আড়াইহাজারের পর বন্দরে আরও একটি বাড়ি থেকে বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার

বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করে সিটিটিসি। ছবি সংগৃহিত।
নিজস্ব প্রতিবেদন: নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে অভিযানের পর বন্দর ধামঘর কাজী পাড়া এলাকার একটি বাড়ি থেকে আরও কিছু বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার রাতে প্রায় আট ঘণ্টার অভিযান শেষে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট এসব সরঞ্জাম উদ্ধার করেন। রাত সাড়ে তিনটায় সিটিটিসি প্রধান আসাদুজ্জামান সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান।

কাজী পাড়ার বাড়িটিতে ওই এলাকার এক মসজিদের ইমাম বসবাস করতেন। তাঁর নাম মো. নাঈম। সাংগঠনিক ভাবে তিনি মেজর ওসামা নামে পরিচিত। নাঈম নব্য জেএমবির সামরিক সদস্য এবং বোমা তৈরির প্রশিক্ষক বলে সিটিটিসি জানিয়েছে।

আসাদুজ্জামান বলেন, রোববার বিকেলে ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে নাঈমকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বন্দরের ওই বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। তার আগে রাজধানীর মিরপুর থেকে গ্রেপ্তার তিন জঙ্গির মধ্যে সামসি বারিকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী নাঈমকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে সিটিটিসি প্রধান জানিয়েছেন। তিনি আরও জানান, নাঈম এই বাড়িটিতে সপরিবারে বসবাস করতেন। সম্প্রতি পরিবারের সদস্যদের গ্রামে পাঠিয়ে দিয়ে এই বাড়িটিতে তিনি একাই বোমা তৈরি করছিলেন।

এর আগে রাত বারোটায় আড়াইহাজারের নোয়াগাঁও মিয়াবাড়ি জামে মসজিদের মুয়াজ্জিনের কক্ষ থেকে তিনটি ইম্প্রোভাইজ এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) উদ্ধার করে বিস্ফোরণ ঘটায়। এ সময় ওই মুয়াজ্জিনের কক্ষ থেকে আরও বেশ কিছু বোমা তৈরির সরঞ্জামও উদ্ধার করে সিটিটিসি।

সিটিটিসির অতিরিক্ত উপকমিশনার আহমেদুল ইসলাম  বলেন, গত ১৭ মে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকায় ট্রাফিক পুলিশ বক্সের সামনে প্লাস্টিকের ব্যাগের ভেতর থেকে একটি শক্তিশালী বোমা উদ্ধার করা হয়। ওই ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে রোববার বিকেলে আড়াইহাজারের মিয়াবাড়ি জামে মসজিদের মুয়াজ্জিন আবদুল্লাহ আল মামুনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা যায়, বোমাটি আড়াইহাজারের এ বাড়িতে তৈরি করা হয়েছিল।

সিটিটিসির বোমা উদ্ধার ও নিষ্ক্রিয়করণ টিমের অতিরিক্ত উপকমিশনার এ কে এম রহমতউল্লাহ চৌধুরী  বলেন, আবদুল্লাহ আল মামুন প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন, তিনি নব্য জেএমবির সক্রিয় সদস্য।

তাহসিন সরকার বাঁধন/জেএইচ/এমএস

স্বত্ব © ২০২৫ সংবাদ সাতদিন