![]() |
| ট্রাক টার্মিনাল না থাকায় বিভিন্ন রাস্তার ধারে এবং শহরের বিভিন্ন এলাকায় যত্রতত্র ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান পার্ক করা হয়। ছবিটি সম্প্রতি ঈশ্বরদী শহরের ষ্টেশন রোড এলাকা থেকে তোলা। |
নিজস্ব প্রতিবেদন: ঈশ্বরদীতে ট্রাক টার্মিনাল না থাকায় চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন ট্রাকশ্রমিক ও মালিকেরা। রাস্তার পাশে যেখানে–সেখানে ট্রাক দাঁড় করিয়ে রাখায় বিশৃঙ্খলা ও যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। দীর্ঘদিন থেকে টার্মিনাল নির্মাণের জন্য তাঁরা প্রশাসন ও পৌরসভার কাছে দাবি জানালেও তা এখনো কার্যকর হয়নি।
উপজেলা ট্রাক মালিক সমিতি সূত্রে জানা গেছে, জেলা শহরের তুলনায় ঈশ্বরদীতে বর্তমানে ট্রাকের সংখ্যা অনেক বেশি। বিশেষ করে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প, ইপিজেড, রেলওয়ে জংশনসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প ও স্থাপনার কারণে ঈশ্বরদীতে ট্রাকের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে।
উপজেলা ট্রাক মালিক সমিতি সূত্রে আরও জানা যায়, এখানে প্রতিদিন ট্রাক, ড্রাম-ট্রাক, মিনি-ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান মিলিয়ে ছয় শতাধিক ট্রাক চলাচল করে। এসব ট্রাক প্রতিদিন নদী থেকে বালু উত্তোলন-পরিবহন, রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্প, রেললাইন সংস্কারের কাজসহ অন্যান্য পণ্য পরিবহনের কাজ করে।
একাধিক ট্রাকচালক বলেন, টার্মিনাল না থাকায় রাস্তাঘাটে গাড়ি রাখতে হয়। শ্রমিকদের বিশ্রামের কোনো জায়গা নেই। রাস্তায় গাড়ি রাখলে পুলিশ এসেই মামলা দেয়। রাস্তাঘাটে গাড়ি রাখায় বিভিন্ন সময়ে ব্যাটারি, যন্ত্রপাতি ও তেল চুরি হয়ে যায়।
প্রবীণ ট্রাকচালক ইনসার আলী বলেন, কাজ শেষে এসব ট্রাক রাখার নির্দিষ্ট কোনো জায়গা নেই ঈশ্বরদীতে। ফলে উপায় না পেয়ে রেলওয়ে মালগুদাম শেড চত্বরে অবৈধভাবে ট্রাক দাঁড় করিয়ে রাখাতে হয়।
ট্রাক মালিক সমিতির ঈশ্বরদী শাখার সভাপতি আবু বাশার সিদ্দিকী বলেন, স্থায়ী ট্রাক টার্মিনাল না থাকায় এখানকার ছয় শতাধিক ট্রাকমালিক এবং প্রায় দুই হাজার ট্রাকশ্রমিকের দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে।
পৌরসভা মেয়র ইসাহাক আলী মালিথা বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছি সেখানে ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণের। কিন্তু অর্থ বরাদ্দ না পাওয়ায় এখনই কাজ শুরু করা যাচ্ছে না। আশা করা যাচ্ছে, আগামী অর্থবছরে অর্থ বরাদ্দ পাওয়া গেলে টার্মিনালের কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।’

