![]() |
| ঈশ্বরদীতে ঘর হস্তান্তর অনুষ্ঠান। |
নিজস্ব প্রতিবেদন: আশ্রয়ণের অধিকার, শেখ হাসিনার উপহার- এই স্লোগানে ঈশ্বরদী উপজেলার ৫০ দরিদ্র গৃহহীন পরিবার পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপহার।
আজ রোববার সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দরিদ্র-আশ্রয়হীন পরিবারের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘরের চাবি ও দলিল তুলে দেওয়ার নির্দেশ দেন কর্মকর্তাদের।
পরে ঈশ্বরদী উপজেলার হল রুমে দরিদ্র গৃহহীন পরিবারের মধ্যে ঘরের চাবি ও দলিল তুলে দেন কর্মকর্তারা।
এ সময় উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা নায়েব আলী বিশ্বাস, পাবনা জেলা প্রশাসক কবীর মাহমুদ, পুলিশ সুপার মুহিবুল ইসলাম খান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আফরোজা আক্তার, ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পি এম ইমরুল কায়েস, ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফিরোজ কবির, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান আসাদ ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা তৌহিদুল ইসলামসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
একসঙ্গে এত মানুষকে বিনামূল্যে বাড়ি-ঘর দেওয়ার ঘটনা পৃথিবীতে নজিরবিহীন মন্তব্য করে পাবনা জেলা প্রশাসক কবীর মাহমুদ বলেন, বিভিন্ন দেশে ভূমিহীন, গৃহহীনদের ঘর-বাড়ি নির্মাণের জন্য সুদবিহীন ঋণ দেওয়ার নজির থাকলেও ভূমিহীন-গৃহহীনদের ডেকে এনে বিনামূল্যে তাদের বাড়ি-ঘর দেওয়ার নজির আর নেই।
অসহায় মানুষকে এভাবে ঘর দেওয়াকে ‘অর্ন্তভুক্তিমূলক উন্নয়নে শেখ হাসিনা মডেল’ মন্তব্য করে তিনি বলেন, বিশ্বে এটা নতুন মডেল, আগে কখনো কেউ এটা ভাবেনি।
এদিকে শাহিনূর বেগম নামে একজন উপকারভোগী বলেন, ‘আমার জায়গা জমি ছিল না। পরের বাড়িতে কাজ আর ভাড়া বাড়িতে থাকতাম। অনেক কষ্ট করেছি। এখন মা হাসিনা জায়গা দিয়েছেন। ঘর দিয়েছেন। আমি তাতে অনেক খুশি। তার জন্য নামাজ পড়ে মোনাজাত করবো। আমাদের মতো গরিবদের পাশে যেন তিনি সারাজীবন থাকতে পারেন। আমাদের চোখের পানি যেন মুছে যায়।’
কানু উদ্দীন নামে একজন ভ্যানচালক বলেন, ‘সংসারে পাঁচজন লোক। মাঠেঘাটে কাজ করে সংসার চালাই। আমার কোনও জমি নেই। প্রধানমন্ত্রী জমি দিছেন, ঘর দিছেন। এগুলো পেয়ে আমি খুব খুশি। বিনামূল্যে জমি-ঘর পাবো কোনোদিন ভাবিনি।’
জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ থেকে গৃহহীনদের জন্য ঈশ্বরদী উপজেলার মুলাডুলি ২২,সাঁড়া ১১ট, দাশুড়িয়া ইউনিয়নে ৩টি ও পৌরসভায় ১৪টি পরিবারকে দুই শতক করে খাস জমি বন্দোবস্ত ও ঘর বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রত্যেকটি বাড়ি নির্মাণে ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা ব্যয় হয়। কোনো ঠিকাদার ছাড়া স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে বাড়িগুলো নির্মাণ করে।
এর আগে জানুয়ারি মাসে প্রথম পর্যায়ে উপজেলার ৫০টি গৃহহীন পরিবারকে দুই শতক করে খাস জমি বন্দোবস্তসহ বাড়ি বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

