তথ্যপ্রযুক্তি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
তথ্যপ্রযুক্তি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

টপ লোড বনাম ফ্রন্ট লোড ওয়াশিং মেশিন: জেনে নিন সুবিধা ও অসুবিধা সমূহ

প্রতীকী ছবি

সংবাদ সাতদিন ডেস্ক:  প্রতিদিনের লন্ড্রির কাজে সময় ও শ্রম উভয়ই বাঁচাতে একটি অপরিহার্য গৃহস্থালি যন্ত্র ওয়াশিং মেশিন। কাজ ও গঠনের ভিত্তিতে মেশিনগুলো বিভিন্ন ধরণের হয়ে থাকে। তাছাড়া নানা ধরণের পরিস্থিতিতেও এগুলোর উপযোগিতায় তারতম্য ঘটে। বর্তমান সময়ে বাসা-বাড়িতে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় টপ লোড ও ফ্রন্ট লোড ওয়াশিং মেশিন। বৈশিষ্ট্যগত ভিন্নতার কারণে বিভিন্ন পরিস্থিতিতে দুটোরই রয়েছে কিছু সুবিধা-অসুবিধা। সেগুলো যাচাই করে চলুন দেখে নেই- সঠিক ওয়াশিং মেশিন নির্বাচনে কোন বিষয়গুলোতে গুরুত্বারোপ করা জরুরি।

 
টপ লোড বনাম ফ্রন্ট লোড ওয়াশার
টপ লোড মেশিনে কাপড় রাখার জন্য বৃত্তাকার ড্রামের ঢাকনা ওপর থেকে খোলা যায়। ড্রামের ভেতর কাপড় পরিষ্কার করার কাজটি করে কেন্দ্রে থাকা ফিনযুক্ত অ্যাজিটেটর নামের অংশটি। কিছু মেশিনে অ্যাজিজেটরের বদলে থাকে ইম্পেলার নামের একটি ফ্ল্যাট ডিস্ক।

অপরদিকে ফ্রন্ট লোডে কাপড় প্রবেশ করানোর জন্য ড্রামের দরজাটি সামনে থেকে খোলা হয়। এখানে পুরো ড্রামটি ঘূর্ণনের মাধ্যমে কাপড়গুলো পরিষ্কারে সাহায্য করে। এতে তুলনামূলক কম পানি ব্যবহার হয় কারণ এখানে শুধুমাত্র ড্রামের নীচের অংশ পানিতে পূর্ণ হয়। ধোয়ার পরে নোংরা

পানি একটি পাম্পের মাধ্যমে বের করে দেয়। অধিকাংশ টপ লোড-এ গরম পানি ব্যবহারের জন্য হিটার থাকে।

টপ লোড ওয়াশিং মেশিনের সুবিধা-অসুবিধা
ফাস্ট ওয়াশিং সাইকেল: টপ লোডিং ওয়াশিং মেশিনে খুব দ্রুত সময়ে কাপড় ধোয়ার কাজ সম্পন্ন হয়।

সাশ্রয়ী মূল্য: যারা কম দামে একটি কাপড় ধোয়ার মেশিন নিতে চাচ্ছেন, তাদের জন্য এই মেশিনগুলো উপযুক্ত। শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় ফিচারগুলো থাকার কারণে এগুলোর দাম যথেষ্ট কম হয়ে থাকে।

দুর্গন্ধ নেই: টপ লোডের পানি নিষ্কাশন প্রক্রিয়াটি বেশ ভাল। এর ফলে ড্রামের ভিতরে ফাঙ্গাস বা অন্যান্য ময়লা জমে না। তাই দীর্ঘ দিন ব্যবহারে এ থেকে দুর্গন্ধের আশঙ্কা থাকে না।

ঘন ঘন বাসা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সহায়ক: যাদের ঘন ঘন বাসা পরিবর্তনের সম্ভাবনা থাকে, এই মেশিন তাদের জন্য। এগুলোর সংযোগ স্থাপন ও বিচ্ছিন্ন করা সহজ এবং ওজনে হাল্কা হওয়ায় পরিবহনেও কোনো বিড়ম্বনা হয় না। এই কারণে টপ লোডার কম বিদ্যুৎ ধারণক্ষমতা সম্পন্ন এলাকায় বসবাসের জন্যও সহায়ক।

অসুবিধা

পানি এবং বিদ্যুৎ খরচ বেশি হয়: টপ লোড ওয়াশিং মেশিনের কাপড় ধোয়ার জন্য বেশি পানি এবং বিদ্যুৎ প্রয়োজন হয়। এটি সময়ের সঙ্গে ইউটিলিটি বিলের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

কাপড় নষ্ট হয়: ফিনযুক্ত অ্যাজিটেটরের কারণে অধিকাংশ ক্ষেত্রে কাপড়ে (বিশেষ করে সিল্ক বা লেসের মতো সূক্ষ্ম কাপড়গুলোর ক্ষেত্রে) ছিদ্র সৃষ্টি হয়। এছাড়া কাপড়ের গুনগত মানও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

ভাইব্রেশন ও শব্দ হয়: ঘোরার সময় টপ লোডারগুলোতে প্রচণ্ড কম্পন সৃষ্টি হয়। অনেক সময় ড্রামে জমাকৃত কাপড়ের ওজন যদি কমবেশি হয়, তখন এই কম্পন অতিরিক্ত শব্দের সৃষ্টি করে। বিশেষ করে সংকীর্ণ জায়গায় যেখানে একাধিক গৃহস্থালি যন্ত্রপাতি কাছাকাছি থাকে এমন পরিবেশে এই ঝামেলা হওয়ার আশঙ্কা বেশি।

ফ্রন্ট লোড ওয়াশিং মেশিনের সুবিধা-অসুবিধা
সীমিত পানি এবং বিদ্যুৎ খরচ:
টপ লোডারের তুলনায় ফ্রন্ট লোডার কাপড় ধোয়ার জন্য কম পানি এবং বিদ্যুৎ ব্যবহার করে। ফলে ইউটিলিটি বিলের ওপর খুব একটা চাপ পড়ে না।

কাপড় নষ্ট হয় না: পুরো ড্রামের ঘূর্ণনের ফলে ভেতরে থাকা কাপড়গুলোতে যে আন্দোলন হয় তাতে সেগুলোর তেমন ক্ষতি হয় না। তাই কোনো রকম ছিদ্র বা গুনগত মানের অবনতি ঘটার আশঙ্কা নেই। তবে এর জন্য সঠিক সেটিংসে মেশিন অপারেট করা প্রয়োজন। ভুল সাইকেল বা তাপমাত্রা সেট করা হলে কাপড় সঙ্কুচিত বা বিবর্ণ হয়ে যেতে পারে। তাই কেনার পরে প্রথম চালানোর সময় একটু সময় নিয়ে হলেও সেটিংসগুলো ভালভাবে জেনে নেওয়া উচিত।

ভাল পরিষ্কার হয়: টপলোডারের তুলনায় এই মেশিনে কাপড় ভালভাবে পরিস্কার হয়। শক্ত বা কালো দাগ মুছে ফেলার ক্ষেত্রে এগুলোর কার্যকারিতা বেশি।

উন্নত প্রযুক্তির ফিচার: ফ্রন্ট লোড ওয়াশারগুলোতে প্রায় ক্ষেত্রে উন্নত বৈশিষ্ট্যগুলো যোগ করতে দেখা যায়। এগুলোর মধ্যে রয়েছে ফোনের মাধ্যমে মেশিন নিয়ন্ত্রণ, বিভিন্ন ধরণের কাপড়ের জন্য কাস্টম ওয়াশ সেটিংস এবং শব্দহীন অপারেশনের জন্য ইনভার্টার মোটর।

হিটার এবং ঘূর্ণন নিয়ন্ত্রণের সুবিধা: বেশিরভাগ ফ্রন্ট লোডারে বিল্ট-ইন হিটার থাকে। শক্ত দাগ দূর করার ক্ষেত্রে হিটার যথেষ্ট কার্যকর। এছাড়া ড্রামের ঘূর্ণন গতি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাটি কাপড় শুকানোর জন্য সাহায্য করে। দীর্ঘক্ষণ যাবৎ একই গতিতে চালালে অনেক সময় সূক্ষ্ম যন্ত্রাংশগুলোর ক্ষতি হতে পারে। গতি নিয়ন্ত্রণ সুবিধাটি এই ঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে পারে।

কম জায়গা নেয়: এই মেশিন স্থাপনের জন্য খুব বেশি জায়গার প্রয়োজন হয় না। তাই ছোট বাসার জন্য ফ্রন্ট লোডার বেশ উপযোগী।

চাইল্ড সেফটি ফিচার: ফ্রন্ট লোড ওয়াশিং মেশিনের বিল্ট-ইন চাইল্ড লক খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি সুবিধা। এই নিরাপত্তা ব্যবস্থার মাধ্যমে মেশিন চালু থাকা অবস্থায় বাচ্চারা দুর্ঘটনাক্রমে মেশিনের দরজা খুলে ফেলতে পারে না।

অসুবিধা

খরচ বেশি: মেশিনের দক্ষতা বাড়ানো জন্য বিভিন্ন ধরণের ফিচার যুক্ত থাকায় স্বাভাবিকভাবেই এগুলোর দাম বেশি হয়ে থাকে।

পরিষ্কারে সময় বেশি নেয়:
ফ্রন্ট লোডারে লন্ড্রির কাজ শেষ হওয়ার জন্য দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়।

ফাঙ্গাস জমতে পারে: রাবারের দরজার সিলে আর্দ্রতাজনিত কারণে প্রায়ই এই মেশিনগুলোতে ফাঙ্গাস জমে। তাই ব্যবহারের পর কিছু সময় দরজাটি খোলা রাখতে হয়। এছাড়া দীর্ঘ মেয়াদে কোনো দুর্গন্ধ ছাড়া ফ্রন্ট লোড ব্যবহার করতে হলে এটি নিয়মিত পরিষ্কার করা প্রয়োজন।

বিদ্যুৎ বিভ্রাটে ঝামেলা: বিদ্যুৎ বিভ্রাট বা মেশিন চালু থাকার সময় মাঝে বন্ধ করার প্রয়োজন হলে, তা যথেষ্ট বিড়ম্বনার সৃষ্টি করে। বিশেষ করে ডিটারজেন্ট যোগ করতে ভুলে গেলে বা কোনো কারণে ভেতর থেকে কোনো কাপড় বের করতে হলে।

অতিরিক্ত ডিটারজেন্ট বেরিয়ে আসতে পারে: ভুলবশত খুব বেশি ডিটারজেন্ট যোগ করে ফেললে মেশিন চলার সময় তা দরজা গলে বাইরে বেরিয়ে আসতে পারে।

টপ বা ফ্রন্ট লোড ওয়াশিং মেশিন কেনার সময় কোন কোন বিষয়গুলো দেখা জরুরি

.দিনে লন্ড্রি ব্যবহারের পরিমাণ  

একটি যৌথ পরিবার থাকে সারা দিনে দুইয়ের অধিকবার কাপড় ধোয়ার প্রয়োজন পড়ে। প্রতিবারে বেশি সংখ্যক লোড ধারণের জন্য এ ক্ষেত্রে উপযুক্ত হতে পারে টপ লোডার মেশিন। অপরদিকে, নিয়মিত স্বল্প সংখ্যক কাপড় পরিষ্কারের জন্য ফ্রন্ট লোডারই যথেষ্ট।


ঘরের জায়গা এবং প্লাম্বিং সেটআপ  

এ ধরণের মেশিনের জন্য বাসায় জায়গা সঙ্কুলান হওয়াটা একটু গুরুত্বপূর্ণ ব্যপার। বিশেষ করে স্থাপনের ক্ষেত্রে আগে থেকেই প্লাম্বিং-এর সেটআপ ঠিক করে রাখা দরকার হয়। ফ্রন্ট লোড ওয়াশার ছোট বাসাতে অনায়াসেই স্থাপন করা যায়। তবে ড্রেন পাইপটি মেঝে বরাবর সেট করা নিয়ে ঝামেলা হতে পারে। কম জায়গা লাগলেও দরজা সম্পূর্ণরূপে খোলার জন্য সামনে যথেষ্ট জায়গা রাখতে হবে।


কাপড়ের ওপর কেমন প্রভাব ফেলবে

শুধুমাত্র ধোয়া বা পরিষ্কার করাটাই মূখ্য বিষয় নয়। পরিষ্কার কাপড়টি কতটুকু ভালো থাকছে এবং তা পরবর্তীতে কতদিন পর্যন্ত পরিধান করা যাবে, সেটাও বিবেচনায় আনা আবশ্যক। তাই কোন ধরণের কাপড় বেশি পড়া হয় সেদিকে খেয়াল রেখে ওয়াশিং মেশিন কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।


বাজেট এবং রক্ষণাবেক্ষণ
শুধুমাত্র ক্রয়মূল্যই নয়, কেনার পরে মেশিনের রক্ষণাবেক্ষণ বাবদ খরচ এবং ইউটিলিটি বিলকেও বিবেচনায় আনা জরুরি। টপ লোডারগুলো শুরুতে বাজেট-বান্ধব হলেও দীর্ঘমেয়াদে অর্থ সাশ্রয় করে ফ্রন্ট লোডারগুলো। উপরন্তু, ফ্রন্ট লোডের মেশিনে ফাঙ্গাস বা দুর্গন্ধ রোধ করতে নিয়মিত পরিষ্কারের জটিলতা রয়েছে।


ঘন ঘন বাসা পরিবর্তন করা হয় কিনা
বাসা পরিবর্তন মানেই গৃহস্থালি যন্ত্রপাতির পুনঃস্থাপন এবং পরিবহন ঝামেলা পোহানো। এ ক্ষেত্রে সহজে স্থানান্তরযোগ্য হাল্কা টপ লোডারগুলো উত্তম। অপরদিকে, যারা নিজেদের অ্যাপার্টমেন্টে থাকেন তাদের জন্য ফ্রন্ট লোড ওয়াশার-ড্রায়ার কম্বোতে বিনিয়োগ করাটাই শ্রেয়।

শেষাংশ
সর্বসাকূলে, কাপড় দ্রুত পরিষ্কারের ক্ষেত্রে এবং ভাড়াটে ব্যবহারকারীদের জন্য উপযুক্ত হবে সাশ্রয়ী টপ লোড ওয়াশিং মেশিন নেওয়া। অপরদিকে কাপড়ের যত্ন, স্বল্প জায়গা এবং পানি ও বিদ্যুৎ খরচের বিচারে এগিয়ে থাকবে ফ্রন্ট লোড ওয়াশিং মেশিনগুলো। এছাড়া প্রযুক্তি-বান্ধব উন্নত বৈশিষ্ট্যগুলো পেতে হলে ফ্রন্ট লোডের বিকল্প নেই। উপরুন্তু, কেনার পরে রক্ষণাবেক্ষণের খরচের সাথে দিনে কতটুকু লন্ড্রি ব্যবহার করা হচ্ছে সেই বিষয়টিও সম্পৃক্ত। সব মিলিয়ে, ওয়াশিং মেশিনটির ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া পরিবারের সুনির্দিষ্ট প্রয়োজনীয়তাকে মূল্যায়ন করা উচিত।

হোয়াটসঅ্যাপে নতুন ফিচার, লক করা যাবে গুরুত্বপূর্ণ চ্যাট

নিজস্ব প্রতিবেদক: হোয়াটসঅ্যাপ বর্তমানে খুব জনপ্রিয় যোগাযোগ মাধ্যম। ব্যবহারকারীদের সুবির্ধাতে একের পর এক নতুন ফিচার নিয়ে আসছে ফেসবুক মালিকানাধীন মেসেজিং এই প্ল্যাটফর্ম। সে ধারাবাহিকতায় এবার হোয়াটসঅ্যাপ নতুন একটি ফিচার যুক্ত করেছে ব্যবহারকারীদের জন্য। যার নাম ‘সিক্রেট কোড’। 

যার ফলে চাইলেই যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সঙ্গে আদান-প্রদান করা বার্তাগুলো লক বা লুকিয়ে রাখা যাবে। সিক্রেট ফিচারের মাধ্যমে লক করে রাখা চ্যাট সহজে খুঁজে পাওয়া যাবে। এর জন্য ব্যবহার করতে হবে নির্দিষ্ট পাসওয়ার্ড। ওই পাসওয়ার্ড এন্ট্রি দিলেই মুহূর্তে পেয়ে যাবেন আপনার কাঙ্ক্ষিত লক করে রাখা চ্যাটটি।

সম্প্রতি মেটার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মার্ক জাকারবার্গ এই ফিচারটি প্রকাশ্যে আনেন। তিনি বলেন, সিক্রেট কোড দিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট লক করে রাখার এই ফিচার আপনার গোপন চ্যাটগুলোকে একটি পাসওয়ার্ড দিয়ে সুরক্ষিত রাখতে পারে। একমাত্র আপনিই সেই কোড সার্চ বারে দিয়ে গোপন চ্যাটের অ্যাক্সেস পেতে পারেন। ফলে, কেউ চাইলেও আপনার গোপন চ্যাট ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃত কোনো ভাবেই দেখতে পারবে না। 

পাশাপাশি এই লেটেস্ট ফিচার যে কোনো গোপন কথোপকথন লক করার কাজটা যেমন সহজ করে দিল, তেমনই আবার অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে তা করা যাবে। ব্যবহারকারীরা এবার যে কোনো চ্যাটে দীর্ঘক্ষণ প্রেস করে তাৎক্ষণিক সেই চ্যাটটিকে লক করে রাখতে পারেন। এ জন্য তাদের আর সেটিংসে যাওয়ার কোনো প্রয়োজন হবে না।

ইতোমধ্যেই এই জরুরি ফিচারের রোল আউট প্রক্রিয়াটি শুরু হয়ে গেছে। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই বিশ্বব্যাপী সমস্ত হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীর কাছে ফিচারটি পৌঁছে যাবে। সিক্রেট কোডের এই ফিচারটির মাধ্যমে হোয়াটসঅ্যাপ প্রতিযোগী টেলিগ্রাম ও সিগন্যালের মতো ইনস্ট্যান্ট মেসেজিং অ্যাপগুলোর থেকে অনেকটাই এগিয়ে গেল।

কণ্ঠস্বর নকল করে প্রতারণার ফাঁদ, এড়ানোর কৌশল

নিজস্ব প্রতিবেদক: মা, বাবা, আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব, সন্তান, পরিচিতজনের কণ্ঠস্বর হুবহু নকল করে একটি ভয়েস পাঠিয়ে প্রতারণা করার চেষ্টা হতে পারে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে এই জালিয়াতি এতটাই নিখুঁত ভাবে করা হচ্ছে যে সাধারণ মানুষের পক্ষে তা ধরা অসম্ভব।

সম্প্রতি এআই ভয়েস ক্লোনিং দিয়ে জালিয়াতি বেড়েছে। পরিচিতজনের কণ্ঠস্বর নকল করে বিভিন্ন ছদ্মবেশে, নানান গালগল্পে, ইমোশনাল বা বেদনাদায়ক কাহিনি বলে প্রতারণা করছে প্রতারক চক্র। বিশেষ করে চক্রগুলো জোর দিচ্ছে জরুরি টাকার প্রয়োজনীয়তায়। অনেকেই এই ফাঁদে পড়ে হারাচ্ছে লাখ লাখ টাকা। এমনকি জানতে চাওয়া হয় আপনার ব্যক্তিগত তথ্যও। 

এআই ভয়েস ক্লোনিং এর আরেক নাম ভয়েস সিন্থেসিস বা ভয়েস মিমিক্রি। আসলে এটি একটি প্রযুক্তি, যা মেশিন লার্নিং বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ব্যবহার করে, যে কোনো ব্যক্তির কণ্ঠস্বর হুবহু নকল করে। এই প্রযুক্তির জন্য প্রয়োজন সামান্য পরিমাণে ভয়েস ডেটা। আর যার ভয়েস নকল করা হচ্ছে, তার কণ্ঠস্বর। একাধিক ফ্রি এবং পেইড টুল রয়েছে, যার দ্বারা একজনের গলার নকল খুব সহজেই অন্যজন করে ফেলছেন

এ ধরনের প্রতারণা এড়াতে চাইলে ভয়েস নোট অনলাইনে রাখা যাবে না।  এছাড়াও, যখনই এই ধরনের কল আসলে বিশ্বাস না করে সেই ব্যক্তির আসল নম্বরে দিয়ে বিষয়টি নিশ্চিত হোন এবং পুরো বিষয়টা জেনে নেওয়ার চেষ্টা করুন। যদি কেউ ফোন করে আপনার বন্ধু, আত্মীয়-পরিজন বলে দাবি করে টাকা চায়, তবে টাকা পাঠানোর আগে আসল ঘটনা জেনে নিতে হবে। 

হ্যাকার থেকে স্মার্টফোন সুরক্ষিত রাখবেন যেভাবে

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক: ডিজিটাল প্রযুক্তির যুগে অধিকাংশ মানুষই স্মার্টফোন ব্যবহার করে থাকেন। আপাতদৃষ্টিতে স্মার্টফোন আপনার সহায়ক হলেও অনেক ক্ষেত্রে এই ডিভাইসটি আপনার নিরাপত্তাহানির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই স্মার্টফোন নিয়মিত ডিভাইস আপডেট রাখা উচিত। কারণ, এটি ডিভাইসকে বিভিন্ন ম্যালওয়্যার থেকে সুরক্ষিত রাখতে সাহায্য করে। তবে সাবধান থাকতে হবে প্রতারকরা মাঝে মধ্যেই ভুয়া আপডেটের মাধ্যমেও বিভিন্ন রকম প্রতারণা করে থাকে। 

এক্ষেত্রে আপনি যদি গুগল ক্রোম এবং সাফারি ব্রাউজার আপডেট করতে চান তাহলে সতর্ক থাকতে হবে। কারণ, গুগল ক্রোম এবং অ্যাপল সাফারি ব্রাউজারে ভুয়া আপডেট ফাইল ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়েছে। আর এই ভুয়া আপডেটের করণে অ্যাটমিক স্টিলার ম্যালওয়্যার (এএমওএস) ব্যবহারকারীদের সিস্টেমে প্রবেশ করতে পারে। 

অ্যাটমিক স্টিলার ম্যালওয়্যার (এএমওএস) কি?
এএমওএস হলো এমন এক ম্যালওয়্যার যা, ম্যাক সিস্টেম থেকে পাসওয়ার্ড, ব্যক্তিগত তথ্য এবং অন্যান্য ফাইল চুরি করতে পারে। সাধারণত, হ্যাকাররা উইন্ডোজ ব্যবহারকারীদের টার্গেট করে থাকে, তবে এবার তারা ম্যাক ব্যবহারকারীদের টার্গেট করার জন্য এএমওএস ম্যালওয়্যার ব্যবহার করছে। সম্প্রতি সাইবার সিকিউরিটি ফার্ম জানিয়েছে, এএমওএস ম্যালওয়্যার ক্লিয়ারফেকের মাধ্যমে এমএসিওএস ব্যবহারকারীদের কাছে ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে।

যেভাবে প্রতারণা করা হচ্ছে?
মূলত হ্যাকাররা ক্রোম এবং সাফারি বরাউজারের ডাউনলোড পেজের একটি ক্লোন তৈরি করেছে। যেগুলো  হুবহু আসল ডাউনলোড পেজের মতোই দেখতে। আর এই ভুয়া ডাউনলোড পেজে ক্লিক করার পরে, ব্যবহারকারীদের ম্যাকবুকে.ডিএমজি ফাইল ডাউনলোড করতে বলা হয়। তারপর ইনস্টলেশনের সময় এটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের পাসওয়ার্ড চাওয়া হয়। আর একবার ম্যালওয়্যারটি ইনস্টল হয়ে গেলে প্রতারকরা সমস্ত ধরনের পাসওয়ার্ড এবং ফাইল অ্যাক্সেস করা শুরু করে।

যেভাবে প্রতারণা করা হচ্ছে?
মূলত হ্যাকাররা ক্রোম এবং সাফারি বরাউজারের ডাউনলোড পেজের একটি ক্লোন তৈরি করেছে। যেগুলো  হুবহু আসল ডাউনলোড পেজের মতোই দেখতে। আর এই ভুয়া ডাউনলোড পেজে ক্লিক করার পরে, ব্যবহারকারীদের ম্যাকবুকে.ডিএমজি ফাইল ডাউনলোড করতে বলা হয়। তারপর ইনস্টলেশনের সময় এটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের পাসওয়ার্ড চাওয়া হয়। আর একবার ম্যালওয়্যারটি ইনস্টল হয়ে গেলে প্রতারকরা সমস্ত ধরনের পাসওয়ার্ড এবং ফাইল অ্যাক্সেস করা শুরু করে।

যেভাবে নিরাপদ থাকবেন
যদি এই ম্যালওয়্যার থেকে নিজের ডিভাইসটি সুরক্ষিত রাখতে চান তাহলে, কোনো তৃতীয় পক্ষ সোর্স থেকে ক্রোম এবং সাফারি ব্রাউজার আপডেট করবেন না। ওয়ার্ডপ্রেস সাইট ব্যবহারের সময় আপডেটের জন্য নোটিফিকেশনগুলো এড়িয়ে চলতে হবে। কখনোই নিজের ডিভাইসে কোনো অপরিচিত সোর্স থেকে আসা ইনস্টলার ইনস্টল করা যাবে না।
যদি এই ম্যালওয়্যার থেকে নিজের ডিভাইসটি সুরক্ষিত রাখতে চান তাহলে, কোনো তৃতীয় পক্ষ সোর্স থেকে ক্রোম এবং সাফারি ব্রাউজার আপডেট করবেন না। ওয়ার্ডপ্রেস সাইট ব্যবহারের সময় আপডেটের জন্য নোটিফিকেশনগুলো এড়িয়ে চলতে হবে। কখনোই নিজের ডিভাইসে কোনো অপরিচিত সোর্স থেকে আসা ইনস্টলার ইনস্টল করা যাবে না।

দিনে ১৫১ কোটি এসএমএস পান গ্রাহকরা

দিনে সবচেয়ে বেশি গ্রাহকদের বিভিন্ন এসএমএস দেয় গ্রামীণফোন।

নিজস্ব প্রতিবেদক:  মোবাইল অপারেটরদের বিভিন্ন প্রমোশনাল এসএমএসে অতিষ্ঠ হয়নি দেশে এমন গ্রাহক খুঁজে পাওয়া দায়। দিনে অসংখ্য এসএমএস পান গ্রাহকরা। যার অধিকাংশই অপ্রয়োজনীয়।

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন বা বিটিআরসি এক হিসাবে জানিয়েছে, দেশের চার মোবাইল অপারেটর তার গ্রাহকদের দিনে গড়ে ১৫১ কোটি ৮৫ লাখ এসএমএস পাঠায়।

এটা একটা গড় হিসাব। কোনো দিন এই সংখ্যা বেশি হয়, আবার কোনো দিন এই সংখ্যাটা কিছুটা কমে।

বিটিআরসি জানায়, চার মোবাইল অপারেটরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি এসএমএস দেয় গ্রামীণফোন। তারা দৈনিক গড়ে ৬৫ কোটি এসএমএস দেয় তার গ্রাহকদের।

দ্বিতীয় শীর্ষ অপারেটর রবি পাঠায় ৬২ কোটি ৮৫ লাখ, বাংলালিংক পাঠায় দিনে গড়ে ২২ কোটি এবং টেলিটক ২ কোটি এসএমএস-নোটিফিকেশন।

গ্রাহকদের কাছে পাঠানো এসব এসএমএসের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন সেবা সম্পর্কে প্রমোশনাল ক্যাম্পেইন, অফার, ইন্টারনেট প্যাকেজ, মিটিন প্যাকেজ, মিসডকল অ্যালার্ট, ডিঅ্যান্ডডি, কলড্রপ, আমার টিউনের মতো সেবা চালু বা বন্ধকরণ, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ওয়েবসাইট সাইনআপ, লগইন, পাসওয়ার্ডের ওটিপি সংক্রান্ত এসএমএস, নবায়ন অ্যালার্ট, বন্ধ, সাবস্ক্রিপশন-আনসাবস্ক্রিপশনের নোটিফিকেশন।

এ ছাড়া রয়েছে এফএফএস, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, রিটেইলারসহ সব ধরনের রিচার্জ ও বিল পরিশোধ নোটিফিকেশন, বন্ধ সিম সক্রিয়, ফোরজি সিমের অফার, সিম প্রতিস্থাপন, মালিকানা পরিবর্তনসংক্রান্ত নোটিফিকেশন, লয়ালিটি ও পার্টনারশিপ সংক্রান্ত নোটিফিকেশনসহ নানা ধরনের এসএমএস।

এর বাইরে থার্ড পার্টির মাধ্যমে বিভিন্ন বাল্ক এসএমএস, সরকারি তথ্য, ইমার্জেন্সি ব্যালান্স সংক্রান্ত নোটিফিকেশন, থার্ড পার্টি-সিপি টিভাস সংক্রান্ত, ইউটিলিটি বিল পে, ওয়ালেট সার্ভিস, পুরস্কার বার্তা, ব্যালান্স ট্রান্সফার, ভয়েস মেইল, ফ্রেন্ডস অ্যান্ড ফ্যামিলি সংক্রান্ত এসএমএস।

বিটিআরসি জানিয়েছে, এসব এসএমএসের বেশির ভাগই এখন দেয়া হয় বাংলায়। বাংলায় এসএমএস দিতে অপারেটরদের অনেক আগেই নির্দেশনা দিয়েছে।

গতকাল ২০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলতি মাসে অপারেটররা গ্রাহকদের যে পরিমাণ এসএমএস দিয়েছে তার ৮৭ শতাংশই বাংলা।

এমনকি গ্রাহকদের বিরক্তিকর এসএমএস কমাতে উদ্যোগী হয়ে প্রমোশনাল এসএমএস বন্ধ করার সেবাও চালুর নির্দেশ দেয় বিটিআরসি। বিষয়টি নিয়ে গ্রাহকদের সচেতন করতেও কাজ করে সংস্থাটি। তার পরও এ সেবা পুরো চালু করা সম্ভব হয়নি।

বিটিআরসি ২০১৮ সালে রাত ১২টার পর থেকে ভোর পর্যন্ত গ্রাহকদের যেন কোনো এসএমএস না দেয়, সে বিসয়ে অপারেটরদের নির্দেশনাও দেয়।

বায়তুল মোকাররম থেকে মিছিল, কাকরাইলে সংঘর্ষ

বায়তুল মোকাররম থেকে বের হয়ে স্লোগান দেয়া মুসল্লিদের সঙ্গে সংঘর্ষে পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত হয়।

নিজস্ব প্রতিবেক: জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে জুমার নামাজ শেষে নাইটিঙ্গেল মোড় ও পল্টন এলাকায় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষে ৫ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে।

এ ঘটনায় আটক করা হয়েছে ৪ জনকে।

জুমার নামাজের আগে গেট বন্ধ করাকে কেন্দ্র করে বায়তুল মোকাররমে উত্তেজনা শুরু হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার দুপুর ১টা ২৫ মিনিটে মসজিদের উত্তর পাশের একটি গেট বন্ধ করে দেয়ার নির্দেশ দেয় পুলিশ। ওই সময় একজন নিরাপত্তারক্ষী গেটটি বন্ধ করে দিলে নামাজ পড়তে আসা একদল মানুষ উত্তেজিত হয়ে পড়ে।

ওই নিরাপত্তারক্ষীকে ধাওয়া দেয় উত্তেজিত লোকজন। ইসলামী ফাউন্ডেশনের গেটের দিকে ছুটলে নিরাপত্তারক্ষীকে রক্ষা করেন দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা। পরে বন্ধ করে দেয়া গেটের তালা ইট দিয়ে ভেঙে ফেলে বিক্ষোভকারীরা।

নামাজ শেষ হওয়ার পরপরই একটি দল মিছিল নিয়ে পল্টন মোড় হয়ে নাইটিঙ্গেল মোড়ের দিকে অগ্রসর হয়। এ সময় সড়কটিতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

বিক্ষোভকারীরা নানা স্লোগান দিতে থাকে। নাইটিঙ্গেল মোড়ে পুলিশের বাধায় পড়তে হয় তাদের।

এর পরপরই বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়ে। জবাবে পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এক পর্যায়ে ছোড়া হয় কাঁদানে গ্যাস।

এ বিষয়ে পুলিশের রমনা জোনের সহকারী কমিশনার বায়েজিদুর রহমান বলেন, ‘উত্তেজিত বিক্ষোভকারীদের একটি দল বায়তুল মোকাররম মসজিদ থেকে পল্টন হয়ে নাইটিঙ্গেল মোড়ে আসে। এ সময় তাদের পুলিশ ব্যারিকেড দেয়।

‘পুলিশি বাধা অতিক্রম করতে তারা ইট-পাটকেল ও লাঠি দিয়ে পুলিশের ওপর আক্রমণ চালায়। আক্রমণ প্রতিহত করতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে এবং টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে।’

তিনি জানান, বিক্ষোভকারীদের হামলায় অন্তত ৫ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।

ঘটনাস্থল থেকে তিন বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে। পাশাপাশি পল্টন মোড় থেকেও একজনকে আটক করা হয়।

বিক্ষোভকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়লে দুপুর আড়াইটা থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করে। যান চলাচলও শুরু হয় বন্ধ থাকা সড়কটিতে।

দুর্গোৎসবের বিজয়া দশমীকে কেন্দ্র করে জুমার নামাজের পর যাতে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সে জন্য সকাল থেকেই বায়তুল মোকাররম মসজিদ এলাকায় সতর্ক অবস্থান নেয় পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবি সদস্যরা।

১১ ঘণ্টা পর ঢাকায় মুঠোফোন ইন্টারনেট সেবা চালু

প্রতীকী ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক: ১১ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর ঢাকা বিভাগে চালু হলো মুঠোফোনে ইন্টারনেট সেবা। মোবাইল অপারেটর সূত্র জানিয়েছে, আজ শুক্রবার বিকেল চারটা থেকে ঢাকা বিভাগে মুঠোফোনে থ্রি-জি ও ফোর-জি ইন্টারনেট সেবা চালু করা জন্য বলা হয়। বিকেল সাড়ে চারটায় মুঠোফোন গ্রাহকেরা ইন্টারনেট সংযোগ পেতে শুরু করেন।

অপারেটর সূত্র আরও জানিয়েছে, বরিশাল বিভাগে বিকেল পাঁচটা ও খুলনা বিভাগে সন্ধ্যা ছয়টা থেকে ইন্টারনেট সেবা স্বাভাবিক করার জন্য বলা হয়েছে। অন্য বিভাগগুলোতে কখন মুঠোফোনে ইন্টারনেট সেবা চালু হবে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

এর আগে আজ ভোর পাঁচটা থেকে সারা দেশে মুঠোফোনে থ্রি-জি ও ফোর-জি সেবা বন্ধ হয়ে যায়। এর কারণ জানতে চাইলে সকালে ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘কারিগরি ত্রুটির কারণে এটা হয়ে থাকতে পারে। হয়তো কোনো অনিবার্য পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, যেটা এড়ানো যায়নি। তবে আমার মনে হয়, সমস্যাটি বেশিক্ষণ থাকবে না। সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) হিসাবে, দেশে গত আগস্ট শেষে মুঠোফোনে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী দাঁড়িয়েছে ১১ কোটি ৫৪ লাখ।

কুমিল্লায় গত বুধবার প্রথমে মুঠোফোনে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করা হয়। পরদিন বৃহস্পতিবার পাঁচটি জেলায় মুঠোফোন ইন্টারনেট সেবা বন্ধ হয়ে যায়। এই জেলাগুলো হলো চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, রাজশাহী ও চাঁদপুর। এরপর আজ সকাল থেকে সারা দেশেই মুঠোফোনে ইন্টারনেট সেবা পাওয়া যাচ্ছিল না। তবে গ্রাহকেরা ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারছিলেন।

আজ সকালে গ্রামীণফোনের হেড অব এক্সটার্নাল কমিউনিকেশন মুহাম্মদ হাসান এক বিবৃতিতে বলেছিলেন, ‘অনিবার্য কারণবশত আমাদের ফোর–জি ও থ্রি–জি সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। সেবা ফিরিয়ে আনতে আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ করছি।’

ভোর থেকে সারা দেশে মুঠোফোনে থ্রিজি-ফোরজি ইন্টারনেট সেবা বন্ধ

প্রতীকী ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে মুঠোফোনে দ্রুতগতির ইন্টারনেট সেবা না পাওয়ার খবর আসছে। অপারেটর সূত্রে জানা গেছে, আজ শুক্রবার ভোর পাঁচটা থেকে মুঠোফোনে দ্রুতগতির থ্রিজি ও ফোরজি ইন্টারনেট বন্ধ রয়েছে।

ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেছেন, ‘কারিগরি ত্রুটির কারণে এটা হয়ে থাকতে পারে। হয়তো কোনো অনিবার্য পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল যেটা এড়ানো যায়নি। তবে আমার মনে হয়, সমস্যাটি বেশিক্ষণ থাকবে না। সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

এ বিষয়ে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) বক্তব্য প্রাথমিকভাবে পাওয়া যায়নি।

গ্রামীণ ফোনের হেড অফ এক্সটার্নাল কমিউনিকেশন মুহাম্মদ হাসান জানান, ‘অনিবার্য কারণবশত আমাদের ফোরজি ও থ্রিজি সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। সেবা ফিরিয়ে আনতে আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ করছি।’ তিনি সাময়িক এই অসুবিধার জন্য গ্রামীণফোনের পক্ষ থেকে দুঃখপ্রকাশ করেন।

আজ সকালে খুলনা থেকে একজন গণমাধ্যমকর্মী ফোনে জানান তিনি মুঠোফোনে ইন্টারনেট সংযোগ পাচ্ছেন না। ইন্টারনেট বন্ধ রয়েছে কি না জানতে চান তিনি।

রাজধানীর বাড্ডার বাসিন্দা মো. আলআমিন সজীব জানান, তিনি সকাল থেকেই মুঠোফোনে ডাটার মাধ্যমে ইন্টারনেট পাচ্ছেন না। তবে বাসায় ওয়াইফাই ব্যবহার করে ইন্টারনেট পাচ্ছেন।

মিরপুরের বাসিন্দা মাহবুব আলম বলেন, সকালে বাসায় তিনি ওয়াইফাই ব্যবহার করে ইন্টারনেট পেয়েছেন। বাসা থেকে বের হওয়ার পরে মুঠোফোনে ডাটায় আর ইন্টারনেট পাননি।

মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা মো. জাওয়াদ হোসেন বলেন, তিনিও সকাল থেকে মুঠোফোনে ইন্টারনেট পাচ্ছেন না।

গত বুধবার নিপ্রথমে কুমিল্লায় দ্রুতগতির মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ করা হয়। এরপর আরও পাঁচটি জেলায় ধাপে ধাপে ইন্টারনেট বন্ধ করা হয়।

দ্রুতগতির ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করা জেলাগুলো হলো, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, রাজশাহী ও চাঁদপুর। গ্রাহকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাঁরা মুঠোফোনে থ্রিজি ও ফোরজি ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারছেন না।

মোবাইল ইন্টারনেটের গতিতে সারা বিশ্বে তলানিতে বাংলাদেশ

 বিশ্বের ১১০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশে মোবাইল ইন্টারনেটের গতি সবচেয়ে কম। প্রতীকী ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিশ্বের ১১০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশে মোবাইল ইন্টারনেটের গতি সবচেয়ে কম। সদ্য প্রকাশিত ডিজিটাল কোয়ালিটি অব লাইফ (ডিকিউএল) সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান একেবারে তলানিতে। তবে সামগ্রিক ডিজিটাল মান বিবেচনায় বাংলাদেশের অবস্থান ১০৩। আগের বছরের চেয়ে বাংলাদেশ এ ক্ষেত্রে ২৫ ধাপ নেমে গেছে।

ডিকিউএল সূচক অনুযায়ী, বিশ্বের ১১০টি দেশের মধ্যে সামগ্রিক ডিজিটাল মান বিবেচনায় বাংলাদেশের অবস্থান ১০৩। এ অবস্থান এমনকি প্রতিবেশী সবগুলো দেশেরও পেছনে। সূচকে বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে ভারত, শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তান। এই তিন দেশের অবস্থান যথাক্রমে ৫৯,৮৮ ও ৯৭ তম।

প্রতি বছর বৈশ্বিক ভিপিএন সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান সার্ফশার্ক এই ডিকিউএল সূচক প্রকাশ করে। এবারও তারা এই সূচক প্রকাশ করেছে। মূলত ডিজিটাল জীবনমানের ক্ষেত্রে পাঁচটি মূল ভিতকে বিবেচনায় নিয়ে বিশ্বের ১১০টি দেশের জন্য তারা এই সূচক তৈরি করে। এই পাঁচ ভিত হলো—ইন্টারনেট সেবা গ্রহণের সামর্থ্য, ইন্টারনেটের মান, ইলেকট্রনিক অবকাঠামো, ইলেকট্রনিক নিরাপত্তা ও ই-সরকার।

ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনের চেষ্টায় অনেক আগে থেকেই সরকার কাজ করলেও নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সেবার প্রাপ্যতা, এর গতিসহ সামগ্রিক ডিজিটাল মানে এখনো অনেক পিছিয়ে বাংলাদেশ। ডিকিউএল সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান বেশ হতাশাজনক। এমনকি দক্ষিণ এশিয়ার ৩২ দেশের মধ্যে বাংলাদেশ সামগ্রিকভাবে ৩০ তম অবস্থানে রয়েছে।

ডিকিউএল-এর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এ সম্পর্কিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইন্টারনেট সেবার প্রাপ্যতা, এর স্থায়ীত্ব, নিরবচ্ছিন্নতা, মোবাইল ইন্টারনেটের গতি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারে প্রস্তুতি, নেটওয়ার্ক, ব্রডব্যান্ড সংযোগের গতি ও স্থায়ীত্ব, ইলেকট্রনিক অবকাঠামো, ইলেকট্রনিক নিরাপত্তা ইত্যাদি বিবেচনায় সার্বিকভাবে ০ থেকে ১ মানদণ্ডে বাংলাদেশ পেয়েছে মাত্র দশমিক ৩৪ পয়েন্ট।

ইন্টারনেট সেবা গ্রহণের জন্য সর্বনিম্ন ইন্টারনেট প্যাকেজ কিনতে একজন লোককে কতক্ষণ কাজ করতে হয়, তা দিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে একটি দেশের মানুষের ইন্টারনেট সেবার প্রাপ্যতার বিষয়টি। এই সূচকে বাংলাদেশ মাত্র দশমিক শূন্য ২ পয়েন্ট পেয়েছে। এ ক্ষেত্রে বিশ্বের ১১০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৮৪ তম। তবে মোবাইল ইন্টারনেটের ক্ষেত্রে কিছুটা এগিয়ে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান ৫৬ তম। ইন্টারনেট সংযোগের মান ও ইলেকট্রনিক অবকাঠামো—উভয় ক্ষেত্রেই বাংলাদেশের অবস্থান ৮৯ তম। আর ইলেকট্রনিক নিরাপত্তায় অনুমিতভাবেই পিছিয়ে বাংলাদেশ। এ ক্ষেত্রে অবস্থান ১০৩ তম। আর ই-সরকার ব্যবস্থা বিবেচনায় বাংলাদেশের অবস্থান ৮৬ তম।

তবে ব্রডব্যান্ড সংযোগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান কিছুটা ভালো। এ ক্ষেত্রে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগের স্থায়ীত্বে বাংলাদেশ বেশ ভালো করেছে, ১১০ দেশের মধ্যে অবস্থান ১৬। আর এর গতির প্রবৃদ্ধি বিবেচনায় অবস্থান ৪৪ তম। তবে মোবাইল ইন্টারনেট সংযোগের স্থায়ীত্বের ক্ষেত্রে অবস্থান ৫৩ তম। সামগ্রিক নেটওয়ার্ক বিবেচনায় অবস্থান ৯৬ তম।

শিশুদের মধ্যেও বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা

ঢাকার শিশু হাসপাতালে চিকিৎসা চলছিল শিশু রিফাতের। ১২ জুলাই করোনায় আক্রান্ত হলে তাকে করোনা ইউনিটে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ছবি সংগৃহীত।
 
নিজস্ব প্রতিবেদন:  চার বছরের তাওসিফ খিঁচুনির সমস্যা নিয়ে শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয় মাসখানেক আগে। এর মধ্যেই তার করোনা ধরা পড়ে। ঢাকা শিশু হাসপাতালে করোনা ওয়ার্ডের শিশুটির শয্যাপাশে আছেন মা। খালা তাসলিমা থাকেন ওয়ার্ডের বাইরে মাদুর বিছিয়ে, যেখানে অন্য শিশু রোগীর স্বজনেরাও থাকেন পালা করে।

গতকাল শুক্রবার ঢাকা শিশু হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ১৮ জন রোগী ছিল। ইউনিটের ২০ শয্যার সব কটিই পূর্ণ ছিল বুধবারে। বৃহস্পতিবার ১০ দিন বয়সী এক নবজাতক মারা যায়, যার রক্তে সংক্রমণ ও নিউমোনিয়া ছিল। পরে করোনাও ধরা পড়ে।
 
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুদের মধ্যে যারা আক্রান্ত হচ্ছে, তাদের বেশির ভাগই অন্যান্য জটিল রোগে আগে থেকেই আক্রান্ত

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও প্রতিদিন গড়ে করোনায় আক্রান্ত ২০ শিশু ভর্তি হচ্ছে।

সারা দেশে করোনা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। আক্রান্ত বাড়ছে শিশুদের মধ্যেও। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল পর্যন্ত করোনায় শূন্য থেকে ১০ বছর বয়সী ৫৪ জন মারা গেছে। এ ছাড়া ১১ থেকে ২০ বছর বয়সীদের মধ্যে মারা গেছে ১০৯ জন। গতকাল অধিদপ্তর ২৪ ঘণ্টায় ১১ থেকে ২০ বছর বয়সী ২ জনের মৃত্যুর তথ্য দেয়।

নারায়ণগঞ্জে পরীক্ষার পর করোনা ধরা পড়ে ছয় বছরের তাহমিদের। ওর মা রুমা বলেন, জ্বর না কমার কারণে গত ৬ জুলাই ছেলেকে শিশু হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। ওর অন্য অসুখ নেই। এখন সে ভালো আছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুদের মধ্যে যারা আক্রান্ত হচ্ছে, তাদের বেশির ভাগই অন্যান্য জটিল রোগে আগে থেকেই আক্রান্ত। তাদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমে যায় এবং সহজেই তারা করোনায় সংক্রমিত হয়। যেসব শিশু মারা গেছে, তাদের প্রায় সবার জটিল রোগ ছিল। এ ছাড়া ঢাকা শিশু হাসপাতাল এক গবেষণা করে দেখেছে, নবজাতকদের ২ শতাংশ করোনায় সংক্রমিত।

শিশু হাসপাতালে এ পর্যন্ত ৫২৩ শিশু করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। মারা গেছে ৩২ জন, যাদের অন্য জটিল ছিল।

শিশু হাসপাতাল গত সপ্তাহে ১ হাজার ৪০০ নবজাতকের ওপর করা একটি গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করে। তাতে বলা হয়, নবজাতকদের ২ শতাংশ অর্থাৎ ৩২ নবজাতকের করোনা ধরা পড়ে। এর মধ্যে এক দিন বয়সী দুই নবজাতক ছিল। এ ছাড়া শরীরে করোনার উপস্থিতি নিয়ে মৃত্যু হওয়া নবজাতকের সংখ্যা ৭, যারা অন্য রোগেও আক্রান্ত ছিল।

ঢাকা শিশু হাসপাতালের রোগতত্ত্ববিদ কিংকর ঘোষ  বলেন, এক দিন বয়সী এক বাচ্চার মা ছিলেন আরেক হাসপাতালে। বাচ্চার করোনা ধরা পড়ার পর মায়ের করোনা পরীক্ষা করানো হয় এবং নেগেটিভ আসে। তিনি বলেন, যে ৩২ নবজাতকের করোনা ধরা পড়ে, তাদের ২৬ জন মায়ের করোনা পরীক্ষা করা হয়। তাতে মাত্র ৩ জনের পজিটিভ ধরা পড়ে।

তিনি বলেন, ‘গবেষণাটি থেকে আমরা ধারণা করছি যে মা ছাড়াও বাচ্চাদের অন্য যে পরিচর্যাকারী আছেন, তাঁদের মাধ্যমে বাচ্চারা আক্রান্ত হচ্ছে।’ তিনি আরও জানান, যে শিশুরা এখন করোনা ওয়ার্ডে ভর্তি আছে, তাদের সঙ্গে থাকা মায়েদের সবার করোনা পরীক্ষা করা হয়। কিন্তু অধিকাংশই আক্রান্ত নন। পাঁচ বছরের কম বয়সী বাচ্চাদের তাদের পরিচর্যাকারীদের মাধ্যমে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেশি।

বেড়েছে ঢাকা মেডিকেলেও
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগেও করোনা রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। এ বিভাগের করোনা ইউনিটে ৩১টি শয্যা আছে। গড়ে প্রতিদিন ১৮ থেকে ২০ জন ভর্তি থাকছে।

শিশু বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ইফফাত আরা শামসাদ  বলেন, বছরের শুরুতে গড়ে পাঁচ–ছয়জন করে রোগী আসত। এখন রোগী অনেক বেড়েছে। কখনো পুরো ইউনিটও ভর্তি থাকে। এ সপ্তাহে একটি শিশু মারা যায়। শিশুটির লিউকোমিয়া ছিল।

ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসা নিতে আসা এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৩২৬ শিশুর শরীরে করোনা ধরা পড়েছে। এর মধ্যে মারা গেছে ১১০ জন। এদের প্রায় সবারই অন্য রোগ ছিল।

অধ্যাপক ইফফাত আরা বলেন, যেসব শিশু অন্যান্য জটিল রোগে আক্রান্ত থাকে, তারা সহজে সংক্রমিত হয়। এ জন্য যেসব বাচ্চারা বিভিন্ন অসুখে ভুগছে, তাদের ক্ষেত্রে অভিভাবকদের বাড়তি সতর্কতা দেখাতে হবে। এই শিশুরা নাজুক থাকে।

ঢাকা শিশু হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক সৈয়দ সফি আহমেদ বলেন, বড়দের মাধ্যমেই শিশুরা করোনায় আক্রান্ত হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে শিশুদের করোনা হলেও উপসর্গ খুব সামান্য থাকে। শিশু আক্রান্ত হলে তাদের মাধ্যমে বয়স্ক ব্যক্তিদের সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। ঘরে শিশু ও বয়স্ক থাকলে স্বাস্থ্যবিধি মানার পাশাপাশি সাবধানে থাকতে হবে। বাইরে থেকে ঘরে ঢুকে শিশুদের কাছে যাওয়া যাবে না।

অ্যান্ড্রয়েডে করোনার ভ্যাকসিন কার্ড রাখার সুবিধা আসছে

অ্যান্ড্রয়েডের কোভিড কার্ডে যেভাবে করোনার ভ্যাকসিনের তথ্য দেখাবে গুগল। ফাইল ছবি।

নিজেস্ব প্রতিবেদন:
  অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনে ডিজিটাল ভ্যাকসিন কার্ড সংরক্ষণের সুবিধা চালু করছে গুগল। সেটির নাম রাখা হচ্ছে ‘কোভিড কার্ড’। স্বাস্থ্যসেবাদাতা, স্থানীয় সরকার এবং করোনার ভ্যাকসিন প্রদানে অনুমোদিত সংস্থাগুলোর সাহায্যে সেটি প্রাথমিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে চালু করা হবে। ভ্যাকসিনসংক্রান্ত তথ্যের পাশাপাশি তাতে করোনা পরীক্ষার ফল রাখার সুবিধাও আসবে।

গুগলের সাপোর্ট পেজের তথ্য অনুযায়ী, ব্যবহারকারীকে কখন এবং কোন ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে, তা থাকবে কোভিড কার্ডে। কার্ডটি ব্যবহারকারীর স্বাস্থ্যসেবাদাতার অ্যাপ, ওয়েবসাইট, এসএমএস বা ই-মেইল থেকে সংরক্ষণ করা যাবে।

ভ্যাকসিন কার্ড সংরক্ষণ করা হলে স্মার্টফোনের হোমস্ক্রিনে কোভিড কার্ডের শর্টকাট এনে রাখার অপশন চালু হবে বলে জানিয়েছে গুগল। প্রতিষ্ঠানটি আরও বলেছে, ভ্যাকসিন কার্ডের তথ্য ক্লাউডে সংরক্ষণ করবে না এবং এই তথ্যগুলো বিজ্ঞাপনের উদ্দেশ্যেও ব্যবহার করবে না তারা। গুগল অবশ্য কিছু কিছু তথ্য সংগ্রহ করবে। যেমন কোন দিন কতবার কোভিড কার্ড ব্যবহার করা হয়েছে। ভ্যাকসিন কার্ড সংরক্ষণের জন্য ফোনে গুগল পে অ্যাপের প্রয়োজন হবে না।

দ্য ভার্জের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গুগলের উদ্যোগটি প্রশংসার যোগ্য। স্মার্টফোনেই ভ্যাকসিনসংক্রান্ত ডিজিটাল কার্ড থাকলে সেটি ব্যবহারকারীদের জন্য বেশ সুবিধার হবে। তবে সেটির পূর্ণ সুবিধা মূলত স্বাস্থ্যসেবাদাতাদের ওপর নির্ভরশীল। নিউইয়র্ক ও ক্যালিফোর্নিয়ার মতো যুক্তরাষ্ট্রের কিছু কিছু অঙ্গরাজ্যের নিজস্ব ডিজিটাল ভ্যাকসিন কার্ড আছে। তবে গুগলের সেবাটি সে প্রক্রিয়া আরও সহজ করবে। 

তাহসিন সরকার বাঁধন/জেএইচ/এমএস  

মুঠোফোনের বৈধতা যাচাই শুরু

ফাইল ছবি।

নিজেস্ব প্রতিবেদন: দেশে মুঠোফোনের বৈধতা যাচাই কার্যক্রম পরীক্ষামূলকভাবে চালু হলো। আজ বৃহস্পতিবার ভার্চ্যুয়াল এক অনুষ্ঠানে কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) ব্যবস্থা চালু হলেও এ প্রক্রিয়ায় গ্রাহকের হাতে থাকা একটি মুঠোফোনও বন্ধ হবে না। তবে নতুন কেনার ক্ষেত্রে যাচাই করে কিনতে হবে।

অনুষ্ঠানে মোস্তাফা জব্বার বলেন, মানুষ যাতে নিরাপদে মুঠোফোন ব্যবহার করতে পারেন, সেটাই এই কার্যক্রমের চাওয়া। মন্ত্রী গত ৩০ জুন পর্যন্ত দেশে যেসব মুঠোফোন চালু ছিল, সেগুলোর নিবন্ধন সম্পন্ন হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়ে বলেন, কোনোভাবেই যেন কোনো গ্রাহক হয়রানির শিকার না হন।

অনুষ্ঠানে এই কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত জানান বিটিআরসির মহাপরিচালক (তরঙ্গ) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. শহিদুল আলম। তিনি জানান, মোবাইল অপারেটরদের কাছ থেকে মুঠোফোনের তথ্য স্থানান্তর হয়েছে। এর ফলে ৩০ জুনের মধ্যে নেটওয়ার্কে চালু থাকা সব মুঠোফোনের নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে।

অনুষ্ঠানে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আফজাল হোসেন, বিটিআরসির চেয়ারম্যান শ্যাম সুন্দর সিকদার, ভাইস চেয়ারম্যান সুব্রত রায় মৈত্র, কমিশনার (তরঙ্গ) এ কে এম শাহীদুজ্জামান, গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী (সিইও) ইয়াসির আজমান উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন।

বিটিআরসি মুঠোফোন বৈধ না অবৈধ, তা যাচাই করতে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) নামের এই ব্যবস্থা চালু ও পরিচালনার জন্য দরপত্র আহ্বান করে গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে। প্রযুক্তিগত সমাধান পেতে সংস্থাটি সিনেসিস আইটি নামের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে গত নভেম্বরে চুক্তি করে।

বিটিআরসি জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তিন মাস পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবস্থাটি চালানো হবে। তিনি বলেন, এই কার্যক্রম চালু হলে অবৈধ সেট শনাক্ত করা যাবে। গ্রাহকের অনুমতি ছাড়া অন্য কেউ সেট ব্যবহার করতে পারবেন না। চুরি করা সেট ব্যবহার করা যাবে না। সব মিলিয়ে সরকারের রাজস্ব ও নিরাপত্তা বাড়বে।

বাজার-সংশ্লিষ্ট লোকজনের দাবি অনুযায়ী, দেশে ২৫-৩০ শতাংশ স্মার্টফোন অবৈধভাবে আমদানি করা হয়। এর কারণে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকার রাজস্ব হারায় সরকার।

নিবন্ধন যেভাবে:বিটিআরসি জানিয়েছে, এনইআইআরের কার্যক্রম ১ জুলাই থেকে পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হলে গ্রাহকের জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর ও সিম নম্বরের সঙ্গে ব্যবহৃত মুঠোফোনের আইএমইআই সম্পৃক্ত করে নিবন্ধন করা হবে। ১ জুলাই থেকে নতুন যেসব মুঠোফোন নেটওয়ার্কে সংযুক্ত হবে, তা প্রাথমিকভাবে নেটওয়ার্কে সচল করে এনইআইআরের মাধ্যমে বৈধতা যাচাই করা হবে। বৈধ হলে মুঠোফোনটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিবন্ধিত হয়ে নেটওয়ার্কে সচল থাকবে।
বিটিআরসি বলছে, যেসব মুঠোফোন বৈধ নয়, সেগুলো সম্পর্কে গ্রাহককে খুদে বার্তা বা এসএমএসের মাধ্যমে জানানো হবে। এরপর পরীক্ষাকালে তিন মাসের জন্য নেটওয়ার্কে সংযুক্ত রাখা হবে। এরপর সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কেনার আগে  করণীয় : মুঠোফোন কেনার আগে করণীয় কী, তা-ও জানিয়েছে বিটিআরসি। সংস্থাটি বলছে, ১ জুলাই থেকে যেকোনো মাধ্যম (বিক্রয়কেন্দ্র, অনলাইন বিক্রয়কেন্দ্র, ই-কমার্স সাইট ইত্যাদি) থেকে মুঠোফোন কেনার ক্ষেত্রে অবশ্যই মুঠোফোনের বৈধতা যাচাই ও রসিদ সংরক্ষণ করতে হবে।
বৈধ কি না, তা যাচাইয়ের পদ্ধতি হলো, মুঠোফোনের মেসেজ অপশনে গিয়ে KYD<space>১৫ ডিজিটের IMEI নম্বরটি লিখুন। ১৬০০২ নম্বরে পাঠান। ফিরতি খুদে বার্তায় বৈধতা সম্পর্কে জানতে পারবেন।

বিদেশ থেকে আনলে:বিটিআরসি জানিয়েছে, বিদেশ থেকে ব্যক্তি পর্যায়ে বৈধভাবে কেনা বা উপহার পাওয়া মুঠোফোন সেট স্বয়ংক্রিয়ভাবে নেটওয়ার্কে সচল হবে। এরপর ১০ দিনের মধ্যে অনলাইনে তথ্য/দলিল জমা দিয়ে নিবন্ধন করার জন্য ব্যবহারকারীকে খুদে বার্তা পাঠানো হবে। নিবন্ধন সম্পন্ন করলে মুঠোফোনটি বৈধ হিসেবে বিবেচিত হবে। নিবন্ধন না করলে মুঠোফোন বৈধ হিসেবে বিবেচিত হবে না এবং সেগুলো সম্পর্কে গ্রাহককে খুদেবার্তার মাধ্যমে জানিয়ে পরীক্ষার সময়ের জন্য নেটওয়ার্কে সংযুক্ত রাখা হবে। এরপর সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিবন্ধনের পদ্ধতি হলো: neir.btrc.gov.bd ওয়েবসাইটে গিয়ে ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট নিবন্ধন করুন। Special Registration সেকশনে গিয়ে মুঠোফোনের আইএমইআই নম্বরটি দিন। প্রয়োজনীয় নথির ছবি/স্ক্যান করা অনুলিপি (যেমন পাসপোর্টের ভিসা/ ইমিগ্রেশনের তথ্যাদি, ক্রয় রসিদ প্রভৃতি) আপলোড করুন ও সাবমিট বাটনে ক্লিক করুন।

মুঠোফোনটি বৈধ হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিবন্ধিত হবে। বৈধ না হলে খুদে বার্তার মাধ্যমে গ্রাহককে জানিয়ে পরীক্ষার সময়ের জন্য নেটওয়ার্কে সংযুক্ত রাখা হবে। পরীক্ষামূলক সময় শেষ হলে সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মোবাইল অপারেটরদের গ্রাহক সেবাকেন্দ্র বা কাস্টমার কেয়ার সেন্টারের গিয়েও এ বিষয়ক সেবা নেওয়া যাবে।

উল্লেখ্য, বিদ্যমান ব্যাগেজ রুলস অনুযায়ী একজন ব্যক্তি বিদেশ থেকে শুল্কবিহীন সর্বোচ্চ দুটি ও শুল্ক দিয়ে আরও ছয়টি মুঠোফোন সঙ্গে নিয়ে আসতে পারেন।
নিবন্ধন বাতিলের প্রক্রিয়া

বিটিআরসি জানিয়েছে, পরীক্ষামূলকভাবে এইআইআর ব্যবস্থা চলাকালে তিন মাস নিবন্ধন বাতিল ছাড়া একজন ব্যক্তি তাঁর মুঠোফোন আরেক জনকে দিয়ে দেওয়া ও বিক্রি করতে পারবেন। একজন গ্রাহক নিজের নামে নিবন্ধন করা যেকোনো সিম দিয়ে মুঠোফোন ব্যবহার করতে পারবেন। পরীক্ষামূলক সময় পেরোনোর পর নিবন্ধন বাতিল বা ডি-রেজিস্ট্রেশনের ব্যবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হবে।

যাচাই করুন নিজের মুঠোফোন: গ্রাহকেরা এখন যেসব ফোন ব্যবহার করছেন তার বর্তমান অবস্থা যাচাই করতে পারবেন। মুঠোফোন থেকে *১৬১৬১# নম্বরে ডায়াল করুন। মুঠোফোনের পর্দায় ভেসে ওঠা Status Check অপশন বাছাই করুন। স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি বক্স আসবে যেখানে মুঠোফোন সেটের ১৫ ডিজিটের আইএমইআই নম্বরটি লিখে পাঠাতে হবে। এরপর হ্যাঁ/না অপশন-সংবলিত একটি অটোমেটিক বক্স এলে হ্যাঁ বাছাই করে নিশ্চিত করুন। ফিরতি খুদে বার্তার মাধ্যমে মুঠোফোনের হালনাগাদ অবস্থা জানানো হবে।
 
neir.btrc.gov.bd লিংকের মাধ্যমে বিদ্যমান সিটিজেন পোর্টাল অথবা মোবাইল অপারেটরের কাস্টমার কেয়ার সেন্টারে গিয়েও এসব সেবা নেওয়া যাবে।
 
বিটিআরসি বলছে, এনইআইআর-সম্পর্কিত যেকোনো বিষয়ে জানার ক্ষেত্রে সংস্থাটির হেল্পডেস্ক নম্বর ১০০ অথবা মোবাইল অপারেটরদের কাস্টমার কেয়ার নম্বর ১২১-এ ডায়াল করে এবং অপারেটরদের কাস্টমার কেয়ার সেন্টার থেকে জানা যাবে।

তাহসিন সরকার বাঁধন/জেএইচ/এমএস

স্বত্ব © ২০২৫ সংবাদ সাতদিন