![]() |
| কাজে ব্যস্ত দুই কামার। সাহাপুর ইউনিয়নের আওতাপাড়া থেকে তোলা ছবি। |
নিজস্ব প্রতিবেদন: ঈশ্বরদী উপজেলার কামারের দোকানিরা অলস সময় কাটাচ্ছেন। তাঁদের সবচেয়ে বেশি কাজের সময় কোরবানির ঈদের মাত্র কদিন বাকি। কাজ না থাকায় কামারদের চোখেমুখে হতাশা।
কোরবানির ঈদের আগে টুং–টাং শব্দে মুখ থাকত কামারশালা। গত দুই বছর ঈদের আগে সেই শব্দ তেমন শোনা যায় না।
ঈদ ঘিরে এখানকার কামারদের হাতিয়ার বানানোর আয়োজন শুরু হয় এক মাস আগে থেকেই। আর কেনাবেচা ও কাজ চলে ঈদের চাঁদ রাত পর্যন্ত। এ সময় কামারশালার পাশ দিয়ে গেলেই শোনা যায় লোহা পেটানোর টুং টাং শব্দ। দেখা যায় আগুনে পোড়া লাল লোহাকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে পশু জবাইয়ের হাতিয়ার বানাতে। কিন্তু এবারের চিত্রটা ভিন্ন, চলছে লকডাউন। কোরবানির ঈদ দরজায় কড়া নাড়ছে। তবে এ বছর কামারদের ব্যস্ততা নেই। নেই গরম লোহা পেটানোর শব্দ।
সরেজমিনে দেখা গেছে, কামারদের তৈরি পণ্যের বাজারে ক্রেতার চেয়ে বিক্রেতাই বেশি। কোরবানির কাজে ব্যবহৃত দা, চাপাতি ও ছুরি ইত্যাদির ক্রেতা নেই। শুধুমাত্র পাট কাটার কাঁচি ধার দেওয়ার জন্য কয়েক জনকে দেখা গেল। আশানুরূপ ক্রেতা না থাকায় দোকানিরা অলস সময় কাটাচ্ছেন। দোকানের সামনে দিয়ে কেউ হেঁটে গেলেই ক্রেতা ভেবে ডাকা হচ্ছে।
সাহাপুর ইউনিয়নের আওতাপাড়া পশ্চিমপাড়া গ্রামের কামার নজরুল ইসলাম (৪০) ছোটবেলায় বাবার হাত ধরে কাজ শিখেছেন। সংসারের সদস্য সংখ্যা ৪। তিনি জানান, একজন কর্মচারী নিয়ে এই দোকান চালান। গত বছরের তুলনায় বিক্রি অস্বাভাবিক হারে কমে গেছে এবার। সাধারণত ঈদুল আজহার ১৫-২০ দিন আগে থেকেই দোকানের বিক্রি কয়েক গুণ বেড়ে যেত। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোরবানির কোনো কাজ আসেনি।
কথা হয় বিনয় কর্মকার (৫০) এর সঙ্গে। তার দোকান উপজেলার সাডা ইউনিয়নের গকুলনগর। আক্ষেপের সুরে তিনি জানান, কীভাবে বিক্রি হবে। করোনায় অধিকাংশ মানুষের কাজ নাই। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ। এসব লোক তো চাইলেও এবার কোরবানি দিতে পারছে না।
উত্তরাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ পশুর হাট অরনকোলা পশু হাট এলাকার কামার বিপ্লব (৩৫)। ১৫ বছর ধরে এ কাজ করছেন। তিনি বলেন, লকডাউন চলছে। মানুষ আসছে না। খুব খারাপ অবস্থায় আছি। আত্মীয়-স্বজনদের কাছ থেকে ধার-দেনা করে চলছি।

