সৌদির সঙ্গে মিল রেখে দেশের কয়েকটি এলাকায় আজ ঈদ

সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে আজ বৃহস্পতিবার চাঁদপুরের ৩৫ গ্রামে ঈদুল ফিতর উদ্‌যাপিত হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদন:  সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে আজ বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও জামালপুরের অনেক এলাকায় পবিত্র ঈদুল ফিতর উদ্‌যাপিত হচ্ছে।

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার দুটি গ্রামসহ সাতকানিয়া, চন্দনাইশ, বাঁশখালী, পটিয়া, বোয়ালখালী, হাটহাজারী, রাউজান ও ফটিকছড়ির অর্ধশতাধিক গ্রামে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদ্‌যাপিত হচ্ছে। সাতকানিয়া উপজেলার মির্জাখীল দরবার শরিফের অনুসারীরা সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ পালন করেন। আনোয়ারা উপজেলার বরুমচড়া ও তৈলারদ্বীপ গ্রামে সকাল সাড়ে আটটায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। মির্জাখীল দরবার শরিফ মাঠে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এ ছাড়া পার্বত্য জেলা বান্দরবানের লামা, আলীকদম, নাইক্ষ্যাংছড়ি, কক্সবাজারের চকরিয়া, টেকনাফ, মহেশখালী ও কুতুবদিয়ার কয়েকটি গ্রামে থাকা মির্জারখীল দরবার শরিফের ভক্তরাও আজ ঈদ উদ্‌যাপন করছেন। মির্জাখীল দরবার শরিফের মুখপাত্র মো. মছউদুর রহমান বলেন, করোনার কারণে এবারও দরবার শরিফে বড় ঈদ জামাত পরিহার করা হয়েছে। অনুসারীরা নিজ নিজ এলাকায় ছোট পরিসরে ঈদের জামাত করেছেন।

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের বাঁশবাড়িয়া ও বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের শতাধিক পরিবার আজ সকালে ঈদের নামাজ আদায় করেছে। সকাল সাড়ে আটটার দিকে উপজেলার জাহাঁগিরিয়া জামে মসজিদে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন মাওলানা আলী আহম্মদ। ফৌজদারহাট থেকে আসা মুসল্লি আবদুর রহমান বলেন, তিনি শুধু জামাতে ঈদের নামাজ আদায়ের জন্য ২৫ কিলোমিটার দূরের এই ঈদগাহে আসেন।

মৌলভীবাজারের শতাধিক পরিবার আজ ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করেছেন। সকাল সাতটায় মৌলভীবাজার শহরের সার্কিট হাউস এলাকার আহমেদ শাবিস্তা নামের বাসার ছাদে ঈদের এই জামাত অনুষ্ঠিত হয়। নামাজে ইমামতি করেন আবদুল মাওফিক চৌধুরী। নামাজ শেষে দেশ-জাতিসহ ফিলিস্তিনের মুসলমানের জন্য মোনাজাত করা হয়। নামাজে অংশ নেওয়া মাজেদুল হক বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে নামাজ আদায় করছেন।

জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে আজ সকাল আটটার দিকে দক্ষিণ বলারদিয়ার জামে মসজিদ ঈদগাহ মাঠে ১৩টি গ্রামের মানুষ ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করেন। দক্ষিণ বলারদিয়ার জামে মসজিদ মাঠে সকাল আটটায় মাওলানা আজিম উদ্দিন ঈদুল ফিতরের নামাজে ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বলারদিয়ার গ্রামের শাহা আলী (৬৪) বলেন, ‘১৬ বছর ধরে আমরা ১৩ গ্রামের মুসল্লিরা একসঙ্গে ঈদের নামাজ আদায় করে আসছি।’ দাশেরবাড়ি গ্রামের রকিব উদ্দিন (৬৫) বলেন, ‘মধ্য প্রাচ্যের সঙ্গে মিল রেখে আমরা ১৬ বছর ধরে ঈদের নামাজ আদায় করি।’

লক্ষ্মীপুরের ১১টি গ্রামে আজ ঈদ উদ্‌যাপিত হচ্ছে। আজ সকাল সাতটায় রামগঞ্জ পৌরসভার শিশুপার্ক–সংলগ্ন খানকা মাদানিয়া কাছিমিয়া ঈদগাহ জামে মসজিদে ঈদুল ফিতরের প্রথম নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। রামগঞ্জ পৌরসভার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. আকবর হোসেন বলেন, তাঁরা মাওলানা ইসহাকের অনুসারী। ৪২ বছর ধরে তাঁরা সৌদির সঙ্গে মিল রেখে সব ধর্মীয় উৎসব উদ্‌যাপন করছেন।

পিরোজপুর মঠবাড়িয়া, নাজিরপুর ও কাউখালী উপজেলার আট গ্রামের ৭০০ পরিবার আজ ঈদুল ফিতর উদ্‌যাপন করছে। সকাল নয়টায় সাপলেজা ইউনিয়নের ভাইজোড়া গ্রামের খোন্দকারবাড়িতে প্রথম ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। একই সময় কচুবাড়িয়া গ্রামের হাজী ওয়াহেদ আলী হাওলাদারবাড়িতে ঈদের একটি জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন যথাক্রমে মৌলভি হায়দার আলী ও আমির আলী মুন্সী। সুরেশ্বর পীরের অনুসারী কচুবাড়িয়া গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘আমরা সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে রোজা রেখেছি এবং আজ সৌদি আরবের সঙ্গে ঈদ উদ্‌যাপন করছি।’ শেখমাটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. মনিরুজ্জামান হাওলাদার বলেন, ১২ বছর ধরে আহলে হাদিসের অনুসারী শেখ মাটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য বাবুল খান ও তাঁর অনুসারী দুই গ্রামের ৭০টি পরিবার সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে রোজা রাখা ও ঈদ উদ্‌যাপন করে আসছে।

চাঁদপুরের পাঁচ উপজেলার অন্তত ৩৫ গ্রামের অধিকাংশ মুসল্লি আজ ঈদ উদ্‌যাপন করছেন। এসব গ্রামে সকাল সাড়ে ৮টা থেকে সাড়ে ১০টার মধ্যে ঈদুল ফিতরের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। হাজীগঞ্জের ঐতিহাসিক সাদ্রা দরবার শরিফের পীর মরহুম মাওলানা ইসহাক ১৯৩১ সাল থেকে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে এক দিন আগে দেশে দুই ঈদসহ ধর্মীয় বিভিন্ন অনুষ্ঠান উদ্‌যাপনের রীতি চালু করেন। বর্তমানে তাঁর অনুসারী চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ ১০টি গ্রাম, হাজীগঞ্জের ৮টি গ্রাম, মতলব উত্তরের ৯টি গ্রাম, কচুয়া ও শাহরাস্তি উপজেলার কয়েকটি গ্রামের অর্ধলক্ষ মুসল্লি সৌদির সঙ্গে মিল রেখে সব করেন।

সুনামগঞ্জের ধরমপাশা উপজেলার সদর ইউনিয়নের ধরমপাশা উত্তরপাড়া গ্রামের সুরেশ্বর দরবার শরিফের খানকায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে আজ সকাল নয়টার দিকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার সুরেশ্বর দরবার শরিফের ধরমপাশা উপজেলার অনুসারীরা সাত বছর ধরে এভাবে পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করে আসছেন। নামাজে ইমামতি করেন ইমাম মো. বাবুল মিয়া।

মাদারীপুরের চারটি উপজেলার ২৫ গ্রামের মানুষ আজ ঈদ উদ্‌যাপন করছেন। জেলার বেশ কয়েকটি স্থানে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হলেও প্রধান ও বড় জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে সদর উপজেলার তাল্লুক গ্রামের চরকালিকাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে। তাল্লুক গ্রামে ঈদের জামাত শেষে ইমাম আবদুল হাশেম ফকির বলেন, ‘দেশ ও জাতির কল্যাণে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে একযোগে ঈদের নামাজ আদায় করেন ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা।’ সুরেশ্বর দায়রা শরিফের প্রতিষ্ঠাতা হজরত জান শরিফ শাহ সুরেশ্বরীর (রা.) অনুসারীরা প্রায় দেড় শ বছর আগে থেকে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদ্‌যাপন করেন।

শেরপুরের তিন উপজেলার ছয় গ্রামের মানুষ আজ ঈদ উদ্‌যাপন করছেন। এসব গ্রামের সহস্রাধিক মানুষ আজ সকালে ঈদের নামাজ আদায় করেন। স্থানীয় ও জনপ্রতিনিধি সূত্রে জানা গেছে, আজ সকাল ৮টা থেকে সাড়ে ১০টার মধ্যে এসব গ্রামে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। বেতমারী-ঘুঘুরাকান্দি ইউপির চেয়ারম্যান মো. আবদুল মজিদ সকালে বলেন, চরখারচর মধ্যপাড়া সুরেশ্বর জিকিরঘর ও উত্তরপাড়া সুরেশ্বর খানকাহ শরিফে প্রায় ৫০০ মানুষ ঈদের নামাজ আদায় করেন। এই দুই স্থানের নামাজে ইমামতি করেন যথাক্রমে মো. জুলহাস উদ্দিন ও মো. আনোয়ার হোসেন। এসব গ্রামের মানুষ দীর্ঘ ৪৫ বছর ধরে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদ্‌যাপন করে আসছেন। তাঁরা ফরিদপুরের সুরেশ্বর পীরের অনুসারী বলে জানান তিনি।

স্বত্ব © ২০২৬ সংবাদ সাতদিন