ট্রেনে কুষ্টিয়া যাওয়ার পথে ঢাবি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু

 মাহাবুব আদর। ছবি: সংগৃহিত

নিজস্ব প্রতিবেদক: ট্রেনে করে কুষ্টিয়া যাওয়ার পথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। নিহত শিক্ষার্থীর নাম মাহবুব আলম । তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী। তার বাড়ি জয়পুরহাট জেলার ক্ষেতলাল উপজেলার সাখীদার পাড়া তিলাবদুল গ্রামে।

কুষ্টিয়া জেলার পোড়াদহ থানার অন্তর্গত পাকশী হার্ডিঞ্জ ব্রীজ উপর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে মাথায় আঘাত পাওয়ার কারণে তার মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে দুর্ঘটনায় না অন্য কোনভাবে মাথায় আঘাত পেয়েছেন সেটি নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

জানা যায়, সে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলের ১০০৬ নাম্বার কক্ষের থাকতেন। তিন সদস্যের পরিবারে বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান তিনি। তার বাবা আব্দুল হান্নান মিঠু ক্ষেতলাল জেলা পরিষদের সদস্য ।  তিনি বন্ধুদের সঙ্গে কুষ্টিয়ায় লালন স্মরণোৎসব দেখতে যাচ্ছিলেন। বুধবার হল থেকে বের হন।

ট্রেনযোগে কুষ্টিয়ার যাওয়ার পথেই তার মৃত্যুর খবর আসে। সর্বশেষ রাতেই ট্রেনের ছাদ থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আদর একটি ছবি (স্টোরি) পোস্ট করেন। সেই ছবিতে তার সঙ্গে আরো এক ব্যক্তিকে দেখা যায়। তবে তার নাম-পরিচয় জানা যায়নি।

এ বিষয়ে পোড়াদহ রেলাওয়ে থানার ওসি মোহাম্মদ মঞ্জের আলি বলেন, আজ সকাল সাড়ে সাতটার দিকে খবর পেয়ে আমরা পাকশী রেল ব্রিজ থেকে একটি মরদেহ উদ্ধার করি। পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি, তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। মরদেহের মাথার পেছনে গভীর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর কারণ জানা যাবে। তার পরিবারের সদস্যদের খবর দেয়া হয়েছে, কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে তাদের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হবে। তবে তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তিকে পাওয়া যায়নি। মৃত্যুর বিস্তারিত জানতে সে ব্যক্তির ব্যাপারে খোঁজ নেয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

নিহতের বাবা বলেন, আমরা খবর পেয়ে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে এসেছি। সে বন্ধুদের সঙ্গে কুষ্টিয়া ঘুরতে যাওয়ার জন্য হল থেকে বের হয়েছে শুনেছি। গতকাল রাত সাড়ে নয়টার দিকে মায়ের সঙ্গে তার কথা হয়েছিল। কান্নারত কন্ঠে তিনি জানান, আমার ছেলে অসম্ভব মেধাবী ও ভালো ছেলে ছিল। ছেলের এ সংবাদ আমি কিছুতেই মেনে নিতে পারছিনা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম তার বিভাগের শিক্ষার্থী মাহবুবের মৃত্যুর ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি ভবিষ্যতে যেকোনো ধরনের প্রয়োজনে তার পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।

স্বত্ব © ২০২৫ সংবাদ সাতদিন