রুদ্ধশ্বাস শ্বাসরুদ্ধকর নাটকীয় ঘটনার জন্ম দিয়ে অস্ট্রেলিয়ার জয়

স্পোর্টস ডেস্ক: ক্রিকেটে ব্যাটারদের জন্য বড় একটি ইস্যু ধরা হয় ‘ফুটওয়ার্ক’। ক্রিকেট বোদ্ধাদের মুখে বলের লাইন ও মুভমেন্ট বুঝে খেলার কথা সব সময়ই শোনা যায়। তবে সেসবকে যেন বুড়ো আঙুল দেখালেন অস্ট্রেলিয়ার গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। মুম্বাইয়ের পিচে অস্ট্রেলিয়ান এই ব্যাটার রীতিমত এক পায়েই যেন বিশ্বকে নতুন কিছু দেখালেন।

গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের অবিশ্বাস্য ডাবল সেঞ্চুরিতে অসম্ভবকে সম্ভব করেছে অস্ট্রেলিয়া। বিশ্বকাপে নিজেদের অষ্টম ম্যাচে  ৭ নভেম্বর মঙ্গলবার আফগানিস্তানকে ৩ উইকেটে হারিয়েছে তারা। একই সঙ্গে তৃতীয় দল হিসেবে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে প্যাট কামিন্স বাহিনী।

মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড় স্টেডিয়ামে এ দিন আফগানিস্তানের ছুড়ে দেয়া ২৯২ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে ৯১ রানেই ৭ উইকেট হারিয়ে ফেলে অস্ট্রেলিয়া। সেখান থেকে অজিরা এই ম্যাচ জিতবে কেউ হয়তো কল্পনাও করেনি। কিন্তু গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের অপরাজিত ডাবল সেঞ্চুরিতে ভর করে অসম্ভবকে সম্ভব করেছে তারা। ৪৬.৫ ওভারে ৭ উইকেটে ২৯৩ রান করে জয় নিশ্চিত করে অস্ট্রেলিয়া। অনবদ্য ডাবল সেঞ্চুরি করে ম্যাচসেরা হয়েছেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল।

লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ট্রাভিস হেডকে হারায় অস্ট্রেলিয়া। ডাক খেয়ে প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন এই ওপেনার। এরপর ওয়ানডাউনে নেমে ঝোড়ো শুরু করেন মিচেল মার্শ। তবে খুব বেশিদূর যেতে পারেননি। নাভিনের বলে লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়ার আগে ১১ বলে করেন ২৪ রান।

মার্শ ফেরার পর আর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি আরেক ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নার। এই অভিজ্ঞ ওপেনার উইকেটে এসে সময় নিয়ে থিতু হয়েও ইনিংস বড় করতে পারেননি। সাজঘরে ফেরার আগে ২৯ বলে করেছেন ১৮ রান।

মার্কাস স্টোইনিস-জশ ইংলিশরাও রান পাননি। এই দুই ব্যাটার ফেরেন দুই অঙ্ক ছোঁয়ার আগেই। গোল্ডেন ডাক মারেন ইংলিশ আর ৬ রান করেন স্টোইনিস। মিচেল স্টার্ক ফেরেন মাত্র ৩ রান করে। মাত্র ৯১ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে অজিরা।

তবে একপ্রান্ত আগলে রেখে লড়াই চালিয়ে যান গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। শুরুটা ধীরগতিতে করলেও ফিফটির পর মারমুখী হন তিনি। এরপর মাত্র ৭৬ বলে দেখা পান তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগারের। সেঞ্চুরি করার পথে বেশ কয়েকবার জীবন ফিরে পান ম্যাক্সওয়েল।

অপর প্রান্তে তাকে যোগ্য সঙ্গ দেন অধিনায়ক প্যাট কামিন্স। সেঞ্চুরির পর আরও মারমুখী হন ম্যাক্সওয়েল। তার বাউন্ডারির ফুলঝুরিতে আস্তে আস্তে জয়ের পথে এগোতে থাকে অস্ট্রেলিয়া। ৪৭তম ওভারের পঞ্চম বলে ছক্কা হাঁকিয়ে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন ম্যাক্সওয়েল। নিজেও পূর্ণ করেন ক্যারিয়ারের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি। শেষ পর্যন্ত ম্যাক্সওয়েল অপরাজিত থাকেন ১২৮ বলে ২০১ রানের দুর্ধর্ষ ইনিংস খেলে। আর কামিন্স অপরাজিত থাকেন ১২ রানে।

আফগানদের হয়ে দুটি করে উইকেট নেন আজমতউল্লাহ ওমরযাই, রশিদ খান ও নাভিন-উল হক।

এর আগে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা খুব ভালোভাবেই করেন দুই আফগান ওপেনার রহমানউল্লাহ গুরবাজ এবং ইবরাহিম জাদরান। উদ্বোধনী জুটি থেকে আসে ৩৮ রান। গুরবাজ ২৫ বলে ২১ রানের ইনিংস খেলে আউট হলে ভাঙে এই জুটি।

এরপর ওয়ানডাউনে নামা রহমত শাহকে সঙ্গে নিয়ে এগোতে থাকেন ইবরাহিম। দুজনই বেশ ভালোভাবে ক্রিজে জমে যান। এই জুটিতে আসে ৮২ রান। দলীয় ১২১ রানের মাথায় ৪৪ বলে ৩০ রানের ইনিংস খেলে সাজঘরে ফেরেন রহমত।

তবে একপ্রান্ত আগলে রেখে ব্যাটিং চালিয়ে যান ইবরাহিম। দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ফিফটি ছুঁয়ে আরও বড় কিছুর দিকে ছুটছিলেন তিনি। এর মাঝে ভালো শুরুর আভাস দিয়েও ২৬ রানে বিদায় নেন অধিনায়ক হাশমতউল্লাহ শাহিদী।

মাঝখানে আজমতউল্লাহ ওমরযাই ১৮ বলে ২২ ও মোহাম্মদ নবি ১০ বলে ১২ রানের ইনিংস খেলে বিদায় নেন। এরপর রশিদ খানকে সঙ্গে নিয়ে ছুটতে থাকেন ইবরাহিম।

দৃষ্টিনন্দন ব্যাটিংয়ে তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগারের খুব কাছে চলে যান তিনি। বুদ্ধিদীপ্ত ব্যাটিংয়ে শেষমেশ সেঞ্চুরিটা ছুঁয়ে ফেলেন ইবরাহিম জাদরান। আফগানিস্তানের ব্যাটারদের মধ্যে বিশ্বকাপে প্রথম সেঞ্চুরি হাঁকানোর রেকর্ড গড়েন এই ওপেনার।

শেষের দিকে ঝড় তোলেন রশিদ। ইবরাহিম এবং রশিদের মারমুখী ব্যাটিংয়ে ফুলেফেঁপে বড় হতে থাকে আফগানদের ইনিংস। ১৮ বলে ৩৫ রানের ক্যামিও ইনিংস খেলে অপরাজিত ছিলেন রশিদ। অন্যদিকে ইবরাহিম খেলেন ১৪৩ বলে ১২৯ রানের ইনিংস।

অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ২ উইকেট শিকার করেন জশ হ্যাজলউড। এ ছাড়া ১টি করে উইকেট নেন অ্যাডাম জাম্পা, মিচেল স্টার্ক এবং গ্লেন ম্যাক্সওয়েল।

স্বত্ব © ২০২৫ সংবাদ সাতদিন