রূপপুর প্রকল্প : ক্ষতিপূরণ পেলেন আরও ২৮ কৃষক

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প এলাকায় ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণ পেলেন আরও ২৮ জন কৃষক। সোমবার বিকাল ৪টার দিকে তাদের হাতে ৮৪ লাখ টাকার ব্যাংক চেক তুলে দেয় প্রশাসন। এ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত ৪১১ কৃষককে ২১ কোটি ১৯ লাখ ৪৮ হাজার ২৪৬ টাকা দিল সরকার।

সোমবার চেক প্রদান উপলক্ষে ঈশ্বরদী উপজেলা সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পিএম ইমরুল কায়েস। আরও উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) টিএম রাহসিন কবির, ঈশ্বরদী প্রেস ক্লাবের সভাপতি মোস্তাক আহমেদ কিরণ, পাকশী ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুজ্জামান পিন্টু প্রমুখ।

ইউএনও পিএম ইমরুল কায়েস জানান, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য ১৯৬২ সালে ২৬০ ও আবাসিক এলাকার জন্য ৩৫ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। ২০১৭ সালে কাজ শুরুর পর আরও ৯৯০ একর খাসজমি প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত হয়। এসব জমিতে চাষাবাদ করা কৃষকদের ক্ষতিপূরণের ঘোষণা দেয় সরকার। পরে ক্ষতিগ্রস্ত ৭৭৫ কৃষককে তালিকাভুক্ত করা হয়। তাদের ক্ষতিপূরণ বাবদ ২৭ কোটি ৩৪ লাখ ৮৭ হাজার ৯৯০ টাকা বরাদ্দ দেয় পরমাণু শক্তি কমিশন।

তিনি জানান, ২০১৮ সালে ক্ষতিপূরণ দেওয়া শুরু হয়। ওই বছরের ৫ জুলাই ৬৪ জনকে ১ কোটি ৭৫ লাখ ৫৫০ টাকা দেওয়া হয়। তখন ক্ষতিগ্রস্তের তালিকাভুক্ত হতে দাবি জানিয়ে মামলা করেন কয়েকজন কৃষক। মামলা হওয়ায় টাকা দেওয়া বন্ধ হয়ে যায়। পরে হাইকোর্টে রিট আবেদনের রায় ও জেলা প্রশাসকের নির্দেশে গত বছরের ৫ জানুয়ারি থেকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া শুরু হয়। পর্যায়ক্রমে একই বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৩১৯ জনকে ২০ কোটি ৩৫ লাখ টাকা দেওয়া হয়। এরপর থেকে বন্ধ থাকার পর সর্বশেষ গতকাল ২৮ জন কৃষককে দেওয়া হলো ৮৪ লাখ টাকা।

ইউএনও পিএম ইমরুল কায়েস আরও বলেন, ‘এ পর্যন্ত ৪১১ জন কৃষককে ব্যাংক চেকের মাধ্যমে ২১ কোটি ১৯ লাখ ৪৮ হাজার ২৪৬ টাকা দেওয়া হয়েছে। বাকি আছেন ৩৬৪ জন। তাদেরকে পর্যায়ক্রমে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।’

ক্ষতিপূরণ পেয়ে কৃষক লাভলু মোল্লা বলেন, ‘৫-৬ বছর ঘোরাঘুরি করেছি। তারপর টাকা পেলাম। এই টাকা দিয়ে আমি আবার জমি কিনব, চাষ করব।’

আরেক কৃষক আক্তারুজামান বলেন, ‘টাকা পেয়েছি, খুশি লাগছে। তবে জমি হারানোর বেদনাও আছে। যা পেলাম সেটার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞ।’

স্বত্ব © ২০২৫ সংবাদ সাতদিন