ঈশ্বরদীতে অবৈধ ট্রাক্টরে সড়কের ক্ষতি, দুর্ঘটনা

আঞ্চলিক মহাসড়ক ও গ্রামীণ সড়কে অবাধে দাপিয়ে চলছে লাইসেন্সবিহীন ট্রাক্টর। ছবিটি শনিবার দুপুরে ঈশ্বরদীর সাঁড়া ইউনিয়ন থেকে তোলা।

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে অবাধে চলছে চাষাবাদের জন্য আমদানি করা লাইসেন্সবিহীন ট্রাক্টর। প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। ট্রাক্টরের চাকায় পিষ্ট হয়ে কয়েকজনের প্রাণ গেছে। তা ছাড়া ট্রাক্টর চলাচলের কারণে ভাঙছে গ্রামীণ সড়ক। অতিরিক্ত ধুলা বালুতে দূষিত হচ্ছে পরিবেশ। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, প্রকাশ্যে এসব অবৈধ ট্রাক্টর চলাচল বন্ধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না স্থানীয় প্রশাসন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কৃষি উন্নয়নের কাজে ব্যবহারের জন্য এ সব ট্রাক্টর বিদেশ থেকে আমদানির সুযোগ দেয় সরকার। কিন্তু কৃষিকাজে ব্যবহারের জন্য আমদানি করা এ সব ট্রাক্টর ইটভাটার মালিক, মাটি-বালু, কাঠ, লোহা ব্যবসায়ী ও শিল্প মালিকসহ পরিবহন ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে দেন এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী। ট্রাক্টরের চালকদের জন্য কোনো লাইসেন্সের প্রয়োজন হয় না। এ কারণে পরিবহন ব্যবসায়ীরা কিনে নেন এ সব ট্রাক্টর। এরপর এ সব ট্রাক্টর ব্যবহার করেন মালামাল পরিবহনের কাজে। ট্রাকের চেয়ে ট্রাক্টরের ভাড়া কম থাকায় এই বাহনের চাহিদা অনেক। এখন উপজেলা কতগুলো ট্রাক্টর আছে, তার সঠিক কোনো পরিসংখ্যান নেই। সংখ্যাটা জানার কোনো উপায় নেই।

তবে সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে, কয়েক মিনিট পর পরই মাটি, বালু ও ইট বোঝাই করা ট্রাক্টর বেপরোয়া গতিতে চলাচল করছে। অতিরিক্ত ট্রাক্টর চলাচলের কারণে গ্রামীণ রাস্তা-ঘাট ভেঙে যাচ্ছে।

৬-৭ জন স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এ সব ট্রাক্টর অতিরিক্ত চলাচলের কারণে রাস্তা ঘাট ভাঙছে, ঘটছে দুর্ঘটনাও। ট্রাক্টরের চাপায় পিষ্ট হয়ে নিহতও হয়েছে কয়েকজন। তা ছাড়া বেপরোয়া গতিতে চলাচলের কারণে অনেক ধুলাবালু ওড়ে। এতে পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।

আয়নাল মৃধা নামের একজন পথচারী বলেন, লক্ষীকুন্ডা, পাকশী এবং সাঁড়া ইউনিয়নে গড়ে ওঠা বিভিন্ন ইট ভাটার মালিক ও বালু ব্যবসায়ীরা অবাধে এ সব ট্রাক্টর ব্যবহার করছেন। এতে গ্রামীণ রাস্তা-ঘাট ভেঙে যাচ্ছে। তা ছাড়া এ সব ট্রাক্টরের কারণে রাস্তাঘাটে এত ধুলা হয় যে ১০ গজ দূরের কোনো কিছুও চোখে পড়ে না। এলাকার রাস্তাঘাট ও পরিবেশ রক্ষার জন্য এ সব অবৈধ ট্রাক চলাচল বন্ধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না স্থানীয় প্রশাসন।

জানতে চাইলে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান বলেন, ‘অবৈধ ট্রাক্টর চলাচলের বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। এর পর থেকেই আমি এগুলো নিয়ে কাজ করছি। পলাশে কোনো লাইসেন্স ও ফিটনেসবিহীন ট্রলি (ট্রাক্টর) চলাচল করতে পারবে না।’

উপজেলায় নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পি এম ইমরুল কায়েস বলেন, ‘অবৈধ ট্রাক ও ট্রলি চলাচলের বিষয়টি আমার জানা নাই। খোঁজ নিয়ে এ সব অবৈধ ট্রলির বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হবে এবং এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা হবে। এখানে অবৈধ কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারবে না।’

স্বত্ব © ২০২৫ সংবাদ সাতদিন