নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীর লক্ষীকুন্ডা ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীরা একে অপরের বিরুদ্ধে বহিরাগত লোকজন এনে ভোটারদের প্রভাবিত এবং এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টির অভিযোগ করেছেন। ভোটাররাও বলছেন, এলাকায় অপরিচিত মানুষের আনাগোনা বেড়েছে। এতে করে তাঁরা আতঙ্কে রয়েছেন।
আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী আনিস-উর-রহমান শরীফ বলেন, ‘একজন স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে ইউনিয়নে বহিরাগত লোকজন এসে মহড়া দিচ্ছে।’
আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া আনিসুল হক মোল্লা বলেন, ‘আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থীই বহিরাগত লোকজন জড়ো করেছেন। তাই ভোটারদের পাশাপাশি প্রার্থী হিসেবে আমিও সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে সংশয়ে আছি।’
এক ইউপি মেম্বার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘দুই প্রার্থীর পক্ষেই বহিরাগতরা মাঠে নেমেছে। কিন্তু আমি একাই ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট চাইছি।’
মঙ্গলবার লক্ষীকুন্ডা ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে যান এই প্রতিবেদক। এ সময় বিভিন্ন এলাকায় অপরিচিত লোকজনের সন্দেহজনক উপস্থিতি দেখা যায়। এ ছাড়া ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাঁরাও বহিরাগতদের উপস্থিতি নিয়ে আতঙ্কে রয়েছেন।
কালামপুর পূর্ব পাড়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল আজিজ বলেন, নির্বাচনে ভোটারদের প্রভাবিত করতে ইতিমধ্যে বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে লোকজন এনেছেন প্রার্থীরা। এ ছাড়া কুষ্টিয়া, পাবনা ও সিরাজগঞ্জে উপজেলা থেকেও লোকজনকে লক্ষীকুন্ডা আনা হয়েছে। ফলে তাঁরা আতঙ্কিত না হয়ে পারছেন না।
বরমপুর গ্রামের বাসিন্দা নয়ন মিয়া ও মীর আসলাম জানান, প্রতিদিনই তাঁরা এলাকায় অপরিচিত মানুষের আনাগোনা বাড়ার বিষয়টি খেয়াল করছেন।
ঘোড়ামারা গ্রামের বাসিন্দা নজরুল ইসলাম বলেন, ‘বহিরাগত লোকজন ও সন্ত্রাসীদের এলাকায় ভিড়িয়ে বিভিন্ন স্থানে মহড়া দিচ্ছেন। শেষ পর্যন্ত আমরা নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারব কি না, তা নিয়ে আশঙ্কায় আছি।’
জানতে চাইলে রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্বপ্রাপ্ত ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. রেজাউল হক বলেন, বহিরাগত কেউ এলাকায় অবস্থান করলে তাদের গ্রেপ্তার করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হবে। পুরো ইউনিয়নে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পর্যাপ্ত উপস্থিতি রয়েছে জানিয়ে তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে।
