| ফাইল ছবি |
নিজস্ব প্রতিবেদক: রেল দুর্ঘটনা কমানোসহ রেল সেবার মান বাড়াতে প্রতি বছর নেয়া হচ্ছে হাজার কোটি টাকার প্রকল্প। রেললাইনে চলাচল করলে রয়েছে গ্রেপ্তার করার আইন। তবুও থামছে না রেলপথে মৃত্যু। প্রতিটি দুর্ঘটনার পর তদন্ত কমিটি গঠন হয়। প্রতিবেদন তৈরি হয়। কিন্তু দুর্ঘটনা কমাতে নেয়া হয় না কার্যকর ব্যবস্থা। পাকশী রেলওয়ের অরক্ষিত লেভেল ক্রসিং যেন মৃত্যুফাঁদ। রেলক্রসিংয়ের নিরাপত্তা রক্ষায় নেই কোন উদ্যোগ। এজন্য অনুমোদিত রেলক্রসিংয়ের একটা বড় অংশই অরক্ষিত বলে জানা যায়।
খুলনা থেকে মৌচাক, ঈশ্বরদী থেকে চিলাহাটি, আব্দুল পুর থেকে রহনপুন, মাঝগ্রাম থেকে ঢালানচর, পোড়াদহ থেকে গোয়ালন্দ ঘাট,পাচুরিয়া থেকে ভাঙা, কালুখালি থেকে ভাটিয়া পাড়া এবং কাশিয়ান থেকে গোপালগঞ্জ পর্যন্ত বিস্তৃত পাকশী বিভাগীয় রেলপথ। এসব রেলপথের মধ্যে মোট ২২৩টি রেলক্রসিং রয়েছে। যার মধ্যে গেটম্যান রয়েছে মাত্র ৬০টি রেলক্রসিংএ। তবে তা পর্যাপ্ত নয়, রয়েছে লোকবল সংকটে। ফলে অরক্ষিত রেলক্রসিংই রয়েছে ১৬৩টি। এসব রেলগেটে নেই কোন গেটম্যান।
অরক্ষিত ১৬৩টি রেলক্রসিং এর মধ্যে পাকশী রেলওয়ে বিভাগ থেকে রেলগেট নির্মাণ করা হয়েছে ২২টি। বাকি ১৪১টি রেলগেটই অবৈধভাবে করা। ফলে কোন গেটম্যান নিয়োগ দেয়নি রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। ফলে যে কোন সময় বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। তারা বলছেন, অরক্ষিত এসব রেলক্রসিংয়ে ঘটছে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা। নেই ট্রেন ও যানবাহন নিয়ন্ত্রণের কর্মী, নেই সংকেত বাতি।
ঈশ্বরদীর পাকশী বিভাগীয় রেলপথের রেললাইনে গত দুই বছরে ট্রেন দুর্ঘটনায় প্রাণহানি হয়েছে ২৫ জনের। ২০২০ থেকে ২০২২ এই দুই বছরে ২৩টি ট্রেন দুর্ঘটনার মধ্যে অরক্ষিত লেবেল ক্রসিং এলাকায় দুর্ঘটনা ঘটেছে ৮টি। এর মধ্যে রেলের এই বিভাগের অরক্ষিত রেল ক্রসিং দিয়ে ট্রেন চলাচলের সময় কোন বাধা না থাকার কারণে ট্রেন লাইনচ্যুত হয়েছে ৮ বার। মুখোমুখি ট্রেন দুর্ঘটনা ও ইঞ্জিন বিকল হয়ে ট্রেন দুর্ঘটনায় পড়েছে দুইবার।
অরক্ষিত রেলক্রসিংয়ের কারণে মানুষ অহরহ পড়েছেন দুর্ঘটনায়। পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ের বানিজ্যিক বিভাগ, পশ্চিমাঞ্চলীয় রেল ও বিভিন্ন দপ্তরে খোঁজ নিয়ে এসব তথ্য জানা যায়।
রেলওয়ে সূত্র জানায়, অরক্ষিত রেলক্রসিংয়ে মানুষের প্রাণহানি নিয়ে রেলের দায়বদ্ধতা নেই। যানবাহন চলাচলের কারণে রেললাইন যাতে ক্ষতিগ্রস্থ না হয়, সে জন্য যানবাহন ও মানুষ পারাপারের জন্য রেল কর্তৃপক্ষ একটি সতর্কবাণী সংবলিত সাইনবোর্ড লাগিয়ে দিয়েছে। এতে তাদের দায়িত্ব শেষ।
রেলপথে দুর্ঘটনা ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা সম্পর্কে পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ের সহকারী পরিবহন কর্মকর্তা (এটিও) মো: সাজেদুল ইসলাম ভোরের কাগজকে বলেন, পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ের অরক্ষিত রেলক্রসিংয়ের বেশির ভাগই অবৈধভাবে করা। যাতায়াতের সুবিধার্থে স্থানীয়রা করেছে। অনুমোদন নিয়ে আমরা অরক্ষিত লেবেলক্রসিংগুলো সংরক্ষিত করতে কাজ করছি।
পাকশী বিভাগীয় সংকেত ও টেলিযোগাযোগ প্রকৌশলী (টেলিকম) সৌমিক শাওন কবীর জানান, লেবেল ক্রসিং এ দুর্ঘটনা কমাতে পাকশী বিভাগীয় রেলের আওতায় ২২৮টি লেবেল ক্রসিং গেটম্যানকে পর্যায়ক্রমে মোবাইল দেয়া হচ্ছে। বিভাগীয় কন্ট্রোল রুম, স্টেশন মাস্টার ও রেলওয়ে কমকর্তাদের সঙ্গে সার্বিক যোগাযোগ রাখার জন্য এটি দেয়া হবে।
