পাবনায় অটোচালক খুন: সম্পর্কের সন্দেহ থেকে হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা

অটোচালক সেলিম মিয়া হত্যাকাণ্ড নিয়ে প্রেস ব্রিফিং। পুলিশ সুপারের কার্যালয়, পাবনা, ১৫ জুন ।

নিজস্ব প্রতিবেদক: পাবনার সাঁথিয়ায় অটোরিকশাচালক সেলিম মিয়াকে (২৮) হত্যা ও তাঁর গাড়ি ছিনতাইয়ের রহস্য উদ্‌ঘাটনের কথা বলছে পুলিশ। তাঁদের ভাষ্য, একজনের স্ত্রীর সঙ্গে সেলিমের সম্পর্কের সন্দেহ থেকে এ খুনের পরিকল্পনা হয়। পরে আর্থিকভাবে লাভবান হতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাটি ছিনতাই করে বিক্রি করেন খুনের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিরা।

আজ মঙ্গলবার সকালে নিজ কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিং করে এ কথা বলেন পাবনার পুলিশ সুপার মহিবুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, খুনের ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া পাঁচজন জিজ্ঞাসাবাদে এসব কথা স্বীকার করেছেন।

ওই পাঁচজন হলেন সাঁথিয়া উপজেলার ছোন্দহ গ্রামের রাসেল হোসেন (২২) এবং বহাল বাড়িয়া পূর্বপাড়া গ্রামের রানা শেখ (৩১), শীলা খাতুন (২১), হোসেন আলী (১৮) ও দেলোয়ার হোসেন (৩৮)। তবে পুলিশ বলছে, হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী আল-আমীন (৩০)। তিনি শীলা খাতুনের স্বামী। এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে আল-আমীন।

পুলিশ সুপার মহিবুল ইসলাম খান বলেন, নিহত সেলিম মিয়া ও গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা পূর্বপরিচিত। গ্রেপ্তার হওয়া শীলা খাতুনের বাড়িতে যাতায়াত ছিল উপজেলার গোসাইপাড়া গ্রামের বাসিন্দা সেলিম মিয়ার। এ থেকে শীলার সঙ্গে সেলিমের সম্পর্ক রয়েছে বলে সন্দেহ করতে শুরু করেন তাঁর স্বামী আল-আমীন। একপর্যায়ে শীলা স্বামীকে বলেন, সেলিম তাঁকে বিভিন্ন সময়ে উত্যক্ত করেছেন। এ কথা জানার পর গ্রেপ্তার হওয়া অন্যদের নিয়ে সেলিমকে খুনের পরিকল্পনা করেন তিনি। পরিকল্পনা অনুযায়ী, তাঁরা ৯ জুন বিকেলে সেলিম মিয়ার অটোরিকশাটি বেড়ানোর কথা বলে ভাড়া নেন। উপজেলার ক্ষেতুপাড়া ইউনিয়নের কালুকাটা গ্রামের একটি নির্জন মাঠে যান। সেখানে সেলিম মিয়াসহ সবাই মিলে গাঁজা সেবন করেন। নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়লে রাত নয়টার দিকে সেলিমকে পিটিয়ে ও পায়ের রগ কেটে হত্যা করেন গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা। পরে তাঁরা সেলিমের অটোরিকশাটি ৩১ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি করে দেন। সেই টাকা ভাগাভাগি করে নেন সবাই।

১০ জুন সকালে কালুকাটা গ্রামের ওই মাঠ থেকে সেলিমের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় তাঁর বাবা তোফাজ্জল হোসেন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন।

পুলিশ বলছে, ঘটনার পর পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মাসুদ আলম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বেড়া সার্কেল) জিল্লুর রহমান ও সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসিফ মোহাম্মদ সিদ্দিকুল ইসলামকে নিয়ে একটি দল গঠন করা হয়। পুলিশ সুপারের নির্দেশনা অনুযায়ী দলটির সদস্যরা তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রথমে ঢাকার ধামরাই থেকে রাসেল হোসেন ও রানা শেখকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাঁদের দেওয়া তথ্যর ভিত্তিতে অন্যদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁরা পাবনার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে খুনের ঘটনার বিস্তারিত তথ্য দিয়েছেন।

পুলিশ সুপার মহিবুল ইসলাম খান বলেন, হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী আল-আমীন। তিনি ঘটনার পর থেকে গা ঢাকা দিয়ে আছেন। তাঁকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

স্বত্ব © ২০২৬ সংবাদ সাতদিন