ঈশ্বরদী সরকারি কলেজ: অধ্যক্ষসহ ৭ শিক্ষকের পদ শূন্য, ক্যাম্পাসে বালু-খোয়ার স্তূপ

 ঈশ্বরদী সরকারি কলেজ ক্যাম্পাসের ভেতরে বালুর স্তূপ। ছবিটি রোববার দুপুরে তোলা।

নিজস্ব প্রতিবেদক: অধ্যক্ষ ছাড়াই চলছে উপজেলার শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ ঈশ্বরদী সরকারি কলেজ। নতুন অধ্যক্ষের পদায়ন না হওয়ায় দুই মাসেরও বেশী সময় ধরে সহযোগী অধ্যাপক দিয়ে একাই চালাতে হচ্ছে কলেজের যাবতীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম। নষ্ট হচ্ছে ক্যাম্পাসের পরিবেশ।

কলেজ সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ২১ জুলাই অধ্যক্ষ আব্দুর রহিমকে বদলি করা হলে উপাধ্যক্ষ জাকিরুল হককে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ করা হয়। তিনি একই বছরের ২১ ডিসেম্বর অবসরে চলে যান। সেই থেকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্বে রয়েছেন পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হাফিজা খাতুন।

কলেজ সূত্রে আরও জানা যায়, অর্ধশতক বছরের বেশী সময় ধরে এই অঞ্চলের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে ঈশ্বরদী সরকারি কলেজ। ১৯৬৩ সালে প্রতিষ্ঠিত কলেজটি প্রথমে উচ্চ মাধ্যমিক দিয়ে যাত্রা করে জাতীয়করণ করা হয় ১৯৮৬ সালে। পরবর্তীকালে কলেজে অনার্স কোর্স চালু হয়। বর্তমানে কলেজে বাংলা, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, দর্শন, হিসাববিজ্ঞান, ইতিহাস, ইসলামের ইতিহাস, ব্যবস্থাপনা, গনিত, পদার্থ, রসায়ন, উদ্ভিদ বিজ্ঞান, ইংরেজি বিভাগে অনার্স কোর্স রয়েছে। কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক ও ১২টি বিভাগে অনার্স মাস্টার্স কোর্স মিলিয়ে প্রায় আট হাজার শিক্ষার্থীর পাঠদান। কলেজে শিক্ষকের পদ ৪৪ টি। এর মধ্যে দীর্ঘদিন থেকে ৭টি পদই শূন্য রয়েছে। আর কর্মরত রয়েছেন ৩৭ জন শিক্ষক।

আজ রোববার দুপুরে সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, কলেজ ক্যাম্পাসে নির্মাণ সামগ্রী বালু ও খোয়া স্তূপাকারে ফেলে রাখা হয়েছে। বাতাসে স্তূপ থেকে বালু গিয়ে শ্রেণিকক্ষগুলোর বেঞ্চ, মেঝে ধুলোবালিতে আচ্ছাদিত হয়ে আছে। এদিকে ২ মার্চ থেকে এইচএসসি প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের পাঠদান শুরু হয়েছে। নতুন শিক্ষার্থীদের পদচারনায় কলেজ ক্যাম্পাস মুখর হলেও ক্যাম্পাসে থাকা নির্মানসামগ্রীর স্তুপের কারণে তাঁদের চলাচল অসুবিধা হচ্ছে।

বালু-খোয়া ক্যাম্পাসে ফেলে রাখা সম্পর্কে জানা যায়, ৭ কোটি ১০ লাখ ৫৯ হাজার ব্যয়ে গত বছরের ৬ নভেম্বর ‘মোজাম্মেল হক সমাজী বিজ্ঞান ভবন’ নামে কলেজের ছয়তলা একাডেমিক ভবন নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধন করেন পাবনা-৪ আসনের সংসদ নুরুজ্জামান বিশ্বাস। উদ্বোধনের পর কিছু কাজ করা হলেও পরে তা বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সময় নির্মাণসামগ্রী এনে রাখা হলেও এখনও তা সরানো হয়নি।

কলেজের শিক্ষার্থীরা বলছেন, প্রিন্সিপাল স্যার না থাকায় সকল কাজের জন্যই ভাইস প্রিন্সিপাল স্যারের কাছে যেতে হয়। তখন দেখা যায় স্যার কোন না কোন অফিশিয়াল কাজে ব্যস্ত আছেন। দুটি পদের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তাই স্যারের ওপর অত্যধিক কাজের চাপ পড়ছে। ফলে কখনো কখনো আমাদের কাজগুলো দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন হচ্ছে না। তাই শিগগিরই নতুন অধ্যক্ষের পদায়ন দরকার।

এদিকে এইচএসসি প্রথম বর্ষের তিন-চারজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বললে তাঁরা বলেন, কাম্পাসে বালু-খোয়ার স্তূপ, শ্রেণিকক্ষে ধুলাবালির কারণে ভবনগুলোর অবস্থা জরাজীর্ণ, কলেজের পরিবেশ এটতা নাজুক ভাবাই যায় না।

কলেজের ইংরেজি বিভাগের প্রধান ও সহকারি অধ্যাপক রবিউল ইসলাম জানান, কলেজের শীর্ষ পদটি শূন্য থাকায় কলেজের প্রশাসনিক কাজের সম্পন্ন হতে সাময়িক অসুবিধা হলেও অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) তাঁর সাধ্যের শতভাগ দিয়েই চেষ্টা করছেন দায়িত্ব পালন করার।

কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হাফিজা খাতুন বলেন, দুই মাস পার হলেও কলেজের অধ্যক্ষ পদটি শূন্য। অধ্যক্ষ ছাড়া কলেজের প্রশাসনিক কাজে বিঘ্ন ঘটতে পারে, এটা স্বাভাবিক। তবুও সমস্যা, সংকটের মাঝেও আমরা আন্তরিকভাবে কলেজের প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি এবং কার্যকর পাঠদানের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলার ব্রতে আমরা নিবেদিত।

ক্যাম্পাসে বালু-খোয়া স্তূপাকারে রাখার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, কলেজে ছয়তলা একাডেমিক ভবন নির্মাণ কাজ শুরু হলে এসব সামগ্রী এনে রাখা হয়। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্বত্ব © ২০২৫ সংবাদ সাতদিন