সাঁথিয়ায় সংঘর্ষে আহত ব্যক্তির মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে লুটপাটের অভিযোগ

প্রতিপক্ষের হামলায় ভাঙচুর হওয়া একটি ঘর। শনিবার বিকেলে পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার ঘুঘুদহ গ্রামে। ছবি: ঈশ্বরদী নিউজ টুয়েন্টিফোর

নিজস্ব প্রতিবেদক: পাবনার সাঁথিয়া উপজেলায় দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত একজনের মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে প্রতিপক্ষের বাড়িঘরে ভাঙচুর ও লুপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। শনিবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলার গৌরীগ্রাম ইউনিয়নের ঘুঘুদহ গ্রামে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, উপজেলার গৌরীগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য ঘুঘুদহ গ্রামের মানিক শেখ ও লেবু প্রামাণিকের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। গত ২৮ নভেম্বর ইউপি নির্বাচনে দুজনে একে অপরের বিরুদ্ধে সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাও করেন। বেশ কিছুদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনার পরিপ্রেক্ষিতে শুক্রবার (২১ জানুয়ারি) বিকেলে একটি সালিস বৈঠক বসে। বৈঠকের একপর্যায়ে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে কামরুল ইসলাম (৩৫), মজনু মিয়া (৪২), আতিকুল ইসলাম ৪০), আনিসুর রহমান (৪৫), ইউপি সদস্য মানিক শেখসহ (৪৮) উভয় পক্ষের বেশ কয়েজন আহত হন। আহত ব্যক্তিদের সাঁথিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়।

এদিকে শনিবার সকাল ১০টার দিকে সংঘর্ষে আহত আনিসুর রহমান চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন বলে গুজব ছড়িয়ে পড়ে। এরপর ইউপি সদস্য মানিক শেখের পক্ষের শতাধিক লোক লেবু প্রামাণিক ও তাঁর আত্মীয়দের বাড়িতে দেশি অস্ত্র নিয়ে হামলা চালান বলে অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী ব্যক্তিদের অভিযোগ, প্রতিপক্ষের লোকজন লেবু প্রমাণিক, তাঁর ভাই শরিফুল ইসলাম, আতিকুল ইসলাম, সিদ্দিকুল ইসলাম ও প্রতিবেশী জাহেলা খাতুনের বাড়িতে হামলা চালিয়ে টিভি, ফ্রিজ, খাট, ধান, ছাগলসহ বিভিন্ন সামগ্রী লুট করে নেন।

শরিফুলের ইসলামের স্ত্রী স্বপ্না খাতুন আহাজারি করতে করতে বলেন, তাঁরা ঘরে ভাঙচুর চালিয়ে টেলিভিশন থেকে শুরু করে রান্নার বাসন পর্যন্ত লুট করে নিয়ে গেছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, আবারও হামলা হতে পারে, এ আশঙ্কায় লেবু প্রমাণিকের লোকজন বাড়ির বিভিন্ন মালামাল অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছেন। কেউ কেউ নিরাপত্তার জন্য মালামালসহ এলাকাও ত্যাগ করছেন। তবে সাঁথিয়া থানার পক্ষ থেকে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, জমিজমাসংক্রান্ত বিরোধ ও এলাকায় প্রভাব বিস্তার নিয়ে গত বছর মানিক শেখের ছেলেকে ধারালো ফালায় বিদ্ধ করে হত্যা করেন প্রতিপক্ষের লোকজন। গত বছরের ২৮ নভেম্বর অনুষ্ঠিত গৌরীগ্রাম ইউপির ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য পদে নির্বাচনে লেবু প্রামাণিককে পরাজিত করে বিজয়ী হন মানিক শেখ। এর পর থেকে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বেড়েই চলছিল।

সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসিফ মোহাম্মদ সিদ্দিকুল ইসলাম বলেন, সংঘর্ষের সংবাদ পাওয়া মাত্রই এলাকায় পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়। সেখানে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। সংঘর্ষে মিথ্যা মৃত্যুর সংবাদ প্রচার করে এলাকায় ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয় বলে অভিযোগ পেয়েছেন। আনিসুরের মৃত্যুর সংবাদটি ঠিক নয়। শনিবার সকালে পাবনা সদর হাসপাতাল থেকে আহত আনিসুর ছাড়া পেয়েছেন বলে জানতে পেরেছেন।

স্বত্ব © ২০২৫ সংবাদ সাতদিন