ঈশ্বরদীতে একদিনে সর্বোচ্চ শনাক্ত

কঠোর লকডাউনে ঈশ্বরদী বাজার সড়কের চিত্র এটি। ছবিটি বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় তোলা।

নিজস্ব প্রতিবেদন: ঈশ্বরদীতে লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েই চলেছে করোনা শনাক্তের সংখ্যা। গত ২৪ ঘণ্টায় এ উপজেলায় (বুধবার সকাল ৮টা থেকে আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) করোনা শনাক্ত হয়েছে ১৩৬ জনের। গত বছরের ৮ মে উপজেলায় করোনা ধরা পড়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত এটাই ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চসংখ্যক করোনা শনাক্তর রেকর্ড।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আসমা খান জানান, এই ২৪ ঘণ্টায় উপজেলায় সরকারী এবং বেসরকারী ভাবে এক হাজার ১৭ জনের নমুনা পরীক্ষায় নতুন ১৩৬ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। নমুনা পরীক্ষার হিসাবে সংক্রমণের হার ১৩ দশমিক ৩৭ শতাংশ।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র জানায়, ২৪ ঘণ্টায় র‍্যাপিড অ্যান্টিজেন পরীক্ষায় ৪২ জনের নমুনা পরীক্ষায় করোনা শনাক্ত হয়েছে ২০ জনের। র‍্যাপিড অ্যান্টিজেন নমুনা পরীক্ষার হিসাবে সংক্রমণের হার ৪৭ দশমিক ৬১ শতাংশ। বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৯৭৫ জনের নমুনা পরীক্ষার মাধ্যমে করোনা সংক্রমিত শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ১১৬ জন। নমুনা পরীক্ষার হিসাবে সংক্রমণের হার ১১ দশমিক ৮৯ শতাংশ।

এদিকে করোনা উপসর্গে গত ২৪ ঘণ্টায় ঈশ্বরদীতে দুই জন মারা যান। উপসর্গে মৃত্যুর কথা স্থানীয়রা জানালেও সঠিক পরিসংখ্যান জানাতে পারেনি স্বাস্থ্য বিভাগ।

সাত দিনের কঠোর লকডাউন
প্রথম দিনের কঠোর লকডাউনে প্রধান সড়কগুলোতে জনসমাগম কম হলেও খুলেছে অলিগলির দোকানপাট, চায়ের স্টল। পৌর শহরের বাইরে চলাচল করছে ইজিবাইক ও সিএনজি অটোরিকশার মতো যন্ত্রচালিত বাহনও। তবে মাঠপর্যায়ে পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের তেমন তৎপরতা লক্ষ করা যায়নি।

বাজারে গিয়ে দেখা যায়, ঈশ্বরদী বাজারসহ আশেপাশের মোড়ের দোকানপাটগুলোতে মানুষের ভিড় ছিল। সেখানে সামাজিক দূরত্বের কোনো বালাই নেই। বাজারে আসা অধিকাংশ মানুষের মুখে ছিল না মাস্ক। মুখে মাস্ক নেই কেন জানতে চাইলে দু-একজন বলেন, ‘মাস্ক পকেটে আছে। বেশি ভিড় দেখলেই পড়বেন।’

এছাড়াও শহরের মাছের বাজার, মাংসের দোকান ও পৌর মার্কেটের সামনের কাঁচা সবজি বাজারে লোকজনের সমাগম দেখা গেছে।  বাজারে বিভিন্ন মুদি দোকানগুলোতে মানুষকে গাদাগাদি করে বিভিন্ন পণ্য কিনছে। এসব দেখে মনে হচ্ছে কঠোর লকডাউন নেই এখানে।

অন্যদিকে, খাদ্য ও নিত্যপণ্যের দোকান ছাড়াও শহরের ষ্টেশন রোডের মোবাইল, হার্ডওয়ার সামগ্রী, রড সিমেন্ট, ঈশ্বরদী রেলওয়ে মার্কেটের কয়েকটি কাপড়ের দোকানপাট খুলেছেন ব্যবসায়ীরা। তাঁরা অর্ধেক শাটার খুলে বেচাকেনা করছেন।

শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, রাস্তাঘাটে মানুষের চলাচল আজ বিকেলে বেশ বেড়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মানার ক্ষেত্রে মানুষের মধ্যে তেমন আগ্রহ লক্ষ করা যায়নি। লকডাউন কার্যকরের আগের তিন দিন পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের যেমন তৎপর দেখা গেছে, আজ তেমন তৎপরতা লক্ষ করা যায়নি। কার্যত ঢিলেঢালা ভাব দেখা যাচ্ছে। পুলিশের তল্লাশিচৌকির সামনে দিয়ে মোটরসাইকেল, রিকশা, অটোরিকশা চলাচল করছে। তবে চালক ও যাত্রীদের খুব একটা জেরার মুখে পড়তে দেখা যায়নি।

শহরের বাবুপাড়া মোড়ে আড্ডা দিচ্ছিলেন ২০ থেকে ৩০ বছর বয়সী কয়েকজন। তাঁদের কারও মুখেই মাস্ক নেই। একজন আরেকজনের সঙ্গে গা-ঘেঁষাঘেঁষি করে গল্প করছিলেন তাঁরা। ছবি তুলতে দেখে তাঁদের কয়েকজন মুখে মাস্ক পরেন।

জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পিএম ইমরুল কায়েস মুঠোফোনে বলেন, লকডাউন কার্যকর করতে সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে। প্রথম দিন থেকেই উপজেলা ও থানা প্রশাসন লকডাউন বাস্তবায়নে তৎপর রয়েছে।

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান বলেন, বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন জায়গায় পুলিশ সদস্যরা আটকে ছিলো এ সুযোগে কিছু মানুষ প্রয়োজনে ও অপ্রয়োজনে বের হওয়ায় চেষ্টা করে। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে সপ্তাহব্যাপী লকডাউনের বিধিনিষেধ মানতে যত কঠোর হওয়া প্রয়োজন, পুলিশ ততটা কঠোর হবে। তবে সাধারণ মানুষকেও সতর্ক হতে হবে। এখন সংকটকাল চলছে, উপজেলায় করোনা পরিস্থিতি ক্রমেই অবনতির দিকে যাচ্ছে।

স্বত্ব © ২০২৫ সংবাদ সাতদিন