ঈশ্বরদীতে বিএনপি-জামায়াতের আরও ১৬ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার

গ্রেপ্তারকৃত ইলিয়াস হোসেন, কালাম মোল্লা ও মহির মন্ডল

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে বিএনপি-জামায়াত ও এর অঙ্গসংগঠনের আরও ১৬ নেতা–কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার তাঁদের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালতে হাজির করা হলে আদালত সবাইকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এ নিয়ে ২৮ অক্টোবর বিকেলে থেকে এ পর্যন্ত ঈশ্বরদীতে ৭১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশ ও আদালত-সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, চলমান হরতাল-অবরোধে ঈশ্বরদীতে নাশকতা ও দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রে  জড়িত থাকার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আগের একাধিক মামলা রয়েছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঈশ্বরদীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা বিষয়টি স্বীকারোক্তি দিয়েছে। সবার বিরুদ্ধে নাশকতার মামলা হয়েছে।

মামলার কাগজপত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার নেতা–কর্মীদের মধ্যে আছেন পাকশী ইউনিয়ন উলামা পরিষদের সভাপতি ও ইউনিয়ন জামায়াতের সাবেক আমির ইলিয়াস হোসেন , সলিমপুর ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি মহির মন্ডল, পাকশী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি কালাম মোল্লা, ওই ইউনিয়ন ৮ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আহাদ মোল্লা, সলিমপুর ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান সুমন এবং পাকশী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সদস্য নীরব হোসেন।

এ ব্যাপারে জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুস সামাদ মন্টু বলেন, সরকার আরেকটা এক তরফা নির্বাচন করতে এবং আন্দোলনকে বাধাগ্রস্ত করতে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করছে। আমাদের আন্দোলন চলছে চলবে ইনশাআল্লাহ।   

ঈশ্বরদী উপজেলা জামায়াতের আমির ড. নুরুজ্জামান বলেন, চলমান আন্দোলনকে বাধাগ্রস্ত করতে রাতের আঁধারে বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। গ্রেপ্তার করে জনগণের আন্দোলন বন্ধ করা যায় না। আন্দোলন সফল হবে ইনশাআল্লাহ।

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অরবিন্দ সরকার শুক্রবার রাতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় বিএনপি ও জামায়াত ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা–কর্মীকে গ্রেপ্তার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, নাশকতার একটি মামলায় তাঁদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। আদালতের মাধ্যমে শুক্রবার বিকেলে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে নাশকতাসহ একাধিক মামলা রয়েছে।

স্বত্ব © ২০২৫ সংবাদ সাতদিন