| প্রতীকী ছবি |
নিজস্ব প্রতিবেদক: মতিয়া বিশ্বাস মিথি এইচএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণ করতে কলেজে যাবেন। তাই সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠেন। একই সিএনজিতে মায়ের কোলে ছিল দুই বছরের আবদুর রহমান। সঙ্গে অন্য যাত্রীরাও ছিলেন। হঠাৎ বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ডাম্প ট্রাকের চাকা ফেটে যায়। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রাকটি উঠে যায় সিএনজির ওপর। এতে অন্তত ৯ জন আহত হন। পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে মিথি ও রহমান মারা যান।
শনিবার বেলা দুইটার দিকে পাবনা-ঈশ্বরদী মহাসড়কের সদর উপজেলার মালিগাছা মণ্ডলের ঢাল নামক জায়গায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। পরে ক্ষুব্ধ লোকজন ডাম্প ট্রাকটি আটক করেন। একপর্যায়ে ট্রাক ভাঙচুরের চেষ্টা করলে পুলিশ তাঁদের নিয়ন্ত্রণ করে।
নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে মতিয়া বিশ্বাস মিথি (১৮) পাবনার চাটমোহর উপজেলার ডিবিগ্রাম ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মতিউর রহমানের মেয়ে ও পাবনা কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী। অন্যদিকে আবদুর রহমান জেলা সদরের চরঘোষপুর গ্রামের শরিফুল ইসলামের ছেলে।
কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, বেলা দুইটার দিকে যাত্রী নিয়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি চাটমোহরের দিকে যাচ্ছিল। এ সময় ঈশ্বরদীমুখী একটি ডাম্প ট্রাকের চাকা ফেটে যায়। এতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন চালক। একপর্যায়ে বিপরীত দিক থেকে আসা সিএনজিটির ওপর ট্রাক তুলে দেন তিনি। এ সময় পাশে থাকা ব্যাটারিচালিত ভ্যানও ধাক্কা খায়। এতে অন্তত ৯ জন আহত হন। স্থানীয় লোকজন তাঁদের উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করলে দুজনের মৃত্যু হয়।
নিহত মিথির বাবা মতিউর রহমান কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, মেয়েটি তাঁর বড় সন্তান। সকালে সে বান্ধবীদের সঙ্গে এইচএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের জন্য কলেজে যায়। এরপর তিনি মেয়ের মৃত্যুর সংবাদ শুনতে পান।
পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে। তবে ট্রাকের চালক ও সহকারী পালিয়ে গেছেন। নিহত ব্যক্তিদের লাশ উদ্ধার করে জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। তবে বিকেল পর্যন্ত কোনো অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
