![]() |
| ফাইল ছবি |
নিজস্ব প্রতিবেদন: উত্তরাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ অরনকোলা পশুর হাট ঈশ্বরদী উপজেলায়। হাটটির ইজারামূল্য বছরে প্রায় দেড় কোটি টাকা। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের আগে প্রতি হাটে গরু-মহিষ দিয়ে তিন হাজারেরও বেশি পশু কেনাবেচা হতো। কিন্তু এখন বিক্রি হচ্ছে ২৫০-৩০০টি। হাটে ক্রেতাদের আনাগোনা নিতান্তই কম। এ পরিস্থিতিতে অরনকোলা হাটের ইজারাদারসহ এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকশ’ মানুষ এবং খামারিরা সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েছেন। বিশেষ করে ইজারাদাররা ভয়ানক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
মহামারি করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঝুঁকির মধ্যে তিন মাস বন্ধ থাকার পর সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করে পশুর হাট খোলা রাখলেও ক্রেতা বিক্রেতার অভাবে এখন লগ্নির টাকা কীভাবে পাবেন—এই চিন্তায় দিশেহারা ইজারাদাররা। এই পরিস্থিতিতে ক্ষতি পুষিয়ে নিতে হাটের ইজারা মূল্য কমিয়ে আনতে সরকারের কাছে দাবী জানিয়েছেন ইজারাদার ও খামারিরা।
অরনকোলা পশু হাটটির পরিচালক মিজানুর রহমান রুনু মন্ডল বলেন, ‘দেড় কোটি টাকার বিনিময়ে হাটটি ইজারা নেওয়া হয়েছে। প্রতি হাটে খরচ ৫০ হাজার টাকা ধরে সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা আদায় হলে বছর শেষে হাট ডাকের মূল তোলা সম্ভব ছিল। কিন্তু গেল দুই সপ্তাহে হাটে উঠেছে যথাক্রমে ৩৮ হাজার ও ৫৯ হাজার টাকা। এভাবে টাকা পেলে ইজারার টাকাই উঠবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘২০ বছর ধরে গরুর হাট চালাচ্ছি। এরকম অবস্থায় কখনও পড়িনি। দুই ঈদের আগে একমাস ধরে হাটে সর্বোচ্চ বেচাকেনা হয়। একটা ঈদ গেলো, করোনায় তখন হাট বন্ধ ছিল। আর এখন হাটে ক্রেতা-বিক্রেতা কম। এ অবস্থা চলতে থাকলে মরণ ছাড়া গতি নেই।’
রোববার ও বুধবার দু’দিন আওতাপাড়া হাট বসে। যে হাটে জমজমাট পশু কেনাবেচা হতো, সেই হাটটি করোনার থাবায় এখন প্রায় পশুশূন্য। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পাইকাররা এসে এই হাট থেকে গরু কিনে নিয়ে যান।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, করোনায় হাট বন্ধ ছিল, তাই পশু হাটের সঙ্গে জীবিকা নির্ভরশীল কয়েক হাজার মানুষ পুরোপুরি কর্মহীন হয়ে পড়েন। ইদানীং হাট চালু করা হলেও ক্রেতা বিক্রেতার অভাবে হাট জমজমাট হচ্ছে না।
পশুর হাটে কথা হয় ঢাকার বেপারি আওয়াল ও আবু তাহেরের সঙ্গে। আওয়াল প্রতি হাটে অন্তত পাঁচ ট্রাক গরু কিনলেও গত মঙ্গলবার তিনি মাত্র এক ট্রাক গরু কিনেছেন বলে জানান। করোনার কারণে এবার বিভিন্ন এলাকায় পশুর চাহিদা কম। দামও তুলনামূলক অনেক কম। তবে পরিবহন খরচটা আগের চেয়ে বেশি।
অপর ব্যবসায়ী আবু তাহের বলেন, ‘ব্যবসায় এখন ভাটা চলছে। গরু কিনে হাটে নিয়ে বিক্রি করতে না পারলে পুঁজি হারাতে হবে, তাই সাহস করে গরু কিনতে পারছি না।’
আওতাপাড়া হাট ইজারা কমিটির অন্যতম পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার এমলাক হোসেন বাবু বিশ্বাস বলেন, ‘ব্যবসায়ীরা সব ধরনের নিরাপত্তা পায় বলেই হাটটি এত জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এলাকার কয়েক হাজার উপকারভোগী হাটের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত। ব্যবসায়ীদের থাকা-খাওয়াসহ নিরাপত্তা, পশুখাদ্য সরবরাহ, ট্রাক বন্দোবস্ত ও হাটের শৃঙ্খলা রক্ষার কাজে জড়িয়ে থাকার মাধ্যমে এদের রুটি-রুজির ব্যবস্থা হয়। কিন্তু তিন মাস তারা কর্মহীন। মানবেতর জীবনযাপন করছেন।’
হাটের শুরু হয় বৈশাখ মাসে আর শেষ হয় চৈত্র মাসে। প্রতি বছর ১০০টি হাট পাওয়া যায়। বৈশাখ, জ্যৈষ্ঠ ও আষাঢ় তিনটি মাস শেষ হচ্ছে। আয় হয়েছে পাঁচ লাখ টাকা। সপ্তাহে ১০ লাখ টাকা আয় হলে তবে আসল টাকা তোলা সম্ভব। করোনার কারণে মোটা অঙ্কের টাকা বিনিয়োগ করে এখন সবাই দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। সরকারি সহযোগিতা না পেলে হাটের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের পথে বসতে হবে।
এ বিষয়ে ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পিএম ইমরুল কায়েস বলেন, ‘ইজারাদারদের ক্ষতি হচ্ছে সেটা তো আমরাও বুঝতে পারছি। তবে পর্যায় ক্রমে আর্থিক ক্ষতিগ্রস্ত সব সেক্টরের পাশে দাঁড়াবে সরকার।’

