![]() |
| দৃশ্যত হতাশ পরীমনিকে আদালতকক্ষে কাঁদতে দেখা যায়। ছবি: সংগৃহীত |
নিজস্ব প্রতিবেদন: দেশে চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্ট দেড় ডজনের মতো সংগঠন রয়েছে। এগুলোর মধ্যে প্রযোজক, পরিচালক ও শিল্পী সমিতিই বেশি সক্রিয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে চলচ্চিত্র অভিনেত্রী পরীমনি আটকের পর এসব সংগঠনের কাউকেই তাঁর পাশে দেখা যায়নি। উল্টো জরুরি বৈঠক করে এই ঢালিউড অভিনেত্রীর সদস্যপদ সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি।
চলচ্চিত্র সমালোচক এবং বরেণ্য চলচ্চিত্রকার ও অভিনয়শিল্পীদের মতে, যেখানে পরীমনির অপরাধই প্রমাণিত হয়নি, সেখানে সদস্যপদ স্থগিতের বিষয়টি রায়ের আগেই রায় দেওয়ার শামিল। তবে এটি মানতে নারাজ শিল্পীদের সংগঠন চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতি মিশা সওদাগর। তিনি বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরীমনিকে গ্রেপ্তারের পরই সদস্যপদ সাময়িক স্থগিত করেছি। তার আগপর্যন্ত আমরা কিছুই করিনি।’
মঙ্গলবার রাতে বরেণ্য অভিনেত্রী সুচন্দা বলেন, ‘শিল্পীর সংকটে শিল্পীদের পাশে থাকা উচিত। পরীমনির সঙ্গে পরিচয় না থাকলেও যতটুকু বুঝতে পেরেছি, সে ছিল অভিভাবকহীন। তার একটু কেয়ার দরকার ছিল, পরামর্শ দরকার ছিল। যারা তাকে বিপথে নিয়ে গেছে, তাদেরকেই খুঁজে বের করা উচিত। যেহেতু এখনো তার অপরাধ প্রমাণিত হয়নি, শুধু অভিযোগ এসেছে, তাই তার পাশে চলচ্চিত্র পরিবারের সবারই থাকা উচিত।’
পরীমনি বিষয়ে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সিদ্ধান্ত ন্যক্কারজনক মনে করেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত পরিচালক আবু সাইয়ীদ। তিনি বলেন, সদস্যপদ প্রত্যাহারের আগে সমিতির উচিত ছিল, এই সময়ে পাশে থাকা, তাঁর সঙ্গে দেখা করে কথা বলা। কোনো সহযোগিতা দরকার কি না, জানার চেষ্টা করা। সংগঠনের দায়িত্বই হচ্ছে তার সদস্যের যেকোনো সংকটে পাশে দাঁড়ানো।’
মঙ্গলবার দুপুরে ইলিয়াস কাঞ্চনের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে শুরুতেই জানালেন, চলচ্চিত্রের সাম্প্রতিক কোনো ইস্যুতে কথা বলতে চান না। চলচ্চিত্র প্রযোজক এবং প্রদর্শক সমিতির সাবেক সভাপতি ইফতেখার উদ্দিন নওশাদ বলেন, ‘কোনো সংগঠনের সদস্য যদি কোনো অভিযোগে অভিযুক্ত হন, চূড়ান্ত প্রমাণের আগে তাঁর সঙ্গে সেই সংগঠনের থাকা উচিত। শেষ পর্যন্ত লড়ে যাওয়া উচিত। আমরা সবাই একসঙ্গে নাই বলে, বিচ্ছিন্ন বলেই তো চলচ্চিত্রের আজ এই দুর্দশা।’
চলচ্চিত্র পরিবারের সদস্য হিসেবে চিত্রনায়িকা পরীমনির ব্যাপারে কী ভাবছে চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতি? এই প্রশ্ন করতেই সমিতির সভাপতি সোহানুর রহমান সোহান জানালেন, ‘পরীমনি যেহেতু শিল্পী সমিতির সদস্য, তার সংগঠনেরই উচিত ওর ব্যাপারে লড়া। এখানে আমাদের কিছু করার নেই।’ সোহান বললেন, ‘আমাদের যদি শিল্পী সমিতি থেকে আহ্বান করত, আমরাও যেতাম।’
পরীমনির ব্যাপারটি পুরোপুরি আইনি। তাই এই বিষয় নিয়ে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি কিছু ভাবছে না, মিশা সওদাগরের এমনটাই মত। তিনি বললেন, ‘পরীমনি নিজে অনেক ভালো মানের আইনজীবী রেখেছেন। লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে পরীমনির পক্ষে কেউ আইনি লড়াই না করলে আমরা অবশ্যই ভার নিতাম। নতুন করে দুই দিক থেকে লড়ার তো কিছু নেই।’
আপনারা পরীমনির সঙ্গে দেখা বা কথা বলার চেষ্টা করেছেন কি না, জানতে চাইলে মিশা বললেন, ‘তার পরিবারের কেউ আছে কি না, আমরা জানি না। এরপরও যে নাম্বার আছে, তাতে ফোন দিয়েছিলাম, রেসপন্স করেনি। তা ছাড়া সে কোথায় থাকে না থাকে, আমরা এ বিষয়েও অবগত না।’
পরীমনির পাশে দাঁড়ানোর কিছুই নেই, শিল্পী সমিতি যা করেছে, ঠিক করেছে বলে মনে করেন চলচ্চিত্রের জ্যেষ্ঠ অভিনয়শিল্পী সোহেল রানা। তিনি বললেন, ‘কেউ যদি ড্রাগস নিয়ে বাসায় চিত হয়ে পড়ে থাকে, তার পক্ষে দাঁড়ানোর কিছু নেই। তাকে তো অর্গানাইজেশন থেকে বের করে দেওয়া উচিত। এ খুবই ব্যাড কেস। আমাদের চলচ্চিত্রের মান-সম্মান, ইজ্জত, প্রতিপত্তি—সবকিছু ডেস্ট্রয় করে দিচ্ছে। এখানে সংগঠন লড়বে কেন? ব্যক্তি পরীমনিকে লড়তে হবে। এটা কোনো অবস্থায় (মিডিয়া) ট্রায়াল নয়। যারা এসব কথা বলে, তারা পরীমনির দোস্ত।’
পরীমনি গ্রেপ্তারে শিল্পীদের ভাবমূর্তি নষ্ট হওয়ার বিষয়টি যাঁরা সামনে আনছেন, তা মোটেও ঠিক নয় মনে করেন চলচ্চিত্র প্রযোজক সমিতির সদ্য সাবেক সভাপতি খোরশেদ আলম খসরু। তাঁর মতে, শিল্পীর ভাবমূর্তি এতই ঠুনকো, পরীমনির গ্রেপ্তারে নষ্ট হয়ে যাবে! তিনি জানালেন, একজন শিল্পীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠতে না উঠতেই সমষ্টিগতভাবে সবার নিজের ওপর টেনে আনাটা মোটেও উচিত নয়।
খসরু বলেন, পরীমনি মাত্র গ্রেপ্তার হয়েছেন, তাঁর মামলার তদন্ত চলছে। প্রমাণিত হলেই না হয় সাংগঠনিকভাবে শাস্তির ব্যবস্থা নিতে পারবেন। শিল্পী সমিতি যেখানে পাশে থাকবে, সেখানে এমন আচরণ মোটেও ঠিক হয়নি।
কথায় কথায় খসরু জানিয়ে দিলেন, ‘পরীমনি জামিনে বেরিয়ে এলেই আমরা শুটিংয়ের পরিকল্পনা করব।’

