কঠোর বিধিনিষেধে চা–শিল্প চালু রাখতে চান উদ্যোক্তারা

মো. শাহ আলম, সভাপতি, বাংলাদেশীয় চা সংসদ
নিজস্ব প্রতিবেদন: ঈদের পর দুই সপ্তাহের কঠোর বিধিনিষেধে চা–কারখানা ও বাগান খোলা রাখতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন চা–বাগানের মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশীয় চা সংসদের সভাপতি মো. শাহ আলম। সঙ্গে আলাপকালে আজ রোববার এ আহ্বান জানান তিনি।

করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ সামলাতে ২৩ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট মধ্যরাত পর্যন্ত কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে গত মঙ্গলবার প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যে সব ধরনের শিল্পকারখানা বন্ধ থাকবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়। এরপরই এ আহ্বান জানান শাহ আলম।

শাহ আলম বলেন, চায়ের ভরা মৌসুম এখন। সরকার ঘোষিত ১৪ দিনের কঠোর বিধিনিষেধে চা–কারখানা বন্ধ রাখা হলে চা–পাতা তোলাও বন্ধ রাখতে হবে। কারণ, চা–পাতা তোলার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই প্রক্রিয়াজাত করতে হয়। আবার চা–গাছ থেকে প্রতি সপ্তাহে চা–পাতা তুলতে হয়। নাহলে গাছ বড় হয়ে উৎপাদনশীলতা কমে যায়। যদি একটানা ১৪ দিন বন্ধ রাখতে হয়, তাহলে নতুন করে পাতা চয়নের উপযোগী করে তুলতে দুই মাস লাগবে। এটা যেমন শ্রমিকের আয়ের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে, তেমনি উৎপাদনেও প্রভাব ফেলবে।

চা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, এ বছরের জানুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত দেশের ১৬৭টি চা–বাগানে উৎপাদিত হয়েছে ১ কোটি ২২ লাখ কেজি চা। ২০২০ সালের একই সময়ে উৎপাদিত হয়েছে ১ কোটি ২৮ লাখ কেজি চা। এর আগে ২০১৯ সালে একই সময়ে উৎপাদিত হয় ১ কোটি ৬২ লাখ কেজি। এ বছর শুরুতে খরা ও তীব্র দাবদাহ চায়ের উৎপাদনে প্রভাব ফেলেছে।

চা উৎপাদনের তথ্য জানিয়ে শাহ আলম বলেন, উৎপাদন কমে গেলে আমদানি করে চা দিয়ে চাহিদা পূরণ করতে হবে। তাতে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হবে।
বাংলাদেশীয় চা সংসদের তথ্য অনুযায়ী, চা–শিল্পে সরাসরি এক লাখ স্থায়ী শ্রমিক নিয়োজিত। অস্থায়ী শ্রমিক রয়েছেন ২৮ হাজারের বেশি। শাহ আলম  বলেন, এর আগে কঠোর বিধিনিষেধেও চা–বাগান খোলা রাখা হলেও চা–শিল্পে করোনা সংক্রমণ খুবই কম ছিল। কারণ, চা–শ্রমিকেরা প্রাকৃতিক পরিবেশে কার্যত সংরক্ষিত এলাকায় বাগান থেকে পাতা চয়ন করেন। পাতা চয়নের সময় সামাজিক দূরত্ব মানা হয়। আবার স্বাস্থ্যবিধিও কঠোরভাবে অনুসরণ করা হয়। সরকার চা–বাগানে টিকা কার্যক্রম চালু করেছে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিবের কাছে চিঠি দিয়ে কঠোর বিধিনিষেধে চা–শিল্প চালু রাখার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি। সংগঠনটির সভাপতি শাহ আলমের আশা, চা উৎপাদন অব্যাহত রাখার স্বার্থে সরকার চা–বাগান ও কারখানাগুলোকে কঠোর বিধিনিষেধের আওতার বাইরে রাখবে।

স্বত্ব © ২০২৬ সংবাদ সাতদিন