![]() |
| লবণ আহরণ করছেন চাষিরা। ফাইল ছবি |
সরেজমিন গত বৃহস্পতি ও গতকাল শনিবার দেশে আটা-ময়দা, তেল, চিনি, লবণ, ডাল, ভোজ্যতেল প্রভৃতি পণ্যের অন্যতম পাইকারি ব্যবসাকেন্দ্র নিতাইগঞ্জ ঘুরে লবণের মূল্যবৃদ্ধির কারণগুলো জানা গেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, দেশীয় লবণ উৎপাদনের ওপর সকার নতুন বাজেটে মূল্য সংযোজন কর (মূসক বা ভ্যাট) বসানোর কারণে দাম বাড়ানো হয়েছে। অন্যদিকে লবণচাষি ও ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে দাম বাড়িয়েছেন বলেও অভিযোগ আছে। এ ছাড়া আবহাওয়ার সমস্যার কথা বলা হচ্ছে। তবে শঙ্কার বিষয় হলো, আসন্ন ঈদ উপলক্ষে যখন কোরবানির পশুর চামড়া সংরক্ষণে লবণের চাহিদা বাড়বে, তখন দাম আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
বিভিন্ন কোম্পানির আয়োডিনযুক্ত খাওয়ার লবণের মূল্যবৃদ্ধির চিত্র এ রকম। ২৫ কেজি ওজনের প্রতি বস্তা কনফিডেন্স লবণ ৫৯০ থেকে বেড়ে ৬২০ টাকা, ফুলকপি সুপার সল্ট ৪৮০ থেকে ৫২০ ও ফুলকপি মোটা লবণ ২৮০ থেকে ৩০০, এসিআই পিওর সল্ট ৬২০ থেকে ৬৫০, মোল্লা সুপার সল্ট ৫৮০ থেকে ৬১০, তীর ৪৭০ থেকে ৫০০ এবং পূবালী ৪৫০ থেকে ৪৮০ টাকা হয়েছে।
মুন্সীগঞ্জের রিকাবীবাজার থেকে আসা খুচরা ব্যবসায়ী আমিনুল ইসলাম বলেন, পাইকারিতে খাওয়ার চিকন লবণ প্রতি বস্তা ৫০ টাকা বেশি দামে কিনতে হয়েছে। গবাদিপশুকে খাওয়ানোর লবণ প্রতি বস্তা ১২০ টাকা বেশি দিয়ে কিনতে হয়েছে। তাই খুচরা পর্যায়ে দাম বাড়িয়ে বিক্রি করতে হবে।
এখন ডাইং কারখানায় ব্যবহৃত ও গবাদিপশুকে খাওয়ানোর আয়োডিনবিহীন সাদা লবণের প্রতি বস্তা (৭৪ কেজি) ৭০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে, যা ১৫ দিন আগে ছিল ৫৬০ টাকা। আর কম সাদা আয়োডিনবিহীন লবণ প্রতি বস্তা ৫৫০ থেকে বেড়ে ৬৫০ টাকায় উঠেছে।
লবণের দাম বেড়ে যাওয়ায় রপ্তানিমুখী পোশাক উৎপাদনের খরচ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন এই খাতের উদ্যোক্তারা।
নিট পোশাক কারখানা মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ‘ডাইং ও ইটিপি পরিচালনায় লবণ ব্যবহৃত হয়। সরকার শিল্পের লবণ আমদানিতে শুল্কহার ১৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করেছে। দেশীয় লবণের দামও বেড়েছে। ফলে পোশাক কারখানার উৎপাদন ও ইটিপি পরিচালনার খরচ বাড়বে। হঠাৎ উৎপাদন খরচ বাড়লে এর প্রভাব পড়বে রপ্তানিতে। তখন আন্তর্জাতিক বাজারের প্রতিযোগিতায় আমাদের টিকে থাকা কঠিন হবে। এ ছাড়া পরিবেশদূষণ বৃদ্ধিরও আশঙ্কা রয়েছে।’
* ২৫ কেজি ওজনের প্রতি বস্তা আয়োডিনযুক্ত খাওয়ার লবণের দাম বেড়েছে ৫০ টাকা। * ৭৪ কেজি ওজনের প্রতি বস্তা শিল্পে ব্যবহৃত আয়োডিনবিহীন লবণে বেড়েছে ১০০ টাকা।
নিতাইগঞ্জ থেকে বর্তমানে রাজধানীর পুরান ঢাকা, নরসিংদী, গাজীপুর, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ফেনী, কুমিল্লা, চাঁদপুর, মুন্সীগঞ্জ, ভৈরবসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় লবণ সরবরাহ করা হয়। আগে অবশ্য এখানকার লবণ দেশের আরও অনেক জেলায় সরবরাহ হতো। কিন্তু বিভিন্ন স্থানে নতুন মোকাম গড়ে ওঠায় এবং অনেক জায়গার ব্যবসায়ীরা সরাসরি চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার থেকে লবণ নেওয়ায় নিতাইগঞ্জে ভিড় কমেছে।
এদিকে লবণের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে কৃষক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে কাদা–ছোড়াছুড়ি রয়েছে। ব্যবসায়ীরা বলেন, কক্সবাজার, টেকনাফ, ইসলামপুর, পটিয়া, কুতুবদিয়া অঞ্চলের লবণচাষিরা তাঁদের উৎপাদিত লবণ মজুত করে রাখায় দাম বাড়ছে।
গরীবে নেওয়াজ সল্ট ইন্ডাস্ট্রিজের মালিক জামাল উদ্দিন বলেন, বৃষ্টির পাশাপাশি দেশীয় লবণ উৎপাদনে ভ্যাট বসানোর কারণে চাষিরা অপরিশোধিত লবণের দাম বাড়িয়েছেন। এতে লবণ উৎপাদনের খরচ বাড়ছে। ফলে বাজারে দাম বাড়ছে।
লবণ মিল মালিক সমিতির নারায়ণগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক মাঈন উদ্দিন বলেন, আগামী দুই–তিন মাস বাজার বাড়তি থাকতে পারে, পরে আবার স্বাভাবিক হয়ে যাবে। তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জ জেলায় বর্তমানে ৪৪টি লবণ মিলের মধ্যে ৬টি চালু আছে।
তাহসিন সরকার বাঁধন/জেএইচ/এমএস

