অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার তৈরি এই টিকার নাম কোভিশিল্ড। বাংলাদেশে প্রথম এই টিকা এসেছিল ভারত থেকে। দেশটির সেরাম ইনস্টিটিউট এই টিকা উৎপাদন করছে। কিন্তু ভারতে সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার পর এই টিকা রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে বাংলাদেশে মজুত শেষ হয়ে গেলে কোভিশিল্ডের দ্বিতীয় ডোজ দিতে পারেননি অনেকে।
শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের দোতলায় করোনার টিকা দেওয়া হচ্ছে। সেখানে হাতের বাঁ দিকে জিমনেশিয়ামের সামনে মডার্নার টিকা এবং ফিজিওথেরাপি ঘরে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা দেওয়া হচ্ছে।
ধানমন্ডি থেকে অ্যাস্ট্রাজেনেকার দ্বিতীয় ডোজের টিকা নিতে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে আসেন ৫৫ বছর বয়সী হাসিনা আজিজ। তাঁর দ্বিতীয় ডোজের টিকা নেওয়ার তারিখ ছিল ১৭ এপ্রিল। তিনি জানান, ‘আমি অসুস্থ ছিলাম। আমার স্বামী করোনায় মারা যান। এসব কারণে দ্বিতীয় ডোজের টিকা নিতে পারিনি। টিকা পাব কি না, এ নিয়ে দুশ্চিন্তাও ছিল।’
সকাল নয়টা থেকে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা দেওয়া শুরু হয়। সকাল থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত ৪০ জনকে টিকার দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হয়। এখানে নারী বুথে টিকা দিচ্ছেন হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স মাহফুজা আক্তার। তিনি বলেন, দ্বিতীয় ডোজের টিকা নিতে আসাদের তেমন ভিড় নেই।
দ্বিতীয় ডোজের টিকা পাবেন কি না, এ নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন ৩৩ বছর বয়সী জিনিয়া ফেরদৌস। তিনি করোনার প্রথম ডোজের টিকা নেন ২৪ এপ্রিল। দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার তারিখ ছিল ২২ জুন। আজ তিনি টিকা নেন। তবে এরপরও সাবধানে আছেন জিনিয়া। তিনি বলেন, ‘আমরা জানি, টিকা দেওয়া মানেই শতভাগ সুরক্ষা, তা না। পাশাপাশি সবাইকে মাস্ক পরা, পারস্পরিক দূরত্বসহ সব স্বাস্থ্যবিধিও মানতে হবে।’
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ৭ আগস্ট থেকে সারা দেশে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া শুরু হবে। অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ৩১ জুলাই পর্যন্ত সারা দেশে অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার প্রথম নিয়েছেন ৫৮ লাখ ২০ হাজার ৩৩ জন। আর দ্বিতীয় ডোজের টিকা নিয়েছেন ৪২ লাখ ৯৮ হাজার ৮২ জন। অন্তত ১৫ লাখ ২১ হাজার ৯৫১ জন এত দিন দ্বিতীয় ডোজ নিতে পারেননি।

