নিজস্ব প্রতিবেদক: অধ্যক্ষ প্রফেসর এসএম রবিউল ইসলাম ২৪ ফেব্রুয়ারি, সোমবার শিক্ষকতা জীবন থেকে বিদায় নিলেন। মাত্র দুই বছরের কর্মজীবনে তিনি কলেজটিকে বদলে দিয়েছেন এক অনন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। তার অবসর উপলক্ষে আয়োজিত বিদায় সংবর্ধনায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
১৯৬৩ সালে প্রতিষ্ঠিত ঈশ্বরদী সরকারি কলেজটি দীর্ঘদিন অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও আধুনিক শিক্ষার সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিল। ২০২৩ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এসএম রবিউল ইসলাম কলেজের উন্নয়নে নতুন দিগন্তের সূচনা করেন।
অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি ডিজিটাল হাজিরা পদ্ধতি চালু করেন, ক্যাম্পাসজুড়ে বসান সিসি ক্যামেরা, নির্মাণ করেন আধুনিক ওয়াশরুম, কমনরুম, অডিটোরিয়াম, বিজ্ঞান গবেষণাগার এবং শিক্ষার্থীদের বসার উপযোগী পরিপাটি ক্যাম্পাস। শিক্ষার্থীদের মানসিক ও সাংস্কৃতিক বিকাশের জন্য চালু করেন বিতর্ক প্রতিযোগিতা, বিজ্ঞান মেলা, চাকরি মেলা, ২১শে বইমেলা, পিঠা উৎসবসহ নানা আয়োজন।
অধ্যক্ষ এসএম রবিউল ইসলামের নেতৃত্বে উন্নয়ন কাজ শুরুর পরই তিনি নানা রাজনৈতিক চাপের সম্মুখীন হন। চাঁদাবাজি ও অনৈতিক সুযোগের জন্য তাকে বাধার সম্মুখীন হতে হয়। ফলে অনেক উন্নয়নমূলক প্রকল্প স্থগিত হয়ে যায়।
তবে ২০২৩ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর নতুন উদ্যমে তিনি আবারও কলেজের উন্নয়নের কাজ শুরু করেন। কলেজের পরিকাঠামো থেকে শুরু করে শিক্ষার পরিবেশ সবকিছুতেই নতুনত্ব নিয়ে আসেন।
অনার্স চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী জেসমিন আক্তার তৃষা বলেন, ‘স্যার ছিলেন একজন অনুকরণীয় অধ্যক্ষ। তার নেতৃত্বে কলেজে অনেক পরিবর্তন এসেছে।’
হিসাববিজ্ঞান বিভাগের মাহমুদুল ইসলাম শাওন বলেন, ‘৫ আগস্টের পর থেকে স্যার যেভাবে উন্নয়ন করেছেন, তা সত্যিই দৃষ্টান্তমূলক। তার আরও কিছু সময় থাকলে কলেজটি দেশের অন্যতম সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হতো।’
সাবেক শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান বলেন, ‘অনেক বছর পর কলেজে এসে আমি বিস্মিত। কলেজের এত উন্নতি হবে, তা কল্পনাও করিনি। অধ্যক্ষ এসএম রবিউল ইসলাম সত্যিকার অর্থেই একজন রূপকার।’
শিক্ষকতা জীবন থেকে বিদায়ের মুহূর্তে এসএম রবিউল ইসলাম বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের জন্য আরও অনেক কিছু করার পরিকল্পনা ছিল। সময় স্বল্পতার কারণে সব কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি। বিশেষ করে কলেজের জমি সংক্রান্ত জটিলতা ও বাউন্ডারি না থাকায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে এখনো দুশ্চিন্তা রয়ে গেছে।’
নিজের শিক্ষাজীবন নিয়ে স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ‘আমি বাবার সাইকেলে চড়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যেতাম। ১৯৮৭ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগে অনার্স-মাস্টার্স সম্পন্ন করি। ১৪তম বিসিএস পাস করে ১৯৯৩ সালে কলেজে শিক্ষকতা শুরু করি। ২০২৩ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ঈশ্বরদী সরকারি কলেজে যোগদান করি, আর আজ শিক্ষকতা জীবন থেকে বিদায় নিচ্ছি।’
.jpg)
