ট্রুডোর করোনা, কানাডায় চলছে ট্রাকচালকদের বিক্ষোভ

জাস্টিন ট্রুডো। ছবি: ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক: কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। স্থানীয় সময় গতকাল সোমবার তিনি নিজেই এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। খবর সিএনএনের।
 কোভিড-১৯ আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসার কারণে কয়েক দিন ধরে ট্রুডো এবং তাঁর পরিবার আইসোলেশনে ছিলেন। তবে তাঁরা কবে, কোথায়, কার সংস্পর্শে এসেছিলেন সে ব্যাপারে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

গতকাল সোমবার এক টুইটার ও ফেসবুক পোস্টে ট্রুডো লিখেছেন, ‘সকালে জানতে পারলাম আমি করোনা পজিটিভ। শারীরিকভাবে ভালো আছি। স্বাস্থ্যবিধি মেনে দূরবর্তী অবস্থানে থেকে আমি কাজ চালিয়ে যাব। সবাইকে অনুরোধ করব, আপনারা টিকা নিন, বুস্টার ডোজ নিন।’

সোমবার উন্মুক্ত স্থানে করা এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রুডো বলেছেন, তাঁর স্কুলগামী তিন সন্তানের দুজনও করোনায় আক্রান্ত।

এর আগে গত বুধবার নিজের মন্ত্রিপরিষদের বেশ কয়েকজন সদস্যের সঙ্গে সশরীর বৈঠক করেছিলেন জাস্টিন ট্রুডো।

এদিকে টিকাবিধির বিরোধিতা করে রাজধানী অটোয়ায় ট্রাকচালকদের তুমুল বিক্ষোভ চলার মধ্যেই ট্রুডোর করোনায় আক্রান্ত হওয়ার খবর এল। কানাডা সরকার ১৫ জানুয়ারি আন্তঃসীমান্ত ট্রাকচালকদের জন্য করোনার টিকাসংক্রান্ত আদেশ জারি করে। এর আওতায় কানাডার যে ট্রাকচালকেরা টিকা নেননি, তাঁদের ট্রাক নিয়ে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে দেশে ফেরার পর প্রতিবারই কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র সরকারও সম্প্রতি বলেছে, সে দেশে প্রবেশের জন্য বিদেশি ট্রাকচালকদের অবশ্যই টিকা গ্রহণের প্রমাণ উপস্থাপন করতে হবে। কানাডায় টিকাসংক্রান্ত আদেশ জারি করায় ট্রাকচালকেরা ক্ষুব্ধ হন। গত শনিবার থেকে অটোয়ায় তুমুল বিক্ষোভ শুরু করেন তাঁরা। বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে পূর্বসতর্কতা হিসেবে শনিবার অটোয়ার বাসভবন ছেড়ে অজ্ঞাত স্থানে চলে যান প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো ও তাঁর পরিবার।

বিক্ষোভের সময় ন্যাশনাল ওয়ার মেমোরিয়ালে এক সেনা সদস্যের ভাস্কর্যের ওপর দাঁড়িয়ে এক নারীর নাচের ফুটেজসহ বিভিন্ন ঘটনার তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে অটোয়া পুলিশ। পুলিশ ও নগর কর্মীদের প্রতি হুমকি-ধমকিমূলক আচরণ এবং একটি গাড়ি নষ্ট করার ঘটনারও তদন্ত চলছে।

বিবিসির এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, সোমবার অটোয়ার রাস্তায় তৃতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ অব্যাহত রাখেন ট্রাকচালকেরা।

ট্রুডো এ বিক্ষোভের নিন্দা জানিয়েছেন। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে দেখা করতেও অস্বীকৃতি জানিয়েছেন তিনি। ট্রুডো বলেন, ‘মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সমাবেশ, সম্মিলন হলো গণতন্ত্রেরই ভিত্তি। তবে নাৎসি প্রতীক প্রদর্শন, বর্ণবাদী আচরণ কিংবা যুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভকে অবমাননা করা এর অংশ হতে পারে না।’ এ ধরনের আচরণকে ‘স্মৃতি ও সত্যের অপমান’ বলে উল্লেখ করেছেন ট্রুডো।

জনগণকে টিকা প্রদানের হারের দিক থেকে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় দেশগুলোর একটি কানাডা। জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশটিতে প্রায় প্রতি পাঁচজনে চারজনকে করোনা টিকার পূর্ণ ডোজ দেওয়া হয়েছে। মহামারি শুরুর পর ট্রুডো এবারই প্রথম করোনায় আক্রান্ত হলেন। এর আগে ২০২০ সালের মার্চে তাঁর স্ত্রী সোফি গ্রেগোয়ার ট্রুডো করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন।

স্বত্ব © ২০২৫ সংবাদ সাতদিন