| বাড়তে শুরু করেছে পদ্মা ও গড়াই নদীর পানি। |
নিজস্ব প্রতিবেদন: কুষ্টিয়ায় বাড়তে শুরু করেছে পদ্মা ও গড়াই নদীর পানি। সেই সঙ্গে বিভিন্ন এলাকায় দেখা দিয়েছে নদী ভাঙন। এতে হুমকির মুখে পরেছে উত্তরবঙ্গের সঙ্গে দক্ষিণবঙ্গের যোগাযোগের একমাত্র কুষ্টিয়া-ঈশ্বরদী মহাসড়কটি।
শুক্রবার (২০ আগস্ট) সরেজমিনে দেখা যায়, পানি বাড়ার কারণে ভাঙন দেখা দিয়েছে কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার তালবাড়ীয়া ইউনিয়নের বেশ কিছু এলাকা। এরই মধ্যেই বেশ কিছু কৃষি জমি ও বসতবাড়ি বিলীন হয়েছে নদীগর্ভে। আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটছে নদীর তীরবর্তী ভাঙন কবলিত মানুষ। নদী ভাঙনে ভিটামাটি হারা পরিবারগুলো মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
তালবাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান আব্দুল হান্নান জানান, তালবাড়ীয়া মোবারক বাঁধের ২০ কিলোমিটারের মধ্যে ৩ কিলোমিটার বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। নদীর অব্যাহত ভাঙনে এই ইউনিয়নের প্রায় কয়েকশ পরিবার ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে জেলার বিভিন্ন এলাকায় পাড়ি জমিয়েছেন। ক্রমাগত ভাঙনে প্রায় কয়েক হাজার একর ফসলি জমি,৩ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসহ প্রায় ৬টি গ্রাম নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার পথে।
ইউপি চেয়ারম্যান আরও জানান, গত কয়েক বছরের তুলনায় এবছর বছর নদী ভাঙনের তীব্রতা অনেক বেশি। প্রতিদিনই ফসলি জমিসহ বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ফলে তীরবর্তী এলাকা ভেঙে ইউনিয়নের মূল ভূখণ্ডের আয়তন ক্রমেই কমছে।
তিনি আরও জানান, মূলত তালবাড়ীয়া ইউনিয়নটি পদ্মা নদীর তীরবর্তী এলাকায় অবস্থিত। আর এ নদীর পাশ দিয়েই রয়েছে কুষ্টিয়া- ঈশ্বরদী মহাসড়ক। এরই মধ্যে তালবাড়ীয়া ইউনিয়নের ৬টি গ্রাম নদীগর্ভে বিলীন হতে চলেছে। ভাঙন রোধে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে কুষ্টিয়া- ঈশ্বরদী মহাসড়কসহ আশে পাশের এলাকা নদীগর্ভে চলে যাবে।
এবিষয়ে মিরপুর উপজেলা পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান কামারুল আরেফিন জানান, অতিদ্রুত ভাঙনরোধ না করা গেলে হুমকির মুখে পরতে পারে উত্তরবঙ্গের সঙ্গে দক্ষিণবঙ্গের যোগাযোগের একমাত্র কুষ্টিয়া-ঈশ্বরদী মহাসড়কটি। নদীর পানিতে প্লাবিত হতে পারে কুষ্টিয়াসহ আশপাশের কয়েকটি জেলার অধিকাংশ অঞ্চল।
এদিকে, ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শনে এসে কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আফসার উদ্দিন জানান, ভারী বর্ষণ ও উজানের ঢলের কারণে দেশের নদ-নদীর পানি বাড়ছে। পদ্মা ও গড়াই নদীতে পানি বাড়ার কারণে মিরপুর উপজেলার তালবাড়ীয়া ইউনিয়নের বেশ কিছু এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। বর্তমানে পদ্মা ও গড়াই নদীর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়েই প্রবাহিত হচ্ছে। তবে নদী ভাঙন কবলিত এলাকায় দ্রুতই জিও ব্যাগের মাধমে ভাঙন প্রতিরোধের ব্যবস্থা করা হবে।
মিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিংকন বিশ্বাস বলেন, পদ্মা নদীর তালবাড়ীয়া অংশে যেভাবে ভাঙন শুরু হয়েছে। অবিলম্বে তা রোধ না করা গেলে কুষ্টিয়া- ঈশ্বরদী মহাসড়ক হুমকির মুখে পড়বে।
ইউএনও আরও জানান, এরই মধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ভাঙনরোধে পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন বলে তারা জানিয়েছেন।
