স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ চাইল বাংলাদেশ জাসদ

বাংলাদেশ জাসদ লোগো।
নিজস্ব প্রতিবেদন: করোনা সংকট মোকাবিলায় ব্যর্থতার জন্য স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের শরিক বাংলাদেশ জাসদ। একই সঙ্গে করোনা মোকাবিলায় অবিলম্বে জাতীয় কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছে দলটি। গত শুক্র ও শনিবার কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটির এক সভার সিদ্ধান্ত হিসেবে এসব দাবির কথা জানানো হয়।

বাংলাদেশ জাসদের সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়ার সভাপতিত্বে ভার্চ্যুয়াল এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। দলের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধানসহ স্থায়ী কমিটি ও কার্যকরী কমিটির নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় করোনা মহামারি ও নারায়ণগঞ্জে কারখানায় আগুনে মৃত্যুবরণকারীদের স্মরণে শোকপ্রস্তাব আনা হয়।

দলটির পক্ষ থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে সভার সিদ্ধান্ত জানানো হয়। বাংলাদেশ জাসদ বলছে, দেশে ব্যাপক করোনার সংক্রমণ, অক্সিজেন সংকটের আশঙ্কা, স্বাস্থ্য খাতে লোকবলের অভাব, টিকা আমদানিতে কূটনৈতিক ব্যর্থতা বিপজ্জনক শঙ্কার জন্ম দিয়েছে। করোনা সংকট মোকাবিলায় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর অযোগ্যতার বিষয়টিও নগ্ন হয়ে উঠেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের জনবিচ্ছিন্ন ও আমলা নির্ভর কৌশল জনগণকে স্বাস্থ্যবিধি মানতে উদ্বুদ্ধ করতে ব্যর্থ হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক এই মহামারি মোকাবিলায় একটি জাতীয় কমিটি গঠন করতে হবে। স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে।

শিক্ষার মান ধরে রাখার লক্ষ্যে কোনোক্রমেই অটো পাশ নীতি বিবেচনায় নেওয়া উচিত নয় বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ জাসদ। অবিলম্বে প্রান্তিক শিক্ষার্থীদের টিকার আওতায় এনে স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষা কার্যক্রম চালুর দাবি জানিয়েছে দলটি।

বাংলাদেশ জাসদ বলছে, মহামারির সময়েও দেশে দৃশ্যমান দুর্নীতি অব্যাহত আছে। সরকার দেশ শাসনে জনবিচ্ছিন্ন রাজনীতির চক্রে বাধা পড়েছে। আমলা ও লুটেরাদের দুর্বৃত্তদের দৌরাত্ম্য নগ্ন হয়ে পড়েছে। স্বাধীনতা বিরোধী ও জঙ্গি-সন্ত্রাসী চক্রের ষড়যন্ত্র অবসানের লক্ষ্যে ১৪ দল গঠিত হয়েছিল। কিন্তু এই জোটের রাজনীতি এখন ব্যক্তি, গোষ্ঠী, আমলা ও লুটেরা দুর্বৃত্তদের স্বার্থে ব্যবহার হচ্ছে। অপর দিকে বিএনপির শাসনামলের অভিজ্ঞতা ও স্বাধীনতা বিরোধী জামায়াতের সঙ্গে তাদের সখ্য রাজনীতিতে নতুন কোনো আবহ তৈরি করতে পারেনি। ২০১৮ সালের তথাকথিত জাতীয় নির্বাচনের পর পরিস্থিতি দিনকে দিন খারাপ হচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, চেতনা ও গণতান্ত্রিক ভারসাম্যের যা কিছু অবশিষ্ট ছিল তা নস্যাৎ হয়েছে।

বাংলাদেশ জাসদ মনে করে, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংকুচিত ও এক কেন্দ্রিক করার প্রয়াসও অব্যাহত আছে। হেফাজতে ইসলামের সঙ্গে সরকারের নির্লজ্জ আপস নীতি এবং জামায়াতে ইসলামীকে কার্যকর রেখে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিসর্জন দেওয়া হয়েছে। শুধু ক্ষমতা রক্ষায় আবারও একটি অবাঞ্ছিত নির্বাচন করার পাঁয়তারা চলছে বলে মনে সন্দেহ করার যুক্তিসংগত কারণ আছে। এই পরিস্থিতিতে দলটি জনগণের অংশগ্রহণমূলক জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠান এবং রাজনীতিতে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে দলটি।

তাহসিন সরকার বাঁধন/জেএইচ/এমএস

স্বত্ব © ২০২৫ সংবাদ সাতদিন