা করছি। আমার জন্মমাটির এই প্রান্তিক মানুষের সাংস্কৃতিক বিকাশের জন্য ভবিষ্যতে এখানে একটি ‘সংস্কৃতি বিশ্ববিদ্যালয়’ গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১৪ এপ্রিল জাতীয় সংগীত ও বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মাধ্যমে এই উৎসব শুরু হয়েছিল। দুই দেশের লেখক ও গুণীজনদের মধ্যে চিন্তার আদান-প্রদান এবং সম্প্রীতির এক অনন্য উদাহরণ হয়ে রইল এই আয়োজন।



