করোনায় আরও ২২৬ মৃত্যু, শনাক্ত ১২ হাজারের বেশি

লাশ দাফন করা হচ্ছে ফাইল ছবি।
নিজস্ব প্রতিবেদন: দেশে করোনায় আক্রান্ত হয়ে আরও ২২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় (গতকাল বুধবার সকাল আটটা থেকে আজ বৃহস্পতিবার সকাল আটটা পর্যন্ত) নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছেন ১২ হাজার ২৩৬ জন। আগের দিনের তুলনায় করোনায় মৃত্যু বাড়লেও পরীক্ষার বিপরীতে রোগী শনাক্তের হার কমেছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৪ হাজার ৯৪১ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার বিপরীতে রোগী শনাক্তের হার ২৭ দশমিক ২৩ শতাংশ। সর্বশেষ ১১ দিনের মধ্যে শনাক্তের এই হার সর্বনিম্ন।

প্রতি ২৪ ঘণ্টায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য

৯ জুলাই
212
১০ জুলাই
185
১১ জুলাই
230
১২ জুলাই
220
১৩ জুলাই
203
১৪ জুলাই
210
১৫ জুলাই
226
 

আজ বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। এর আগের ২৪ ঘণ্টায় রোগী শনাক্ত হয়েছিলেন ১২ হাজার ৩৮৩ জন। ওই সময় মৃত্যু হয়েছিল ২১০ জনের। রোগী শনাক্তের হার ছিল ২৯ দশমিক ১৪ শতাংশ।

সব মিলিয়ে দেশে এ পর্যন্ত করোনা সংক্রমিত শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০ লাখ ৭১ হাজার ৭৭৪। মোট মৃত্যু হয়েছে ১৭ হাজার ২৭৮ জনের।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ৯ লাখ ৫ হাজার ৮০৭ জন। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ৮ হাজার ৩৯৫ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি ৭৪ জনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। খুলনা বিভাগে মৃত্যু হয়েছে ৫২ জনের। চট্টগ্রাম বিভাগে মারা গেছেন ৪২ জন, রাজশাহীতে ২৪ জন এবং রংপুর বিভাগে ১৩ জনের। বাকিরা অন্যান্য বিভাগের।

২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের উহানে প্রথম নতুন করোনাভাইরাস সংক্রমণ দেখা দেয়। কয়েক মাসের মধ্যে এই ভাইরাস বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। বাংলাদেশে প্রথম করোনা সংক্রমণ শনাক্ত হয় গত বছরের ৮ মার্চ। এরপর বিভিন্ন সময়ে সংক্রমণ কমবেশি হলেও মাসখানেকের বেশি সময় ধরে দেশে করোনা পরিস্থিতি উদ্বেগজনক অবস্থায় পৌঁছেছে। দেশে করোনার ডেলটা ধরনের দাপটে দৈনিক সংক্রমণ এবং করোনায় মৃত্যু কয়েক গুণ বেড়েছে।

প্রতি ২৪ ঘণ্টায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য

৯ জুলাই
11,324
১০ জুলাই
8,772
১১ জুলাই
11,874
১২ জুলাই
13,786
১৩ জুলাই
12,198
১৪ জুলাই
12,383
১৫ জুলাই
12,236
সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনতে ১ জুলাই থেকে দেশে সর্বাত্মক লকডাউন চলছে। সব ধরনের অফিসের পাশাপাশি গণপরিবহনও চলাচল বন্ধ রয়েছে। ২১ জুলাই ঈদুল আজহা উপলক্ষে এই বিধিনিষেধ আট দিনের জন্য শিথিল করা হয়েছে।

তবে এমন এক সময়ে এই বিধিনিষেধ শিথিল করা হয়েছে, যখন দেশে দৈনিক সংক্রমণ ও মৃত্যুতে নতুন নতুন রেকর্ড হচ্ছে। সংক্রমণের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় বর্তমানে বিশ্বে সবচেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত হচ্ছে যেসব দেশে, সেই তালিকায় গতকাল দ্বাদশ অবস্থানে ছিল বাংলাদেশ (১৪ জুলাই পর্যন্ত হালনাগাদ)। করোনায় মৃত্যুর দিক দিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান দশম স্থানে। বিশ্বজুড়ে দৈনিক করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যু বিবেচনায় নিয়ে এই তালিকা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

সংক্রমণের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় বর্তমানে বিশ্বে সবচেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত হচ্ছে যেসব দেশে, সেই তালিকায় অষ্টম অবস্থানে চলে এসেছে বাংলাদেশ। করোনায় দৈনিক মৃত্যুর দিক দিয়েও বাংলাদেশ এখন এই অবস্থানে। বিশ্বজুড়ে দৈনিক করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যু বিবেচনায় নিয়ে এই তালিকা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গতকাল বুধবার পর্যন্ত বিশ্বে করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে ১৮ কোটি ৭৫ লাখ ১৯ হাজার ৭৯৮ জন। আর মৃত্যু হয়েছে ৪০ লাখ ৪৯ হাজার ৩৭২ জনের।

এখন পর্যন্ত সবচেয়ে রোগী শনাক্ত ও মৃত্যু হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। মৃত্যুর তালিকায় ব্রাজিল দ্বিতীয় অবস্থানে থাকলেও শনাক্তের দিক দিয়ে দেশটির অবস্থান তৃতীয়এবং তারপরে রয়েছে ভারত।

বুধবার দেওয়া তথ্যে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে ভারতে। দেশটিতে রোগী শনাক্ত হয়েছে ৩৮ হাজার ৭৯২ জন, আর এ সময় মৃত্যু হয়েছে ৬২৬ জনের। একই সময়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রোগী শনাক্ত হয়েছে যুক্তরাজ্যে, ৩৬ হাজার ২১৬ জন। শনাক্তের দিক দিয়ে তৃতীয় অবস্থানে উঠে এসেছে রাশিয়া। সবশেষ তথ্য অনুযায়ী দেশটিতে ২৩ হাজার ৮২৭ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে।

অপরদিকে মৃত্যুর তালিকায় প্রথম অবস্থানে উঠে এসেছে রাশিয়া, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী (বুধবার পর্যন্ত হালনাগাদ) দেশটিতে ৭৮৬ জন করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। অপরদিকে ব্রাজিলে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মৃত্যু হয়েছে ৭৪৫ জনের। একই সময়ে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ৬৩৩ মারা যাওয়া দক্ষিণ আফ্রিকা রয়েছে তৃতীয় অবস্থানে।

তাহসিন সরকার বাঁধন/জেএইচ/এমএস
স্বত্ব © ২০২৫ সংবাদ সাতদিন