![]() |
| যুক্তরাষ্ট্রে ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ। ফাইল ছবি (সংগৃহীত) |
নিজস্ব প্রতিবেদক: যুক্তরাষ্ট্রে আবারও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ। দেশটিতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে ৩৯ থেকে ৫০ শতাংশই জেএন.১ উপধরনে আক্রান্ত বলে জানিয়েছে মার্কিন রোগনিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি)।
সংক্রমণের প্রবণতা বিশ্লেষণ করে এ কথা জানিয়েছে সংস্থাটি। খবর আল-জাজিরা ও রয়টার্স।
সিডিসি জানায়, গত ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে আনুমানিক ১৫ থেকে ২৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে এই উপধরনের করোনার সংক্রমণ। আক্রান্ত মানুষের মধ্যে এ ধরন সবচেয়ে বেশি ছড়িয়েছে বলছে সিডিসি। এ ছাড়া যে হারে উপধরনটি ছড়াচ্ছে, তাতে এটি আগের ধরনগুলোর তুলনায় বেশি সংক্রামক কিংবা এটি রোগ-প্রতিরোধব্যবস্থা ভেদ করতে বেশি পারদর্শী ধারণা করছে মার্কিন রোগনিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র।
মঙ্গলবার জেএন.১ উপধরনকে ‘ভেরিয়েন্ট অব ইন্টারেস্ট’ হিসাবে ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে প্রথমবার এই ধরনটি শনাক্তের পর এখন পর্যন্ত ৪১টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে এটি।
তবে এখন পর্যন্ত যেসব তথ্য পাওয়া গেছে, তার ভিত্তিতে এই উপধরনে আক্রান্ত ব্যক্তিদের স্বাস্থ্যঝুঁকি কম বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। সিডিসি বলেছে, জেএন.১-এর কারণে সংক্রমণ ও হাসপাতালে ভর্তির হার বাড়বে কি না তা বলার সময় এখনো আসেনি। তবে করোনা মোকাবিলায় বর্তমানে যেসব টিকা প্রয়োগ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসাপদ্ধতি ব্যবহার করা হয়, সেগুলো জেএন.১-এর ক্ষেত্রেও কার্যকর হবে।
ধারণা করা হচ্ছে, আক্রমণের আরেক উপধরন বিএ.২.৮৬ ধরনের তুলনায় জেএন.১-এর স্পাইক প্রোটিনের অতিরিক্ত পরিবর্তনের কারণে সব অঞ্চলে জেএন.১ দ্রুত ছড়াচ্ছে। বিএ.২.৮৬ ধরন থেকেই জেএন.১-এর উৎপত্তি।
এদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ঝুঁকিসংক্রান্ত এক পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, বিশেষ করে, যেসব দেশে শীত মৌসুম শুরু হচ্ছে, সেখানে ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়াজনিত অন্য সংক্রমণগুলোর পাশাপাশি এ ধরনের কারণে সারস-কভ-২ (করোনাভাইরাস)-এর প্রকোপ বেড়ে যেতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সবাইকে আরও সতর্ক হওয়ার অনুরোধ জানিয়ে বলেছে, কিছু স্বাস্থ্য সুরক্ষা মেনে চলতে। এর ভেতর জনাকীর্ণ ও বদ্ধ জায়গায় মাস্ক পরা, কাশি বা হাঁচির সময় নাক ও মুখ ঢেকে রাখা, কোভিড এবং টিকার নতুন নতুন তথ্য সম্পর্কে নিয়মিত খোঁজখবর রাখা, বিশেষ করে, যারা সংক্রমণের ঝুঁকিতে আছেন। লক্ষণ দেখা দিলে রোগ শনাক্তের জন্য দ্রুত পরীক্ষা করতে বলা হয়েছে।

