এদিকে চলমান কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যে গতকাল সোমবার দ্বিতীয় দিনের মতো তৈরি পোশাক কারখানায় উৎপাদন চলেছে। পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর দাবি, কারখানা খোলার প্রথম দিন গত রোববার ৯০-৯৫ শতাংশ শ্রমিক উপস্থিত ছিলেন। গতকাল উপস্থিতি আরও বেড়েছে। তবে নিট পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএ বলেছে, তাদের সদস্য কারখানাগুলোতে গতকাল ৮০-৮৫ শতাংশ শ্রমিক উপস্থিত ছিল। তার আগের দিন সংখ্যাটি আরও কম ছিল।
বিকেএমইএর সহসভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ‘আমরা কারখানামালিকদের মজুরি কর্তন না করে অতিরিক্ত কাজ করে বিধিনিষেধের সময়ের ছুটি সমন্বয়ের পরামর্শ দিচ্ছি।’ তবে বিজিএমইএর সহসভাপতি শহিদউল্লাহ আজিম বলেন, ‘মালিকদের মতামত নিয়ে শিগগিরই আমরা এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব।’
পোশাকশিল্পের মালিকদের দাবি মেনে কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যেই রোববার থেকে কারখানা খোলার অনুমতি দেয় সরকার। গত শুক্রবার এ–সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারির পরদিন সকাল থেকে বিভিন্ন জেলা থেকে শিল্পাঞ্চলে ফিরতে শুরু করেন শ্রমিকেরা।
রপ্তানিমুখী শিল্পকারখানা চালুর অনুমতি দেওয়ার পর সাভার-আশুলিয়া, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ ও খুলনার অধিকাংশ কারখানাই চালু হয়েছে। শিল্প পুলিশের তথ্যানুযায়ী, এসব এলাকায় ৮ হাজার ২২৬টি কারখানার মধ্যে ৮১ শতাংশ উৎপাদন শুরু করেছে। যদিও বিধিনিষেধের আওতামুক্ত থাকায় কয়েকটি খাতের ৩০০-এর বেশি কারখানা গত সপ্তাহেও চালু ছিল।
১৪ দিনের কঠোর বিধিনেষেধের কথা জানার পর অধিকাংশ কারখানা ৪-৭ দিনের ঈদের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে। ঈদের পর কিছু কারখানা শ্রম আইনের ১২ (৮) ধারায় কারখানা বন্ধেরও নোটিশ দেয়। সেটি বাস্তবায়ন হলে ঈদের পর বিধিনিষেধের কারণে কারখানা বন্ধের দিনগুলোতে শ্রমিকেরা তাঁদের মূল মজুরির অর্ধেক পাবেন। তবে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, খাদ্যসহ অন্যান্য ভাতা কর্তন হবে না।
শ্রমিকনেতা বাবুল আখতার বলেন, কারখানা বন্ধের জন্য শ্রমিকেরা দায়ী নয়। ফলে মজুরি কর্তন কিংবা অতিরিক্ত কাজ করানোর মাধ্যমে বিধিনিষেধের কারণে কারখানার ছুটির দিনের উৎপাদন সমন্বয় করা কোনোভাবেই আইনসম্মত হবে না।

