পাকশীতে বিক্ষোভের মুখে উচ্ছেদ অভিযান স্থগিত

রেলজমি থেকে উচ্ছেদের প্রতিবাদ ও দ্রুত পুনর্বাসনের দাবি জানান মোহাম্মদ রশিদুল্লাহ্।

নিজস্ব প্রতিবেদক: মাথায় সাদা কাপড় বেঁধে রেলজমি থেকে উচ্ছেদের প্রতিবাদ ও পুনর্বাসনের দাবিতে মিছিল ও সভা করেছেন পাকশীতে বসবাসরত কিছু বাসিন্দা।

সোমবার ৮ মার্চ বিকেলে বিভাগীয় রেলওয়ে সদর দপ্তর পাকশীর আমতলা শহীদ মিনারের সামনে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

এতে অংশ নেন উচ্ছেদ আতংকে থাকা পাকশী রেলজমিতে বসবাসরত সাধারণ মানুষ।  

সমাবেশে বক্তারা বলেন, রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কারণে পাকশীতে রেলওয়ের জায়গায় ব্রিটিশ আমল থেকে বসবাসকারীদের উচ্ছেদের জন্য নোটিশ দিয়েছে রেলওয়ে বিভাগ। নোটিশ জারীর পর থেকে তাদের উচ্ছেদ আতংকে নির্ঘুম রাত কাটছে। বাসাবাড়ি ছাড়াও প্রস্তাবিত উচ্ছেদ এলাকার মধ্যে রয়েছে শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, শতবর্ষী গাছ, বধ্যভূমিসহ নানা স্থাপনা। সেখানে বসবাস করছেন মুক্তিযোদ্ধাসহ কয়েক হাজার পরিবার। রেলের এমন ঘোষণায়  তারা এখন দিশেহারা। এই পরিস্থিতিতে তারা  উচ্ছেদের আগে পূনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণের দাবি জানান।

উচ্ছেদবিরোধী আন্দোলনের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও কমিটির যুগ্ম-আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলমের সঞ্চালনায় এতে বক্তব্য দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মো: রশিদুল্লাহ্, পাকশী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হাবিবুল ইসলাম হব্বুল, পাকশীর সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ, পাবনা জেলা পরিষদের সদস্য সাইফুল ইসলাম বাবু মণ্ডল, পাকশী আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু তারেক, সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ারুল ইসলাম বাবু, যুবলীগের সাবেক সভাপতি সাইফুজ্জামান পিন্টু, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল হালিম মিঠু, ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মাসুদুর রহমান বিশ্বাস, বাংলাদেশ রেলওয়ে পোষ্য সোসাইটি কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক আমজাদ হোসেন বাবু, লিটিল এঞ্জেল কিন্টার গার্ডেনের শিক্ষিকা ফাতেমা আক্তার পলিন, এলাকাবাসী রবিউল ইসলাম, মোহাম্মদ দোলন, মঞ্জুরুল আলম রতন প্রমুখ।

পাকশী বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা মো: নুরুজ্জামান সংবাদ সাতদিন ডটকমকে জানান, পাকশী রেলে এপর্যন্ত বৈধ ১৭০টি ঘরের তালিকা করা হয়েছে।  এছাড়া অবৈধ ৩৭০টি ঘর উচ্ছেদের জন্য তালিকা করা হয়েছে। এসব জমিতে বসবাসকারীরা অনেকদিন থেকে উচ্ছেদ বন্ধ, উচ্ছেদের আগে ক্ষতিপূরণ ও  পুনর্বাসনের দাবি জানিয়ে আসছেন। বিষয়গুলো সরকারের উর্ধতন মহলে অবহিত করা হয়েছে। এ অবস্থায় কয়েকদফা উচ্ছেদ প্রক্রিয়া বন্ধ রাখা হয়েছিল। কিন্ত উন্নয়নের স্বার্থে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য এসব রেলজমি নিয়মতান্ত্রিক ভাবে দ্রুত হস্তান্তর করতে হবে। ফলে কাল মঙলবার উচ্ছেদের জন্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়। কিন্ত আন্দোলনকারীরা কিছুটা সময় চাওয়ায় উর্ধতন কর্মকর্তাদের পরামর্শে আবারও উচ্ছেদ বন্ধ থাকছে। তবে যেকোনো সময় উচ্ছেদ শুরু হবে।


স্বত্ব © ২০২৬ সংবাদ সাতদিন