বিস্ফোরণ: জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবি হেফাজতে ভবন মালিক

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর গুলিস্তান-সংলগ্ন সিদ্দিক বাজারে সাত তলা ভবনে বিস্ফোরণের ঘটনায় ওই ভবনের মালিক ও এক দোকান মালিককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। ডিবি প্রধান হারুন অর রশীদ  বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

প্রথমে মঙ্গলবার রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিট থেকে ওই ভবনের ‘বাংলাদেশ স্যানিটারি’ নামে একটি দোকানের মালিক আব্দুল মোতালেব মিন্টুকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নেয় ডিবির লালবাগ বিভাগ। এরপর ভবনের মালিক ওয়াহিদুর রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। এ ছাড়া আরও কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়েছে ডিবি। তবে এখনো কাউকে আটক করা হয়নি।

ভবনটির মূল মালিক রেজাউর রহমান নামে এক ব্যক্তি। তিনি মারা যাওয়ার পর তার তিন ছেলে ওয়াহিদুর রহমান, মশিউর রহমান ও মতিউর রহমান মালিক হন। তাদের মধ্যে বড় ছেলে ওয়াহিদুর রহমান ও ছোট ছেলে মতিউর রহমান ভবনটি পরিচালনা করেন। মেজো ছেলে মশিউর রহমান লন্ডনপ্রবাসী।

ডিবি প্রধান হারুন অর রশীদ বলেন, ‘আমরা কাউকে আটক করিনি। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আমরা বাড়ির মালিক, দোকান মালিকদের ডেকেছি। যারা আহত হয়েছেন তাদের সঙ্গেও কথা বলছি। তাদের কাছে আমরা জানতে চাইব, বাণিজ্যিকের নিয়মমতো বেজমেন্টে দোকান দেয়ার কথা নয়, স্যুয়ারেজ লাইন, সেপটিক ট্যাংক, ওয়াটার রিজার্ভার- এগুলো নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ হতো কি না, তা আমরা জানতে চাইব। কার অবহেলায় এই হতাহতের ঘটনা ঘটল, তা জানতে জিজ্ঞাসাবাদ করছি।’

হারুন অর রশীদ বলেন, ‘বাইরে থেকে কেউ এটা ঘটিয়েছে কি না বা এসে ঘটানোর সুযোগ আছে কি না, তাও আমরা খতিয়ে দেখছি।’

গত মঙ্গলবার বিকেলের ওই বিস্ফোরণের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৮ জনের মৃত্যুর তথ্য মিলেছে। এদের মধ্যে দুজন নারী এবং ১৬ জন পুরুষ। ভবনটি থেকে ৪০ জনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস। ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় রাতে উদ্ধারকাজ স্থগিত করা হয়। বুধবার সকাল থেকে আবার তৎপরতা শুরু করে ফায়ার সার্ভিসসহ নিরাপত্তা বাহিনী। তবে ভবনের বেজমেন্টে এখনো ঢুকতে পারেননি উদ্ধারকর্মীরা। সেখানে আরও মানুষ আটকে থাকতে পারেন বলে ধারণা ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তাদেরও।

বিস্ফোরণটি কীভাবে ঘটল, তা নিয়ে এখনো ধোঁয়াশায় সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ। র‌্যাবের বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের প্রধান মেজর মশিউর রহমান দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা প্রাথমিকভাবে যে আলামত পেয়েছি, তাতে বোঝা যাচ্ছে ভবনের বিস্ফোরণ বেজমেন্ট থেকে হয়েছে। এটা স্বাভাবিক কোনো বিস্ফোরণ নয়। গ্যাস জমে কিংবা অন্য কোনোভাবে বিস্ফোরণ ঘটেছে। এ ঘটনা এসি থেকে ঘটেনি এটা নিশ্চিত হয়েছি।’

অন্যদিকে ঘটনাটি তদন্তে চার সদস্যের কমিটি গঠন করেছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর। অধিদপ্তরের পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরীকে প্রধান করে গঠিত এ কমিটিকে পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

স্বত্ব © ২০২৫ সংবাদ সাতদিন