![]() |
| নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে হাসেম ফুড লিমিটেড কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাস্থল শনিবার দুপুরে পরিদর্শন শেষে কথা বলছেন সিআইডির কর্মকর্তারা। ছবি সংগৃহীত । |
ইমাম হোসেন বলেন, ‘ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এসে আমরা বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ আলামত পেয়েছি। তদন্তকারী কর্মকর্তা মাঠপর্যায়ে কীভাবে কাজ করবেন, সে বিষয়ে তাঁকে একটি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর ভিত্তিতে তিনি কাজ করবেন। প্রাথমিকভাবে ১০টি বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে আমরা কাজ করব।’ শিগগিরই ঘটনার পেছনের কারণগুলো উদ্ঘাটন হবে আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সঠিক, সর্বজন গ্রহণযোগ্য ও যৌক্তিক একটি তদন্ত প্রতিবেদন তাঁরা পেশ করবেন। সম্ভাব্য তিন থেকে চারটি কারণে এই ঘটনা ঘটতে পারে বলে তাঁরা ধারণা করছেন। সবগুলো কারণই তাঁরা খতিয়ে দেখবেন।
তদন্তে যেকোনো ব্যক্তি বা সংশ্লিষ্ট সংস্থার বিরুদ্ধে অনিয়ম পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে উল্লেখ করে সিআইডির এই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ভবন তৈরি ও কারখানা পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত দপ্তরগুলো সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করেছে কি না, এ ঘটনায় তাদের কোনো দায় আছে কি না, সবকিছুই খতিয়ে দেখা হবে। তাদের দায়িত্বে কোনো প্রকার অবহেলা থাকলে তারা সেটার দায় বহন করবে। সে অনুযায়ীই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ সময় সিআইডির জেলা পুলিশ সুপার দেলোয়ার হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জীবন কান্তি সরকার, সহকারী পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদসহ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও জেলা সিআইডির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তার আগে সিআইডির দলটি পুড়ে যাওয়া ভবনটির বিভিন্ন ফ্লোর ঘুরে দেখেন।
৮ জুলাই বিকেলে রূপগঞ্জের হাসেম ফুড লিমিটেডের ৬ তলা কারখানা ভবনে আগুন লাগার ঘটনায় এ পর্যন্ত ৫২ জনের লাশ উদ্ধার হয়েছে। আহত হয়েছেন অন্তত ৩০ জন শ্রমিক। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ১৮টি ইউনিট টানা প্রায় ৪৮ ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ওই ঘটনায় জেলা প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে পৃথক তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
আগুনে পুড়ে মৃত্যুর ঘটনায় রূপগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হুমায়ূন কবীর বাদী হয়ে কারখানামালিক আবুল হাসেম ও তাঁর চার ছেলে, প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাসহ আটজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। পুলিশ আটজনকে গ্রেপ্তারের পর চার দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে। এ ঘটনায় আবুল হাসেমের দুই ছেলে জামিনে মুক্ত হয়েছেন।
এরই মধ্যে গত বৃহস্পতিবার পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) মামলাটি হস্তান্তরের নির্দেশ দেয় পুলিশ সদর দপ্তর। আজ আনুষ্ঠানিকভাবে মামলার তদন্তভার বুঝে নেয় সিআইডি।

