বাড়তি সতর্কতার বিকল্প নেই

ডেঙ্গু মশা।ফাইল ছবি।
 
নিজেস্ব প্রতিবেদন: দুই বছর আগের এই সময়টাতে রাজধানীতে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার ও মৃত্যুর খবর ছিল অনেক। গত বছর ডেঙ্গুর প্রকোপ তুলনামূলক কম ছিল। তবে এ বছর করোনার উচ্চ সংক্রমণের সময়ে এসেছে ডেঙ্গু আক্রান্তের খবর। চিকিৎসকেরা এই সময়টাতে বাড়তি সতর্কতা মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন।

কোভিড-১৯ বিষয়ক জাতীয় সমন্বয় কমিটির উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ বলেছেন, এখন ডেঙ্গুর মৌসুম। এ সময়টাতে বাংলাদেশে বৃষ্টি হয় এবং বিভিন্ন জায়গায় পানি জমে থাকে। সেখানে এডিস মশা ডিম পাড়ে ও বংশবিস্তার করে। এডিস মশার কামড়েই ডেঙ্গু হয়।

এ সময়টাতে বিশেষ সতর্কতা হিসেবে কোথাও যেন পানি না জমে, সেদিকে নজর দিতে বলেন এ বি এম আবদুল্লাহ। তিনি বলেন, নিজের ঘরের দায়িত্ব নিজের নিতে হবে। মশার কামড় থেকে নিজেদের নিরাপদ রাখতে হবে। বাচ্চাদের ক্ষেত্রে বিশেষ খেয়াল রাখা দরকার। ফুল প্যান্ট ও ফুল হাতার জামা পরানো এবং তাদের মশারির মধ্যে ঘুমাতে দিতে হবে।

ডেঙ্গুর চিকিৎসা নিয়ে অধ্যাপক আবদুল্লাহ বলেন, জ্বর উঠলে নিজ থেকে প্যারাসিটমলের বাইরে কিছু সেবন করা যাবে না। প্রচুর পানি, শরবত খেতে হবে। জ্বর হলে তিন থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে রক্ত পরীক্ষা করতে হবে। রক্তের প্লাটিলেট কমলে ভয় থাকে। ডেঙ্গু হলে কারও কারও গায়ে র‌্যাশ ওঠে, রক্তক্ষরণও হয় অনেকের। মেয়েদের অসময়ে পিরিয়ডও হতে পারে। এ রকম দেখা দিলেই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

অধ্যাপক আবদুল্লাহ বলেন, কারও যদি একই সঙ্গে করোনা ও ডেঙ্গু্—দুটিই ধরা পড়ে, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগনিয়ন্ত্রণ শাখার সাবেক পরিচালক বে–নজির আহমেদ এডিস মশার বংশবিস্তার রোধের ওপর জোর দেওয়ার কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘এডিস মশার বংশবিস্তারের জায়গা খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের মতো অপরিকল্পিত নগরায়ণে এডিস মশার বংশবিস্তারের জায়গার অভাব নেই। নানা রকমের পাত্রের ব্যবহারও হচ্ছে এখন।’

বে–নজির আহমেদ বলেন, ডেঙ্গু এখন বাড়ছে কি না এবং কী পরিস্থিতি, সে তথ্য সরকারের রোগনিয়ন্ত্রণ শাখা সিটি করপোরেশনকে জানাবে। এলাকাগুলোতে জরিপ করতে হবে। তাতে যদি বেরিয়ে আসে কোন এলাকা ঝুঁকিপূর্ণ, সে অনুযায়ী সিটি করপোরেশন ব্যবস্থা নেবে। পানি জমে থাকলে তা নিষ্কাশন, লার্ভা পাওয়া গেলে ধ্বংস করা এবং পূর্ণাঙ্গ মশা ফগিংয়ের মাধ্যমে মেরে ফেলতে হবে। এই সব কটি ব্যবস্থা নিয়ে যদি এডিস মশার ঘনত্ব কমিয়ে ফেলা যায়, তাহলে যে এলাকায় সংক্রমণ বেড়ে যায়, সেখানে প্রবণতা কমে আসবে।

তবে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে জনগণকে সম্পৃক্ত করার কথা উল্লেখ করে এই সংক্রমণ রোগ বিশেষজ্ঞ বলেন, স্থানীয় কাউন্সিলরের উদ্যোগে বিভিন্ন ভবনের কমিটি বা পাড়াভিত্তিক যেসব সোসাইটি থাকে, তাদের যুক্ত করতে হবে। তারা নিজ নিজ ভবন বা এলাকায় পানি জমে থাকা স্থান বা কনটেইনারের পানি সরিয়ে ফেলবে। নির্মাণাধীন ভবনেও তারা খেয়াল রাখবে। এই কাজগুলো করলে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব।

তাহসিন সরকার বাঁধন/জেএইচ/এমএস

স্বত্ব © ২০২৫ সংবাদ সাতদিন