কলাবাগানের সঙ্গে এ কেমন শত্রুতা

প্রায় ৫০ বিঘা জমির কলাবাগান পুড়িয়ে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এতে ৫০ লাখ টাকার কলার গাছ নষ্ট হয়েছে বলে দাবি করেন বাগানমালিক।

প্রতিনিধি পাবনা: পাবনায় দুর্বৃত্তদের দেওয়া আগুনে এক কৃষকের ৫০ বিঘা জমির কলাগাছ পুড়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কৃষক মো. ইসমাইল প্রামাণিক মঙ্গলবার থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।  রোববার রাতে জেলা সদরের ভাঁড়ারা ইউনিয়নের ভাওডাঙ্গা পিরপুর চরে এ ঘটনায় আগুনে প্রায় ৫০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষক ইসমাইল।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও এজাহার সূত্রে জানা গেছে, বছর দুই আগে তিনি ওই চরে ১০০ বিঘা জমিতে কলার বাগান করেছেন। কলাগাছ বড় হয়ে ফল দেওয়া শুরু করেছে। আসন্ন রমজান মাসেই তিনি বড় অঙ্কের কলা বিক্রি করবেন বলে আশা করেছিলেন। এর মধ্যেই রোববার রাতে কে বা কারা তাঁর কলাবাগানে আগুন লাগিয়ে দেয়। এতে রাতভর বাগানটি পুড়তে থাকে।

সোমবার সকালে চরের লোকজন তাঁকে বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে তিনি বাগানে ছুটে গিয়ে স্থানীয় ব্যক্তিদের সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। কিন্তু এর আগেই তাঁর বাগানের প্রায় ৫০ বিঘা জমির কলাগাছ পুড়ে যায়। এতে তাঁর প্রায় ৫০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, পদ্মায় পলি পড়ে জেগেছে বিশাল চর। চরজুড়েই এখন ফসলের আবাদ। এর মধ্যেই বিশাল এই কলাবাগান। বাগানের চারপাশজুড়ে কাশফুলের ঝোপঝাড়। আগুনে বাগানের একাংশ পুড়ে গেছে। গাছের সঙ্গে ছাই হয়েছে কাঁচা-পাকা কলা। তবে কত পরিমাণ জমির গাছ পুড়েছে, তা পরিমাপ করা বেশ কঠিন।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মো. ইসমাইল প্রামাণিক বলেন, প্রায় ১৫ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে তিনি বাগানটি করেছেন। আশা ছিল, রমজান মাসে কলা বিক্রি করে ঋণ পরিশোধ করবেন। কিছু টাকা লাভেরও আশা ছিল। কিন্তু অর্ধেক বাগানই পুড়ে ছাই হয়েছে। এখন লাভ তো দূরে থাক কীভাবে দেনা শোধ করবেন, তা নিয়ে চিন্তিত আছেন।

মো. ইসমাইল প্রামাণিক  বলেন, ‘আমার সঙ্গে কার কী শত্রুতা আছে, তা জানা নেই। কী কারণে এই সর্বনাশ করল, তা–ও বুঝতে পারছি না। থানায় অভিযোগ দিয়েছি। আশা করছি, পুলিশ দুর্বৃত্তদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে।’

সদর থানার উপপরিদর্শক রুহুল আমিন বলেন, এজাহারটি পাওয়ার পরই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। তবে এজাহারে যে পরিমাণ জমির কলাগাছ পুড়েছে এবং যে পরিমাণ ক্ষতি দাবি করা হয়েছে, ততটা না হলেও বাগানের একাংশ পুড়ে গেছে। এতে ওই কৃষক বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, কারা কী কারণে বাগানটিতে আগুন দিয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, বাগানমালিকের সঙ্গে পূর্ব কোনো শত্রুতার জের ধরেই এ ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখা হচ্ছে।

স্বত্ব © ২০২৫ সংবাদ সাতদিন