সংবাদ সাতদিন ডেস্ক: ঈশ্বরদী শহরের নূর মহল্লা এলাকায় জমি নিয়ে পূর্বশত্রুতার জেরে একটি বাড়িতে সন্ত্রাসী হামলা, ভাঙচুর এবং লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। প্রতিপক্ষের হামলায় একটি বসতবাড়ি, ইটের তৈরি সীমানা প্রাচীর ও টিনসেড ঘর ভেঙে ফেলা হয়। এছাড়া বাড়ির গাছপালা কেটে ফেলার পাশাপাশি লৌহজাত সামগ্রীসহ প্রায় পাঁচ লক্ষাধিক টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে হামলাকারীরা। হামলার পর থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কে রয়েছেন।
ভুক্তভোগী কলেজ শিক্ষক নাজমুন নাহার জমি নিয়ে এই হামলা, ভাঙচুর ও লুটের ঘটনা জানাতে গতকাল শুক্রবার ঈশ্বরদী প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন করেন। লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, একই এলাকার মৃত ওহাব মল্লিকের পরিবারের সঙ্গে তাদের সাড়ে ৩ শতাংশ জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে একটি মামলা চলছিল। সম্প্রতি পাবনার বিজ্ঞ আদালত ২৩ সেপ্টেম্বর মামলার আংশিক রায় দেন, যেখানে বলা হয় জমি নিয়ে বাদী-বিবাদী উভয়ের মধ্যে মীমাংসা না হলে উভয় পক্ষই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
নাজমুন নাহার আরও জানান, রায়ের পরদিন ৪ অক্টোবর, ওহাব মল্লিকের ছেলে আশিউর রহমান মল্লিক মিন্টু ও তার ভাইরা দলবদ্ধ হয়ে তাদের বাড়িতে হামলা চালায়। তারা বাড়ির ৩০ ফুট লম্বা সীমানা প্রাচীর ভেঙে ফেলে এবং গাছপালা কেটে ফেলে। বাধা দিলে হামলাকারীরা অশ্লীল ভাষায় গালি দেয় এবং নাজমুন নাহারের ভাই নজরুল ইসলামকে হত্যার উদ্দেশ্যে লোহার হাতুড়ি দিয়ে আঘাতের চেষ্টা করে। তিনি দৌড়ে পালিয়ে প্রাণ রক্ষা করেন।
হামলাকারীরা পুরোনো বরফ কারখানার লৌহজাত দ্রব্যসহ প্রায় পাঁচ লক্ষাধিক টাকার মালামাল নিয়ে চলে যায় বলে অভিযোগ করেন নাজমুন নাহার। সংবাদ সম্মেলনে তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন নজরুল ইসলাম, সাহেদুল হক, তৌহিদুল ইসলাম ও কৌশিক রহমান।
নজরুল ইসলাম জানান, হামলার পর থেকে তারা আতঙ্কে আছেন এবং প্রতিপক্ষ যেকোনো সময় তাদের ওপর পুনরায় হামলা চালাতে পারে। ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। বিষয়টি পুলিশকে মৌখিকভাবে জানানো হলেও এখনও হুমকি অব্যাহত রয়েছে। তিনি অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

