| শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি। ছবি: সংগৃহীত |
নিজস্ব প্রতিবেদক: শিক্ষার্থীদের মানসিকতার পরিবর্তনে শিক্ষকদের ভূমিকা রয়েছে। তাদের মানসম্পন্ন শিক্ষা প্রদানের জন্য যোগ্য ও দক্ষ শিক্ষক তৈরি করার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। গতকাল সোমবার দুপুরে রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে নির্বাচিত শিক্ষকদের নিয়োগপত্র তুলে দিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে এসব কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি।
দেশের সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে ১২টি বিষয়ে ২ হাজার ৬৫ জন সহকারী শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে সোমবার এসব শিক্ষককে দেশের বিভিন্ন সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নিয়োগ দেওয়া হয়। এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বিষয়ভিত্তিক আলাদা প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের ৭ ফেব্রুয়ারি কর্মস্থলে যোগ দিতে হবে। অন্যথায় তাঁর নিয়োগ বাতিল হবে। এর আগে ২ হাজার ১৫৫ জনকে নিয়োগের সুপারিশ করেছিল সরকারি কর্ম কমিশন। এরপর স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও পুলিশি তদন্ত হয়।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষকদের জীবনব্যাপী প্রশিক্ষণের প্রয়োজন আছে। আজ যাঁরা নিয়োগ পাচ্ছেন, তাঁরা নানা ধরনের প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন ও যাবেন। কর্মজীবনে প্রবেশ করতে যাচ্ছেন, যত বেশি সম্ভব প্রশিক্ষণ গ্রহণ করবেন। যাঁরা নিয়োগ পাচ্ছেন, তারা কর্মজীবনে সাফল্য অর্জনের জন্য, যখন যেসব প্রশিক্ষণের পর নিজেদের দক্ষ করে গড়ে তুলবেন। তাঁদের সফল হতে হলে প্রথম থেকেই যত ধরনের প্রশিক্ষণ নেওয়া সম্ভব, তা গ্রহণ করতে হবে।
প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহারের কথা উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, প্রযুক্তি আপনার কাজ আরও দক্ষতার সঙ্গে করতে সহায়তা করে। কাজেই প্রযুক্তিকে যথাযথভাবে ব্যবহার করতে হবে। এ প্রযুক্তি আপনার কাজ আপনাকে আরও দক্ষ করে তুলবে। আপনারা প্রযুক্তিকে ভয় পাবেন না, একে আপন করে নিন, কাজের হাতিয়ার করে নিন।
দীপু মনি বলেন, এনটিআরসিএর তৃতীয় নিয়োগ চক্রের মোট ৩৪ হাজার ৭৩ জনের সুপারিশপত্র প্রেরণের পদভিত্তিক পরিসংখ্যান হলোÑপ্রভাষক পদে ৬ হাজার ৫০১ জন, সহকারী শিক্ষক পদে ২৪ হাজার ৪১৮ জন, সহকারী মৌলভি পদে ১ হাজার ৫২৮ জন, ইবতেদায়ি মৌলভি পদে ৩৫৫ জন, ট্রেড ইনস্ট্রাক্টর ৩৮৯ জন, ইনস্ট্রাক্টর ১০০ জন, জুনিয়র ইনস্ট্রাক্টর ৬ জন, প্রদর্শক ১৯৪ জন, ইবতেদায়ি ক্বারী ৯৩ জন, ইবতেদায়ি শিক্ষক ৪৮৯ জন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রয়োজনের তুলনায় শিক্ষকের সংকট রয়েছে, শিক্ষকের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। তাই ভেরিফিকেশন চলমান থাকা অবস্থায় তাঁদের নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শর্ত সাপেক্ষে যে ভেরিফকেশনে কোনো বিরূপ কিছু থাকলে তাঁকে বাদ দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবু বকর ছিদ্দীকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আমিনুল ইসলাম খান এবং বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) চেয়ারম্যান এনামুল কাদের খান।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, ভেরিফিকেশন চলা অবস্থায় ৩৪ হাজার ৭৩ জন প্রার্থীকে নিয়োগের জন্য প্রাথমিকভাবে সুপারিশ করা হয়েছে। এ ছাড়া সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বিভিন্ন বিষয়ে আরও ২ হাজার ৬৫ জনকে সুপারিশ করা হবে।
বাকি প্রার্থীদের মধ্যে ৪ হাজার ১৯৮ জনের ভেরিফিকেশনের ‘ভি’ রোল ফরম না পাঠানো, ৯ জনের প্রতিষ্ঠান সরকারীকরণ হওয়া, ৩ জনের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির ১০ নম্বর শর্ত ভঙ্গ করে মহিলা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শরীরচর্চা শিক্ষক পদে আবেদন করাসহ বিভিন্ন কারণে মোট ৪ হাজার ২১০ জন প্রার্থীকে সুপারিশ করা হয়নি। যেসব প্রার্থীকে সুপারিশ করা হয়নি, তাঁদের তালিকা এনটিআরসিএ ওয়েবসাইটে দেওয়া হয়েছে।
