![]() |
| ঈশ্বরদী বিমানবন্দর। ফাইল ছবি |
নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদী বিমানবন্দরে পুনরায় বাণিজ্যিক পরিষেবা চালুর জন্য একটি সম্ভাব্যতা সমীক্ষা চালাবে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)।
বেবিচক সূত্রে জানা যায়, দেশের সব বাণিজ্যিক ও আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর আধুনিকায়নের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বেবিচক প্রায় ১ কোটি টাকা ব্যয়ে ঈশ্বরদী বিমানবন্দর মেরামত ও সংস্কার করবে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ঈশ্বরদী বিমানবন্দরের জন্য রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং ঈশ্বরদী ইপিজেড ব্যবসার নতুন দুয়ার খুলে দিয়েছে। বিমানবন্দরটি আবার বাণিজ্যিক পরিষেবা দেওয়া শুরু করলে দেশি-বিদেশি নাগরিকরা উল্লেখযোগ্য সুবিধা পাবেন।
এই প্রকল্পের মাধ্যমে আকাশপথে পর্যটন নগরী কক্সবাজারকে ঈশ্বরদী, পাবনা, কুষ্টিয়া, নাটোর ও সিরাজগঞ্জের সঙ্গে সংযুক্ত করা হবে, যা বিমান চলাচল ও পর্যটন খাতকে চাঙা করবে এবং সরকারি কোষাগারে রাজস্ব যোগাবে।
বেবিচক নথিপত্র বলছে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক সরকার ঈশ্বরদী বিমানবন্দর নির্মাণ করেছিল। এটি প্রাথমিকভাবে হিজলির ঘাঁটি এলাকা হিসেবে পরিচিত ছিল। বিমানবন্দরটি ব্যবহার করতো টোয়েন্টিথ এয়ার ফোর্স।
১৯৬২ সালে এ বিমানবন্দর থেকে প্রথম যাত্রীবাহী ফ্লাইট পরিচালনা করে পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্স (পিআইএ)। বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের পর ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স এই বিমানবন্দর থেকে নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা করত।
ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ ২০১৩ সালে ঈশ্বরদী বিমানবন্দরে আবার ফ্লাইট চালু করেছিল। কিন্তু ২০১৪ সালেই আবার ফ্লাইট পরিচালনা স্থগিত করা হয়েছিল। বর্তমানে যাত্রীবাহী ফ্লাইট ওঠানামা না করলেও বাংলাদেশ বিমান বাহিনী, নৌবাহিনী, সেনাবাহিনী, হেলিকপ্টারসহ বিভিন্ন সংস্থার লাইট এয়ারক্রাফট এটি ব্যবহার করে।
বেবিচকের প্রাথমিক জরিপ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঈশ্বরদী বিমানবন্দরের জন্য মোট ৪৩৬.৬৫ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছিল। এর মধ্যে ১৪৫.৯১ একর জমির মধ্যে বিমানবন্দরের টার্মিনাল বিল্ডিং, রানওয়ে, ট্যাক্সিওয়ে, এপ্রোন, নেভিগেশন এবং যোগাযোগের সরঞ্জাম, অফিসারদের কোয়ার্টার এবং বেবিচকের তত্ত্বাবধানে অ্যাক্সেস রোড অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
অবশিষ্ট ২৯০.৭৪ একর জমি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দেখাশোনা করছে।
স্থানীয় বিমান অপারেটররা জানান, কর্তৃপক্ষ রানওয়েকে আরো ৫০০ মিটার প্রসারিত করলে এয়ারলাইনগুলো এটিআর ৭২-৬০০ এর মতো স্বল্প দূরত্বের বিমান ব্যবহার করে ফ্লাইট পরিচালনা করতে এবং আয় করতে সক্ষম হবে।
তারা আরও জানায়, বিমানবন্দরে বাণিজ্যিক পরিষেবা পুনরায় চালু করা অত্যন্ত কার্যকর হবে কারণ এলাকায় উল্লেখযোগ্য মাত্রায় চাহিদা রয়েছে।

