নিজস্ব প্রতিবেদক: এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো আইসিসি ওয়ানডে বিশ্বকাপে খেলছে আফগানিস্তান। এর আগের দুই বিশ্বকাপে অংশ নিলেও কোনো জয়ের দেখা পায়নি তারা। এবার বিশ্বকাপে নিজেদের তৃতীয় ম্যাচেই ঐতিহাসিক জয় পেয়েছেন আফগানরা। ১৫ অক্টোবর রোববার ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ডকে ৬৯ রানে হারিয়ে নিজেদের ক্রিকেট ইতিহাসে ওয়ানডে বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো জয়ের দেখা পেয়েছেন রশিদ, মুজিব, নবিরা। টস হেরে আগে ব্যাটিং করতে নেমে সবকটি উইকেট হারিয়ে ২৮৪ রান সংগ্রহ করে আফগানিস্তান। জবাবে ৪০.৩ ওভারে ২১৫ রানে অলআউট হয়ে যায় ইংল্যান্ড। ফলে ৬৯ রানের ঐতিহাসিক জয় নিয়ে বিশ্বকাপে অঘটনের জন্ম দিল আফগানযোদ্ধারা।
ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ডকে মাটিতে নামিয়ে দিয়েছে আফগানরা। মূলত মুজিব, নবি ও রশিদের বিষাক্ত স্পিনেই নীল হয়েছেন ইংলিশ ব্যাটাররা। ২৮৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ইনিংসের শুরু থেকেই স্পিনের বিরুদ্ধে ব্যাটিং করতে গিয়ে বিপাকে পড়েন তারা। মুজিব-উর রহমান শুরু থেকেই জ্বলে ওঠেন। তারকা লেগ স্পিনার রশিদ খানও বিধ্বংসীরূপে ফেরেন। নবিও বল হাতে জ্বলে ওঠেন। এই তিন স্পিনারের ঘূর্ণিতে এলোমেলো হয়ে যায় ইংল্যান্ডর ব্যাটিং লাইনআপ। মুজিব ও রশিদ তিনটি করে উইকেট নেন। নবি পান দুটি উইকেট। অপর উইকেট দুটি শিকার করেন ফারুকি ও নাভিন। ১০ ওভারে ৫১ রান দিয়ে ৩ উইকেট শিকার করে ম্যাচসেরা হন মুজিব।
এর আগের রহমানউল্লাহ গুরবাজ ও ইকরাম আলিখিলের হাফ সেঞ্চুরির সুবাদে তিনশর কাছাকাছি রান (২৮৪) করে আফগানিস্তান। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডেতে এটিই আফগানিস্তানের সর্বোচ্চ দলীয় সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড। নিজেদের বিশ্বকাপ ইতিহাসে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দলীয় রানেরও আফগানদের। গত বিশ্বকাপে লিডসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ২৮৮ রান ছিল তাদের বিশ্বকাপের মঞ্চে সর্বোচ্চ সংগ্রহের রেকর্ড। নয়াদিল্লিতে টস জিতে আগে বোলিং করার সিদ্ধান্ত নেন ইংলিশ অধিনায়ক জস বাটলার। ব্যাটিংয়ে নেমে ইব্রাহিম জাদরানকে নিয়ে দুর্দান্ত সূচনা করেন রহমানউল্লাহ গুরবাজ। পাওয়ার প্লেতে নিজেদের বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৭৯ রান তোলে আফগানিস্তান। ১১তম ওভারে ওয়ানডেতে তৃতীয় হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন গুরবাজ। এ জন্য ৩৩ বল খেলেন তিনি। বিশ্বকাপে আফগানদের তৃতীয় ওপেনার হিসেবে অর্ধশতক করলেন গুরবাজ।
১৭তম ওভারে জাদরানকে ২৮ রানে থামিয়ে আফগানিস্তানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন স্পিনার আদিল রশিদ। ১০১ বলে বিশ্বকাপে আফগানিস্তানের তৃতীয় সর্বোচ্চ ১১৪ রানের জুটি গড়েন গুরবাজ-জাদরান। প্রথম উইকেট পতনের পর ৮ রানের ব্যবধানে আরও দুই ব্যাটারকে হারায় আফগানিস্তান। ১৯তম ওভারে তিন নম্বরে নামা রহমত শাহকে ৩ রানে নিজের দ্বিতীয় শিকার বানান রশিদ। একই ওভারে রানআউট হন গুরবাজ। রিয়ারের ষষ্ঠ সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগিয়ে ৮টি চার ও ৪টি ছক্কায় ৮০ রানে রানআউটের শিকার হয়ে থামেন তিনি। বিশ্বকাপে আফগানিস্তানের ওপেনার হিসেবে এটি সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংসের রেকর্ড। ১১৪ রানের শুরুর পর ১২২ রানে তৃতীয় উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে আফগানিস্তান।
এ অবস্থায় মিডল অর্ডার ব্যাটাররা বড় জুটির চেষ্টা করেও সফল হননি। এতে ১৯০ রানে ষষ্ঠ উইকেট পতন হয় তাদের। আজমতুল্লাহ ওমারজাই ১৯, অধিনায়ক হাশমতুল্লাহ শাহিদি ১৪ ও মোহাম্মদ নবি ৯ রান করে আউট হন। পার্টটাইম স্পিনার হিসেবে আগের ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে ৮০ রান করা শাহিদিকে বোল্ড করেন জো রুট। এরপর সপ্তম উইকেটে রশিদ খানকে নিয়ে ৪৮ বলে ৪৩ এবং অষ্টম উইকেটে মুজিব-উর রহমানের সঙ্গে ২৫ বলে ঝোড়ো ৪৪ রান যোগ করেন ছয় নম্বরে নামা ইকরাম আলিখিল।
এই দুই জুটির কল্যাণে ৪৯ দশমিক ৫ ওভারে সব উইকেট হারিয়ে ২৮৪ রানের চ্যালেঞ্জিং সংগ্রহ পায় আফগানিস্তান। ৩টি চারে রশিদ ২২ বলে ২৩ রান, ৩টি চার ও ১টি ছক্কায় মুজিব ১৬ বলে ২৮ রান করেন। ওয়ানডে ক্যারিয়ারের তৃতীয় হাফ সেঞ্চুরির ইনিংসে ৩টি চার ও ২টি ছক্কায় ৬৬ বলে ৫৮ রান করেন আলিখিল। ইংল্যান্ডের রশিদ ৪২ রানে ৩ এবং মার্ক উড ৫০ রানে ২ উইকেট শিকার করেন।

