| পাকশী হঠাৎপাড়া এলাকায় উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা ছিল। ছবি: সংগৃহীত |
নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে অবৈধ দখলদারদের আন্দোলনের হুমকি ও দাবির মুখে পাকশীতে রেলওয়ের প্রায় এক হাজার অবৈধ বাসাবাড়ি উচ্ছেদ অভিযান স্থগিত করা হয়েছে। সোমবার বেলা ১১টা থেকে উপজেলার পাকশীতে রেলওয়ে হার্ডিঞ্জ সেতুর রক্ষাবাঁধে প্রায় ১৫ বছর আগে হঠাৎ দখল হয়ে যাওয়া রেলের জমির ‘হঠাৎপাড়া ও বাঙালপাড়া’য় এই অভিযান পরিচালনার কথা ছিল। কিন্তু পাকশী রেল কর্তৃপক্ষ অনিবার্য কারণ দেখিয়ে সকালে উচ্ছেদ অভিযান স্থগিত করেছে।
জানা গেছে, ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পাকশী বিভাগের রেলওয়ে ভূসম্পত্তি কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে হঠাৎপাড়া ও বাঙালপাড়ায় বসবাসরত ১৭০ জন অবৈধ দখলদারকে চূড়ান্ত নোটিশ দেওয়া হয়। গত রোববার করা হয় মাইকিং। উচ্ছেদ অভিযানের জন্য রেল ঈশ্বরদী থানা-পুলিশ, রেলওয়ে পুলিশ, রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন নিশ্চিত করাসহ অবৈধ বাসাবাড়ি ভাঙার যন্ত্র ঠিক করে রেখেছিল পাকশী রেল।
কিন্তু অবৈধ দখলদারদের মানববন্ধন ও পথসভাসহ আন্দোলনের হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার সকালে এই উচ্ছেদ অভিযান কার্যক্রম স্থগিত করা হয়।
পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ে ভূসম্পত্তি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০০৮ সালের পর থেকে পাকশীতে পদ্মা নদীর ধারে রেলওয়ে হার্ডিঞ্জ সেতু রক্ষাবাঁধের বিশাল জায়গা পর্যায়ক্রমে দখলদারদের কবলে চলে যায়। তাঁরা বিভিন্ন সময় স্থানীয় প্রভাবশালীদের ছত্রচ্ছায়ায় হার্ডিঞ্জ সেতু রক্ষাবাঁধের ধারে বাসাবাড়ি নির্মাণ করেন। বাংলাদেশ রেলওয়ে এসব জায়গার মালিক হলেও স্থানীয় কিছু ব্যক্তি টাকার বিনিময় দখলদারের কাছে রেলের জমি বিক্রি করে দেন। পরে সেখানে নির্মাণ করা হয় বাসাবাড়িসহ বিভিন্ন স্থাপনা। এভাবে পর্যায়ক্রমে হার্ডিঞ্জ সেতু রক্ষাবাঁধের জায়গা অবৈধ দখলদারদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। দখলদার উচ্ছেদে রেলওয়ে ভূসম্পত্তি কার্যালয় বেশ কয়েকবার উদ্যোগ নিলেও হঠাৎপাড়া এবং বাঙালপাড়ায় বড় ধরনের উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়নি। রেলের হিসাব অনুযায়ী এখানে ১৭০টির বেশি পরিবার অবৈধভাবে বাস করছে। এসব পরিবারের সদস্য সংখ্যা হাজারেরও বেশি। এ ছাড়া এসব এলাকায় অসামাজিক কার্যকলাপ, মাদকের আখড়া ও অপরাধীদের আস্তানা গড়ে ওঠার অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ে প্রকৌশলী (২) আব্দুর রহিম বলেন ‘অনিবার্য কারণবশত অবৈধ উচ্ছেদ অভিযান স্থগিত করা হয়েছে। পরে এই অভিযান পরিচালনা করা হবে।’
পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ে ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. নুরুজ্জামান বলেন, অবৈধ উচ্ছেদ অভিযানের জন্য তাঁদের সব ধরনের প্রস্তুতি ছিল। কিন্তু দখলদারেরা কিছুদিন সময় চেয়েছেন। রেল কর্তৃপক্ষ তাঁদের কিছুদিন সময় দিয়েছে। গতকাল সোমবার সকালে তাঁদের সাত দিনের সময় দেওয়া হয়েছে। এরপর উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে।
