![]() |
| উদ্বোধনের পর ফলক উম্মোচন ও মোনাজাত করা হয়। |
নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদী উপজেলায় মুলাডুলি ভূতেরগাড়ি খাল পুনঃখননের কাজ শুরু হয়েছে।
সোমবার দুপুরে মুলাডুলির মোকাররমপুর গ্রামে পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী- আটঘরিয়া)
আসনের সাংসদ বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব নুরুজ্জামান বিশ্বাস ওই খাল পুনঃখনন
কার্যক্রমের উদ্বোধন ও ফলক উম্মোচন করেন।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ঈশ্বরদী উপজেলা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব নায়েব আলী বিশ্বাস, পৌরসভার মেয়র ইছাহক আলী মালিথা এবং বিএডিসি পানাসির প্রকল্প পরিচালক সাজ্জাদ হোসেন ভুঁইয়া।
বিএডিসি ঈশ্বরদী
পানাসি প্রকল্পের সহকারী প্রকৌশলী মিরাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে
শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন মুলাডুলি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল খালেক
মালিথা, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আতিয়া ফেরদৌস কাকলী, নাটোরের দুয়ারিয়া
ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি রুহুল আমিন প্রমুখ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালন করেন
মুলাডুলি ইউপি সদস্য জাহিদ হোসেন তাঁরা মালিথা।
উদ্বোধনের পর ফলক উম্মোচন ও মোনাজাত করা হয়।
পানাসি প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, ভূতেরগাড়ির খালটি সর্বশেষ ১৯৯০ সালে খনন
করা হয়েছিল। এটি পুনঃখনন না করায় বর্ষা মৌসুমে আশপাশের কয়েকটি বিল ও ফসলী
জমিতে দীর্ঘসময় জলাবদ্ধতা লেগে থাকতো। কৃষকরা দুই মৌসুমের ফসল ঘরে তুলতে
পারতেন না। খালটিকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে কৃষি মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে
সম্প্রতি পানাসি (পাবনা নাটোর সিরাজগঞ্জ সমন্মিত) প্রকল্প পাঁচ বছরের জন্য
মোট ৪৮০ কিলোমিটার খাল পুনঃখননের প্রকল্প গ্রহণ করে। ওই প্রকল্পের অংশ
হিসেবে মুলাডুলির
মোকারামপুর গ্রামের ডাবিকুলা (ভুতের গাড়ী) বিলের অংশ থেকে শুরু হয়ে
মুলাডুলি বাজার সংলগ্ন কমলা নদী পর্যন্ত ৯.৩৮ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য খাল
পুনঃখননের শুরু করা হয়েছে। পাবনা, নাটোর ও সিরাজগঞ্জ জেলার ভূ-উপরিস্থ
পানির মাধ্যমে সেচ উন্নয়ন (পানাসি) প্রকল্পের আওতায় এবং বাংলাদেশ কৃষি
উন্নয়ন কর্পোরেশনের তত্ত্বাবধায়নে চলতি অর্থবছরেই খাল পুনঃখনন প্রকল্পের
কাজ শেষ হবে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন। তদারকি করছে
পাবনা বিএডিসি পানাসি প্রকল্প।
প্রকল্প পরিচালক সাজ্জাদ হোসেন ভুঁইয়া বলেন, প্রায় ৩১ বছর পর এই খালটি পুনঃখনের কাজ শুরু হয়েছে। পুনঃখনন কাজ সম্পন্ন হলে ডাবিকুলা বিল, মশুরির বিল, ঢুলটি কুকরা বিল, পদ্মবিল, গায়ের বিল, কচুয়ার বিলসহ বেশ কয়েকটি বিলের পানি নিষ্কাশন, আশেপাশে ৩৫০০ একর জমির জলাবদ্ধতা দূরীকরণ, এক ফসলী জমি দুই ফসলী ও দুই ফসলী জমি তিন ফসলী জমিতে রূপান্তর করা সম্ভব হবে। একইসঙ্গে আট হাজার কৃষক সরাসরি উপকৃত হবেন। এরফলে অতিরিক্ত ছয় হাজার মেট্রিক টন ফসল উৎপাদন সম্ভব হবে।

