মঙ্গল শোভাযাত্রা: হামলার হুমকিতেও উদযাপনে নেই কমতি

মঙ্গল শোভাযাত্রা। ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলা নববর্ষের প্রথম দিনে মঙ্গল শোভাযাত্রায় হামলা হতে পারে বলে হুমকি পেয়েছেন আয়োজক কমিটির এক সদস্য। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, এবারের আয়োজন ঘিরে এই ধরনের কোনো ঝুঁকি নেই। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সবদিক দিয়ে এবারের আয়োজনকে পর্যবেক্ষণ করছে।

এদিকে মঙ্গল শোভাযাত্রার আয়োজন ঘিরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটে চলছে জোরেশোরে প্রস্তুতি। পাশাপাশি দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পহেলা বৈশাখ ও মঙ্গল শোভাযাত্রা পালন করার জন্য নির্দেশনা দিয়েছে সরকার।

বাংলা বর্ষবরণ উপলক্ষে আয়োজিত মঙ্গল শোভাযাত্রাকে ‘শিরকি কাজ’ উল্লেখ করে এই আয়োজনে হামলা হতে পারে বলে একটি চিরকুট পেয়েছেন আয়োজক কমিটির সদস্য আবতাহী রহমান। এরপর গত মঙ্গলবার তিনি শাহবাগ থানায় একটি জিডি করেছেন।

এ বিষয়ে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূর মোহাম্মদ বলেন, ‘মঙ্গলবার রাতে মঙ্গল শোভাযাত্রা আয়োজক কমিটির এক সদস্য একটি চিরকুট পেয়েছেন উল্লেখ করে জিডির আবেদন করেন। আমরা আবেদনটি গ্রহণ করেছি এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

আবতাহী রহমান জিডির আবেদনে উল্লেখ করেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে মঙ্গল শোভাযাত্রা উপলক্ষে অর্থ ও নিরাপত্তা কমিটির দায়িত্ব পালনের সময় ১১ এপ্রিল রাত ৯টা ৪৫ মিনিটের দিকে চারুকলার পশ্চিম পাশের দেয়ালে রঙের কাজ তদারকির সময় প্লাস্টিক চেয়ারের ওপর একটি সাদা কাগজ ও ৫০ টাকার নোট পাই। ওই কাগজে লেখা ছিল ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা কাজটা শিরকের, এখানে এসে ক্ষতি করো না তোমাদের, হামলা হতে পারে এনি টাইম ওই দিনের, দাজ্জালিবাহিনী পাবে না টের মোদের।’

২০১৬ সালে পহেলা বৈশাখের মঙ্গল শোভাযাত্রা জাতিসংঘের শিক্ষা, সংস্কৃতি ও বিজ্ঞানবিষয়ক সংস্থা (ইউনেসকো) সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের স্বীকৃতি পায়। করোনা মহামারির কারণে ২০২০ ও ২০২১ সালে বর্ষবরণের অনেক আয়োজন গুটিয়ে যাওয়ার মঙ্গল শোভাযাত্রাও হয়নি।

বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে এবার পৃথিবীর ওপর যাতে শান্তির বৃষ্টি বর্ষে, সেই বারতা দেয়া হবে এবারের মঙ্গল শোভাযাত্রা থেকে। এ ছাড়া বিলুপ্তপ্রায় প্রাণীগুলোকে টিকিয়ে রাখার আহ্বানও থাকবে এবারের শোভাযাত্রায়। এবারের মূল প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘বরিষ ধরা মাঝে শান্তির বারি’।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হবে মঙ্গল শোভাযাত্রা
বাংলা নববর্ষের প্রথম দিনে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পহেলা বৈশাখ উদযাপন করতে হবে। শিক্ষার্থীদের দিয়ে বের করতে হবে মঙ্গল শোভাযাত্রা। গাইতে হবে জাতীয় সংগীত।

গত ৪ এপ্রিল প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদপ্তর এবং গত ১১ এপ্রিল মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এ-সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, প্রত্যেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে অবশ্যই শিক্ষার্থীদের নিয়ে একটি শোভাযাত্রা বের করতে হবে।

মাউশির ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, পহেলা বৈশাখের দিন শিক্ষার্থীদের অবশ্যই জাতীয় সংগীত গাইতে হবে। পাশাপাশি বাংলা নতুন বর্ষকে বরণ করতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা ‘এসো হে বৈশাখ’ গানটি গাইতে হবে শিক্ষার্থীদের।

এদিকে পহেলা বৈশাখে আয়োজিত ঐতিহ্যবাহী মঙ্গল শোভাযাত্রা বন্ধে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, ঢাকার জেলা প্রশাসক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ডিনকে গত ৯ এপ্রিল এ নোটিশ পাঠিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান।

এদিকে পহেলা বৈশাখ ও ঈদকে কেন্দ্র করে কোনো নিরাপত্তা শঙ্কা দেখছেন কি না- এসব নিয়ে গতকাল দুপুরে রাজধানীর সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমাদের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো যে রিপোর্ট করেছে, এই ধরনের কোনো ঝুঁকি নেই। তবে আপনারা জানেন নববর্ষের সময় অনেকেই অনেক কিছু বলে থাকেন। সে জন্য অনেকেই রটনা রটানো ও ঘটনা ঘটানোর চেষ্টা-প্রচেষ্টা করবেন। তবে আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সবদিক দিয়ে সেগুলো মনিটর করছে। আমাদের কাছে এখন পর্যন্ত বড় কোনো নিউজ আসেনি।’

স্বত্ব © ২০২৬ সংবাদ সাতদিন