ঈশ্বরদীতে ভাবির বিরুদ্ধে ননদের শরীর ঝলসে দেয়ার অভিযোগ

আহত ননদকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে ভাবির ছোড়া গরম ভাতের মাড়ে ননদের শরীর ঝলসে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।

শহরের দড়িনারিচা পশ্চিম টেংরী এলাকায় সোমবার মধ্যরাতে এ ঘটনা ঘটে।

ঝলসে যাওয়া নারীর নাম মরিয়ম বেগম। তিনি শহরের সাঁড়াগোপালপুর এলাকার লিটন হোসেনের স্ত্রী।

এ ঘটনার পর পরই পুলিশ মরিয়মের ভাই সাজাদুর রহমান ও ভাবি সংগীতা সুলতানাকে আটক করেছে।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে মঙ্গলবার দুপুরে পুলিশ জানায়, নানা বিষয় নিয়ে কিছু দিন ধরে মরিয়মের ভাই ও ভাবির ঝগড়া চলছিল। বিবাদের খবর শুনে মরিয়ম সোমবার বাবার বাড়ি দড়িনারিচায় আসেন। ঝগড়ার কারণ জানতে চাইলে রাত ১০টার দিকে ভাবির সঙ্গে মরিয়মের তর্ক বাধে। এক পর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে চুলার ‍ওপর থেকে পাতিল এনে গরম মাড় মরিয়মের শরীরে ঢেলে দেয় তার ভাবি। এতে মরিয়মের পিঠ, ঘাড় ও হাতসহ শরীরের বিভিন্ন অংশ ঝলসে যায়। স্বজনরা মরিয়মকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

আহত মরিয়ম জানান, কিছু বুঝে ওঠার আগেই ভাবি তার শরীরে ভাতের মাড় ঢেলে দিয়েছে। পুলিশ সহযোগিতা করলে ভাবির বিরুদ্ধে মামলা করবেন বলে জানান।

মরিয়মের ভাই সাজাদুর রহমান জানান, ঝগড়ার সময় ভাতের গরম পানি ছিটকে এমন হতে পারে। এর বেশি কিছু তিনি জানেন না।

অভিযুক্ত সংগীতা থানায় আটক থাকায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আসমা খাঁন বলেন, গরম পানি জাতীয় কোন জিনিসে মরিয়মের শরীরের কয়েকটি স্থান ঝলসে গেছে।

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান জানান, পারিবারিক দ্বন্দ্বের ঘটনায় ননদ-ভাবি দুজনই কমবেশি আহত হয়েছেন। মরিয়ম হাসপাতালে ভর্তি আছেন। সংগীতা ও তার স্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এখনও থানায় কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে মামলা হবে বলে জানান ওসি।

স্বত্ব © ২০২৬ সংবাদ সাতদিন