![]() |
| একটি ঘরের ভেতর থেকে সেঁচে বের করা হচ্ছে ঢুকে পড়া বৃষ্টির পানি। ছবিটি আমবাগান এলাকা থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে তোলা। |
নিজস্ব প্রতিবেদন: আষাঢ়ের থেমে থেমে বর্ষনে ঈশ্বরদী শহরের অধিকাংশ নিচু এলাকা জলাবদ্ধাতার সৃষ্টি হয়েছে। অনেক এলাকার চলাচলের রাস্তা, বাড়ি ও সড়কে পানি উঠেছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছে ঈশ্বরদীবাসী।
আষাঢ়ের শুরু থেকে ঈশ্বরদীতে হালকা ও মাঝারি বৃষ্টি হচ্ছিল। কিন্তু বুধবার সকাল থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ১২ পর্যন্ত থেমে থেমে বর্ষণে শহরের নিচু এলাকা পানিতে ডুবে গেছে। জলাবদ্ধতার কারণে অনেকে ঘরে আটকা পড়েছে।
ঈশ্বরদী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের পর্যবেক্ষক নাজমুল হক জানান, বুধবার বেলা ১২টা থেকে বৃহস্পতিবার ১২টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ঈশ্বরদীতে ৩৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। আরও দুই-এক দিন এমন বৃষ্টিপাত হতে পারে।
বুধবার বেলা ১২টায় সরেজমিনে দেখা যায়, শহরের আমবাগান, ফতেমোহাম্মদপুর, হাসপাতালপাড়া, লোকোকলোনী, পিয়ারাখালী, রহমান কলোনী, দরিনারিচা, পশ্চিম টেংরী, বাবুপাড়া, রহিমপুর, শৈলপাড়া, স্কুলপাড়া, ভাটাপাড়া বিভিন্ন রাস্তায় ও নিচু এলাকার অধিকাংশ বাড়ি ঘরে পানি উপচে পড়ছে। জমে থাকা পানিতে বিভিন্ন জায়গার পরিত্যক্ত নোংরা পলিথিন ও ময়লা আবর্জনার স্তুপ আর কচুরিপানা ভাসছে। ঘরের ভেতরে পানি প্রবেশ করায় জলাবদ্ধতা থেমে মুক্তি পেতে বালতি বা মগ দিয়ে তা বের করে দেওয়া হচ্ছে।
আমবাগান এলাকার বাসিন্দা মনির আহম্মেদ বলেন, আমাদের বাড়ির ভেতরে বৃষ্টির পানি ধুকেছে, রাস্তাতে হাটু পানি এ কারণে বাড়ির সদস্যরা আজ বাইরে বের হতে পারেনি।
পশ্চিম টেংরি কদমতলা এলাকার বাসিন্দা শহিদ মণ্ডল জানান, সামান্য বৃষ্টিতে তাঁদের এলাকা তলিয়ে যায় এ সময় জলাবদ্ধতায় তাদের প্রচণ্ড দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
এদিকে বৃষ্টিতে শুধু বাড়িঘর বা রাস্তায় নয় এখানকার আমবাগান পুলিশ ফাঁড়ি পানিতে ডুবে গেছে। আমবাগান পুলিশ ফাঁড়ির তিনটি কক্ষে পালিতে সয়লাব। পালিতে পুলিশ সদস্যদের জামাকাপড় ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ভিজে গেছে।
ফাঁড়ির এক পুলিশ সদস্য নাম প্রকাশ না করার অনুরোধে বলেন, একটু বৃষ্টি হলেই পুলিশ ফাঁড়ির ভেতরে পানি জমে দূর্ভোগের সৃষ্টি হয়। খাটের উপর বসে থেকে কাজ করতে হয়। আবার জরুরি কাজে হাটুপানি ভেঙ্গে অভিযানে বের হতে হয়। এর মধ্য দুই দিনের বর্ষনে পুলিশ ফাঁড়ির পুরোটা পানিতে ডুবে গেছে।
শহরের ফতেমোহাম্মদপুর এলাকার বাসিন্দা আসলাম হোসেন বলেন, সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি তার এলাকার সব পুকুর বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে। এলাকার রাস্তাগুলো পানির নিচে।
ঈশ্বরদী পৌরসভার মেয়র ইছাহক আলী মালিথা বলেন, জলাবদ্ধতা দূর করার জন্য সকাল থেকে পৌরসভার কর্মীদের নিয়ে কাজ করছেন তিনি। এখানকার মোকারমপুর এলাকার নালার মুখ ময়লা আবর্জনায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শহরের পানি নিষ্কাশন হতে পারছে না। এজন্য মাঝারি বৃষ্টিতে শহরের কয়েকটি এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে।
তিনি বলেন, আগামী উন্নয়ন বাজাটে জলাবদ্ধতা দূর করার জন্য প্রয়োজনীয় সব উদ্যোগ গ্রহন করবেন।

