আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে সাংবাদিককে তুলে নেয়ার অভিযোগ

প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক শামসুজ্জামান

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকার সাভারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে প্রথম আলোর সাংবাদিক শামসুজ্জামানকে তার ভাড়া বাসা থেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তুলে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার ভোর ৪টার দিকে আশুলিয়ার আমবাগান এলাকার বাসা থেকে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়। যদিও সাভার পুলিশ বা সিআইডি তাকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।

শামসুজ্জামান সাভারে প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক হিসেবে কর্মরত। ২৬ মার্চ প্রথম আলোর অনলাইনে প্রকাশিত একটি শিশুর ছবি ও ক্যাপশনে অসংগতি থাকার প্রেক্ষাপটে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। ১৭ মিনিটের মাথায় প্রথম আলো ছবি ও ক্যাপশন প্রত্যাহার করে এবং ভুল স্বীকার করে জানায়, ছবির ভুলে এই বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। যদিও গত কয়েক দিন ধরে নেটিজনদের অনেকেই অভিযোগ করে আসছেন, মহান স্বাধীনতা দিবসে প্রথম আলো এটি উদ্দেশ্যমূলকভাবে করেছে।

শামসুজ্জামান সাভারের আমবাগান এলাকায় ভাড়া বাসায় একাই থাকতেন। তবে ঘটনার সময় আরিফুল ইসলাম নামে এক স্থানীয় সাংবাদিক শামসুজ্জামানের বাসায় উপস্থিত ছিলেন।

সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘ভোর ৪টার দিকে শামসুজ্জামান ভাই আমাকে ঘুম থেকে ডেকে তোলেন। উঠে দেখি, ডাইনিংয়ে ৫-৬ ব্যক্তি দাঁড়ানো। আর এক ব্যক্তি ভাইয়ের কক্ষে তল্লাশি করে তার ব্যবহৃত একটি ল্যাপটপ, দুটি মোবাইল ফোন ও একটি পোর্টেবল হার্ডডিস্ক নিয়ে নেয়। কর্মকর্তা গোছের একজন ঘরের ভেতরে ঢুকে আমার কাছে পরিচয় জানতে চান এবং জানান জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে বাসায় দিয়ে যাবে।’

বাসা তল্লাশির সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা সুদীপ্ত শাহীন উপস্থিত ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শী জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, ক্যাম্পাসে বটতলার নূরজাহান হোটেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা সুদীপ্ত শাহীন, একজন নিরাপত্তা প্রহরী ও শামসুজ্জামানসহ মোট ১৯ জন ব্যক্তি সাহরির খাবার খান। ভোর পৌনে ৫টার দিকে বটতলা থেকে তারা আবার শামসুজ্জামানের বাসায় যান।

আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এস এম কামরুজ্জামান দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘সাংবাদিক আটকের বিষয়টি জানা নেই। থানায় এমন কাউকে আনা হয়নি।’

শামস জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৫তম আবর্তনে বাংলা বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন। তার গ্রামের বাড়ি মানিকগঞ্জের কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের কৃষ্ণপুরে। তিনি গুলশানের হলি আর্টিজান হামলায় শহীদ পুলিশের এসি রবিউল ইসলামের ভাই।

স্বত্ব © ২০২৬ সংবাদ সাতদিন