এলজিইডি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
এলজিইডি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

ঈশ্বরদীতে প্রায় ৮ কোটি টাকার সেতুতে ফাটল ও ভাঙন, ভোগান্তিতে ১০ গ্রামের মানুষ


নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে প্রায় ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি সংযোগ সেতু উদ্বোধনের আগেই বিভিন্ন জায়গায় ভেঙে পড়েছে। এদিকে সেতুর এক পাশে এখনো সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হয়নি। দীর্ঘ ছয় বছর ধরে নির্মাণকাজ চললেও সংযোগ সড়ক না থাকা এবং ভাঙন দেখা দেওয়ায় দুই পাশের ১০ গ্রামের প্রায় ৪০ হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।


ঈশ্বরদী উপজেলার লক্ষীকুণ্ডা ইউনিয়নের চর কুরুলিয়া গনির ঘাটে সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দুর্ভোগ কমাতে ২০২১ সালের ১১ এপ্রিল ৭ কোটি ৪ লাখ ১৩ হাজার ৭৪৯ টাকা ব্যয়ে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। কাজটি পায় যশোরের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আইসিএল প্রাইভেট লিমিটেড।

তবে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে না পারায় তিন দফা সময় বাড়ানো হয়। সেই সঙ্গে বাড়ে প্রকল্পের ব্যয়ও। প্রায় ৪৫ লাখ টাকা বাড়িয়ে শেষ পর্যন্ত সেতুটির নির্মাণ ব্যয় দাঁড়ায় ৭ কোটি ৪৯ লাখ ৪৯ হাজার ৮৩৩ টাকা।

স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, দীর্ঘসূত্রতার পাশাপাশি সেতু নির্মাণে নিম্নমানের কাজ করা হয়েছে। উদ্বোধনের আগেই সংযোগ সড়কে ভাঙন দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে প্রায় সাড়ে ৭ কোটি টাকা ব্যয় হলেও এখনো এক পাশের সংযোগ সড়ক তৈরি হয়নি। ফলে সেতুটি কোনো কাজেই আসছে না।

এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে বর্ষা মৌসুম হওয়ায় সংযোগ সড়কের কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা।

পাবনা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম বলেন, অন্য পাশে আরেকটি কাজ চলমান রয়েছে। প্রায় ৬৩ লাখ টাকার ওই কাজের মেয়াদ এখনো রয়েছে। আশা করা হচ্ছে, বৃষ্টি কমে গেলে সেতুর অন্য পাশের কাজ শেষ করা সম্ভব হবে।

ঈশ্বরদীতে ৫ কিলোমিটার সড়ক মেরামত, হাসি ফুটেছে সবজিচাষিদের মুখে

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদী উপজেলার লক্ষ্মীকুন্ডা গ্রাম থেকে কদিমপাড়ার দিকে হেঁটে চললে কয়েক মাস আগেও চোখে পড়ত করুণ দৃশ্য। গভীর খানাখন্দে ভরা মেঠো পথে সবজি বোঝাই ভ্যান আটকে থাকত কাদা-মাটিতে। ধুলো আর কাদার যন্ত্রণায় বাজারে পৌঁছাতে পৌঁছাতেই অর্ধেকের বেশি তাজা সবজি নষ্ট হয়ে যেত, মেলেনি ন্যায্য দামও।

তবে সেই দীর্ঘদিনের দুর্ভোগে এখন লেগেছে পরিবর্তনের হাওয়া। গ্রামীণ সড়ক মেরামত প্রকল্পের আওতায় লক্ষ্মীকুন্ডা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে কদিমপাড়া হাট হয়ে বাবুলচারা পর্যন্ত বিস্তৃত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার সড়ক নতুন রূপ পেয়ে নতুন প্রাণ ফিরিয়েছে চারপাশের ১০টি গ্রামে। মেঠো পথ রূপ নিয়েছে মসৃণ পাকা রাস্তায়, যা মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে পুরো অঞ্চলের গ্রামীণ অর্থনীতির।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের আওতায় ‘লক্ষ্মীকুন্ডা ইউপি কদিমপাড়া হাট আরএইচডি হয়ে বাবুলচারা সড়ক’ পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রায় ২ কোটি ৬৪ লাখ ৬১ হাজার টাকা ব্যয়ে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে কাজ শুরুর পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সংস্কার শেষ হয়েছে। সম্পূর্ণ নতুনভাবে প্রশস্তকরণ ও পুনর্নির্মাণ শেষ হওয়ায় সড়ক দিয়ে এখন দিন-রাত নির্বিঘ্নে যানবাহন চলাচল করছে।

লক্ষীকুন্ডা, কদিমপাড়া, দাদাপুর, কামালপুর, ছিলিমপুর ও বিলকেদার এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, সবজি উৎপাদনকারী এসব গ্রামের মাঠে লাউ, করলা, শসা ও কলাসহ নানা জাতের ফসলের বাম্পার ফলন হয়েছে। পাকা সড়ক হওয়ায় মাঠের পাশ থেকেই ভ্যান, পিকআপ ও ট্রাকে করে মুহূর্তে এসব তাজা সবজি পৌঁছে যাচ্ছে ছিলিমপুর ও কামালপুরের স্থানীয় আড়তে। সেখান থেকে তা ছড়িয়ে পড়ছে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পাইকারি বাজারে। সময় ও পরিবহন খরচ অর্ধেক কমে যাওয়ায় কায়িক শ্রমের উপযুক্ত মূল্য পাচ্ছেন কৃষকেরা।

সড়কের সুফল কেবল কৃষি উৎপাদনেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বদলে দিয়েছে পুরো এলাকার জনজীবনও। আগে পথ বেহাল থাকায় মধ্যরাতে মুমূর্ষু রোগীকে হাসপাতালে নেওয়া কিংবা বর্ষায় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের স্কুলে যাওয়া ছিল এক মহা যুদ্ধ। এখন সহজেই দূর হয়েছে সেই যাতায়াত কষ্ট।

যোগাযোগ ব্যবস্থার এই আমূল পরিবর্তনে উচ্ছ্বসিত স্থানীয় বাসিন্দারাও। বাবুলচারা গ্রামের ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন জানান, কৃষিপ্রধান এই অঞ্চলে ভালো যোগাযোগব্যবস্থা অত্যন্ত জরুরি ছিল। মানসম্মতভাবে কাজটি সম্পন্ন হওয়ায় এখন কৃষক সরাসরি আড়তে ফসল পাঠাতে পারছেন।

একই কথা জানান বিলকেদার গ্রামের কৃষক জিন্নাহ মন্ডল। তিনি বলেন, আগে খেত থেকে সবজি তুলে সময়মতো হাটে নেওয়া মারাত্মক কষ্টকর ছিল। পরিবহন খরচ যেমন বেশি হতো, তেমনি উপযুক্ত দামও মিলত না। এখন সড়ক মসৃণ হওয়ায় সময় ও খরচ দুটোই কমেছে, দামও ভালো পাওয়া যাচ্ছে।

ছিলিমপুর গ্রামের বেলাল উদ্দিন বলেন, ‘আগে মুমূর্ষু রোগী বা গর্ভবতী মায়েদের হাসপাতালে নিতে চরম বিপদে পড়তে হতো। বেহাল দশার কারণে শিক্ষার্থীরাও সময়মতো স্কুলে যেতে পারত না। এখন দ্রুত যাতায়াত করা যাচ্ছে। ফসল উৎপাদন থেকে বিক্রি পর্যন্ত এই সড়ক বড় উপকারে আসছে।’

পাবনা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম বলেন, কৃষিপ্রধান এই অঞ্চলে ভালো যোগাযোগব্যবস্থা অত্যন্ত জরুরি। সড়কটি দীর্ঘদিন সংস্কারহীন থাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের কষ্ট হচ্ছিল। তাই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মানসম্মতভাবে কাজটি শেষ করা হয়েছে। কৃষকেরা সরাসরি আড়তে ফসল পৌঁছাতে পারছেন, যা সার্বিক অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখছে। পর্যায়ক্রমে পাবনার সব কৃষিপ্রধান গ্রামীণ সড়কই আধুনিক ও উন্নত করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।

ঈশ্বরদীতে সংযোগ সড়কহীন সেতু, দুর্ভোগে ৪০ হাজার মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক: দীর্ঘ ছয় বছরেও শেষ হয়নি ঈশ্বরদী উপজেলার লক্ষীকুন্ডা ইউনিয়নের চরকুরুলিয়া গনির ঘাট এলাকায় সেতু নির্মাণকাজ। উল্টো উদ্বোধনের আগেই পদ্মার শাখা নদীর ওপর প্রায় সাড়ে সাত কোটি টাকায় নির্মিত এই সেতুর বিভিন্ন অংশে ফাটল ও ভাঙন দেখা দিয়েছে। দুই পাশে সংযোগ সড়ক  না থাকায় সেতুটি এখন স্থানীয়দের কোনো কাজেই আসছে না। ফলে চরম ক্ষোভ ও হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন দুপাড়ের অন্তত ৪০ হাজার বাসিন্দা।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, চরকুরুলিয়া এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা সহজ করতে ২০২১ সালে ৯৯ মিটারের এই সেতু নির্মাণ শুরু হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে প্রকল্পটির খরচ ধরা হয়েছিল ৭ কোটি ৪ লাখ ১৩ হাজার ৭৪৯ টাকা। কাজ পায় যশোরের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘আইসিএল প্রাইভেট লিমিটেড’। নির্ধারিত সময়ে শেষ না হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি তিন দফায় সময় বাড়িয়ে নেয়। একই সঙ্গে প্রকল্পটির ব্যয় প্রায় অর্ধকোটি টাকা বাড়িয়ে চূড়ান্ত পর্যায়ে ৭ কোটি ৪৯ লাখ ৪৯ হাজার ৮৩৩ টাকা করা হয়।

দীর্ঘদিন ধরে ঢিলেঢালাভাবে চলার পর সম্প্রতি মূল কাঠামোর কাজ শেষ হলেও তা উদ্বোধনের উপযোগী হয়নি। স্থানীয়দের অভিযোগ, শুরু থেকেই নির্মাণে চরম নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে চালুর আগেই সেতুর বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে, যা দেখে মনে হয় বহুকালের পুরোনো জরাজীর্ণ অবকাঠামো।

সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুর মূল অংশ শেষ হলেও দুই পাশে সংযোগ সড়ক করা হয়নি। রাস্তা না থাকায় সাধারণ মানুষ বা যানবাহন কেউ সেতুতে উঠতে পারছেন না। এর ফলে ওই অঞ্চলের কৃষকদের উৎপাদিত ফসল বাজারে নিতে বাড়তি প্রায় পাঁচ কিলোমিটার পথ ঘুরে যাতায়াত করতে হচ্ছে।

অবিলম্বে এই দুর্নীতি ও অনিয়মের নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। একই সঙ্গে মানসম্মত সংযোগ সড়ক তৈরি করে দ্রুত সেতুটি চলাচলের উপযোগী করার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।

অনিয়মের বিষয়ে বক্তব্য জানতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কাউকেই পাওয়া যায়নি।

তবে এলজিইডি পাবনার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মনিরুল ইসলাম জানান, সেতুটির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে তাঁরা অবগত। দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্বত্ব © ২০২৬ সংবাদ সাতদিন