
স্বাস্থ্যবিধি মেনে করোনায় মৃত ব্যক্তির দাফন। ফাইল ছবি
নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত আরও ১০
জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে ভাইরাসটিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল আট হাজার
৪৫১ জনে। এ সময়ে নতুন করে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন ৫৪০ জন। ফলে মোট
আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে পাঁচ লাখ ৪৯ হাজার ৭২৪ জনে।
শনিবার
(৬ মার্চ) স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে পাঠানো করোনাবিষয়ক নিয়মিত সংবাদ
বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, নতুন করে ভাইরাসটি থেকে
মুক্ত হয়েছেন ৮২২ জন। এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন পাঁচ লাখ ১ হাজার ৯৬৬ জন।
গত
২৪ ঘণ্টায় ১২ হাজার ৮৩৪টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্য থেকে ১৩ হাজার
৮২টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় রোগী শনাক্তের হার
চার দশমিক ১৩ শতাংশ। এ পর্যন্ত মোট নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৪১ লাখ ৩২ হাজার
১১৩টি।
গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ১০ জনের মধ্যে পুরুষ ৭ জন এবং নারী ৩
জন। এর মধ্যে সবাই হাসপাতালে মারা গেছেন। এ পর্যন্ত মোট মারা যাওয়া আট
হাজার ৪৫১ জনের মধ্যে পুরুষ ছয় হাজার ৩৮৮ জন, বাকি দুই হাজার ৬৩ জন নারী।
বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মারা যাওয়াদের মধ্যে চারজন ষাটোর্ধ্ব।
এছাড়া ৫১-৬০ বছরে মধ্যে ৩ জন ও ৪১-৫০ বছরের মধ্যে ২ জন এবং ৩১-৪০ বছরের
মধ্যে একজন রয়েছেন।
গত বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম তিনজনের দেহে করোনা
শনাক্ত হয়। এর ঠিক ১০ দিন পর দেশে ভাইরাসটিতে প্রথম মৃত্যু হয়। প্রথম
মৃত্যুর তিন দিন পর করোনায় দ্বিতীয় মৃত্যু হয় ২১ মার্চ। এরপর ২৩, ২৪ ও ২৫
মার্চ টানা তিন দিনে তিনজনের মৃত্যু হলেও মার্চ মাসে ভাইরাসটিতে আর কোনো
প্রাণহানি ঘটেনি।
১ এপ্রিল মৃত্যু হয় আরেকজনের। মৃত্যুশূন্য থাকে ২ ও
৩ এপ্রিল। ৪ এপ্রিল প্রথমবারের মতো দেশে দুজনের মৃত্যু হয়। এরপর থেকে আর
এমন কোনো দিন যায়নি, যেদিন করোনায় দেশে কারও মৃত্যু হয়নি। তবে ১৫ এপ্রিল
পর্যন্ত ১০ জনের নিচে থাকলেও, ১৬ এপ্রিল প্রথমবারের মতো করোনায় দুই সংখ্যার
মৃত্যু দেখে বাংলাদেশ। ১৭ এপ্রিল ছাড়িয়ে যায় মানুষের কল্পনাকেও, ওইদিন
দেশে করোনায় ১৫ জনের প্রাণহানি হয়।
এরপর ১০ মে ১৪ জনের মৃত্যুর পর
২০ জানুয়ারি পর্যন্ত, মাঝের সময়ে করোনায় সিঙ্গেল ডিজিটের কোনো মৃত্যু হয়নি।
ভাইরাসটিতে প্রথম ২০-এর অধিক মৃত্যু হয় ১৮ মে, সেদিন দেশে ২১ জনের
প্রাণহানি ঘটে। ৩১ মে প্রথমবারের মতো দেশে ৪০ জনের মৃত্যু হয় এ ভাইরাসে। ৫০
ছাড়ায় ১৬ মে, সেদিন মৃত্যু হয় ৫৩ জনের। ৩০ জুন দেশে করোনায় একদিনে
সর্বোচ্চ প্রাণহানি ঘটে, সেদিন এ ভাইরাস প্রাণ কেড়ে নেয় ৬৪ জনের।
মূলত
২৯ মে থেকে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত করোনায় মৃত্যু একদিনের জন্যও ২০ জনের নিচে
নামেনি। প্রায় চার মাস ১০ দিন পর ৯ অক্টোবর করোনায় মৃত্যু ২০-এর নিচে নেমে
আসে, সেদিন দেশে ১৭ জনের মৃত্যু হয়।
