কর্মঘণ্টা ও ক্ষতিপূরণের দাবিতে প্রাণ-আরএফএলের শ্রমিকদের বিক্ষোভ, মহাসড়ক অবরোধ

নিজস্ব প্রতিবেদন:  শ্রম আইন অনুযায়ী বেতন নির্ধারণ, নির্ধারিত কর্মঘণ্টা নিশ্চিত করা, প্রভিডেন্ট ফান্ড চালু, দুর্ঘটনায় অঙ্গহানির শিকার শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ ও সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত স্ববেতনে চাকরি বহাল রাখাসহ বিভিন্ন দাবিতে বিক্ষোভ ও মহাসড়ক অবরোধ করেছেন প্রাণ আরএফএল পাবনা প্রোডাক্টস লিমিটেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

কর্মসূচি থেকে নারী শ্রমিকদের মাতৃত্বকালীন ভাতা ও ছয় মাসের স্ববেতনে ছুটি প্রদান, কারখানার ভেতরের অনিয়ম-দুর্নীতি বন্ধ এবং অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের অপসারণের দাবিও জানানো হয়।

মঙ্গলবার সকালে ঈশ্বরদী-পাবনা মহাসড়কের কালিকাপুর পাকুড়িয়া এলাকায় এ কর্মসূচি পালন করেন বিক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা। প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে চলা এ অবরোধের কারণে পাবনার সঙ্গে রাজশাহী, কুষ্টিয়া, বগুড়া, রংপুর ও ঈশ্বরদীর সড়ক যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। মহাসড়কের দুই পাশে কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হলে চরম দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা।

খবর পেয়ে ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার, ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশাদুর রহমান এবং স্থানীয় বিএনপি নেতা শরিফুল ইসলাম তুহিন ঘটনাস্থলে যান। তাঁরা শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁদের দাবি-দাওয়া কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করে সমাধানের আশ্বাস দিলে শ্রমিকেরা অবরোধ প্রত্যাহার করেন। এরপর ওই সড়কে যান চলাচল শুরু হয়।

আন্দোলনকারী শ্রমিক নেতা নাজমুল হোসেন বলেন, শ্রম আইন শতভাগ বাস্তবায়ন, সরকারি ছুটির দিনে কারখানা বন্ধ রাখা, বিনা মূল্যে যাতায়াতের সুবিধা, বিরতির সময়কে ওভারটাইমের অন্তর্ভুক্ত করা এবং অন্যায়ভাবে ছাঁটাই বন্ধ করতে হবে। সেই সঙ্গে এককালীন বোনাসসহ আইনগত সব সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতের পাশাপাশি দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের অপসারণ করতে হবে। দাবি না মানলে আন্দোলন চলবে।

জুলাই মাসের বকেয়া বেতনের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের সহকারী হিসাবরক্ষক আবু তাহের জানান, কারিগরি জটিলতার কারণে পরিশোধে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। দ্রুতই এ সমস্যার সমাধান করে বেতন দেওয়া হবে।

দাশুড়িয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম তুহিন বলেন, সাধারণ মানুষের ভোগান্তির কথা ভেবে শ্রমিকদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁদের যৌক্তিক দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

ঈশ্বরদী থানার ওসি আশাদুর রহমান জানান, অবরোধ তুলে নেওয়ার পর উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ এই রুটের যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।

পরিস্থিতি পর্যালোচনায় প্রাণ আরএফএল পাবনা প্রোডাক্টস লিমিটেডের এজিএম জাকির হোসেন জানান, শ্রমিকদের উপস্থাপন করা দাবিগুলো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। এ কারণে আগামী সাত দিনের জন্য কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার বলেন, পুলিশ প্রশাসন থেকে উভয় পক্ষের সঙ্গেই আলোচনা করা হয়েছে। কোম্পানি কর্তৃপক্ষকে শ্রমিকদের সুনির্দিষ্ট ও যৌক্তিক দাবিগুলো বিবেচনার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

স্বত্ব © ২০২৬ সংবাদ সাতদিন