একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু ও রোগী শনাক্তের নতুন রেকর্ড

কবরস্তান ফাইল ছবি।
নিজস্ব প্রতিবেদন: দেশে একদিনে করোনাভাইরাস সংক্রমণে আবারও সর্বোচ্চ মৃত্যু ও সর্বোচ্চ সংখ্যক রোগী শনাক্তের রেকর্ড হয়েছে। দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় (শনিবার সকাল আটটা থেকে আজ রোববার সকাল আটটা পর্যন্ত) করোনায় ২৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে ১১ হাজার ৮৭৪ জন।

আজ রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। এর আগে একদিনে সর্বোচ্চ ২১২ জনের মৃত্যুর তথ্য ছিল গত ৯ জুলাই। আর একদিনে সর্বোচ্চ ১১ হাজার ৬৫১ জন রোগী শনাক্তের খবর এসেছিল ৮ জুলাই।

গত ২৪ ঘণ্টায় মোট ৪০ হাজার ১৫ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার বিপরীতে রোগী শনাক্তের হার দাঁড়িয়েছে ২৯ দশমিক ৬৭ শতাংশ। আগের ২৪ ঘণ্টায় রোগী শনাক্ত হয়েছিল ৮ হাজার ৭৭২ জন। মৃত্যু হয়েছিল ১৮৫ জনের। পরীক্ষার বিপরীতে রোগী শনাক্তের হার ছিল ৩১ দশমিক ৪৬ শতাংশ।

সব মিলিয়ে দেশে এ পর্যন্ত করোনা সংক্রমিত শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০ লাখ ২১ হাজার ১৮৯। মোট মৃত্যু হয়েছে ১৬ হাজার ৪১৯ জনের।

প্রতি ২৪ ঘণ্টায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য

৫ জুলাই
164
৬ জুলাই
163
৭ জুলাই
201
৮ জুলাই
199
৯ জুলাই
212
১০ জুলাই
185
১১ জুলাই
230
 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ৮ লাখ ৭৪ হাজার ৫০১ জন। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ৬ হাজার ৩৬২ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি ৬৬ জনের মৃত্যু হয়েছে খুলনা বিভাগে। ঢাকা বিভাগে মৃত্যু হয়েছে ৫৬ জনের। চট্টগ্রাম বিভাগে মারা গেছেন ৩৯ জন, রাজশাহীতে ২৬ জন এবং রংপুর বিভাগে মৃত্যু হয়েছে ২২ জনের। বাকিরা অন্যান্য বিভাগের।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানদণ্ড অনুযায়ী, কোনো দেশে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে কি না, তা বোঝার একটি নির্দেশক হলো রোগী শনাক্তের হার। কোনো দেশে টানা দুই সপ্তাহের বেশি সময় পরীক্ষার বিপরীতে রোগী শনাক্ত ৫ শতাংশের নিচে থাকলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে বলে ধরা যায়। সেখানে বাংলাদেশে রোগী শনাক্তের হার কয়েক দিন ধরে ৩০ শতাংশের আশপাশে রয়েছে।

প্রতি ২৪ ঘণ্টায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য

৫ জুলাই
9,964
৬ জুলাই
11,525
৭ জুলাই
11,162
৮ জুলাই
11,651
৯ জুলাই
11,324
১০ জুলাই
8,772
১১ জুলাই
11,874

২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের উহানে প্রথম নতুন করোনাভাইরাস সংক্রমণ দেখা দেয়। পরে তা সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। দেশে প্রথম করোনা সংক্রমণ শনাক্ত হয় গত বছরের ৮ মার্চ। এরপর ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে সংক্রমণ। গত বছরের শেষ দিকে এসে সংক্রমণ কমতে থাকে। দেশে এ বছরের মার্চ থেকে নতুন করে করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যু বাড়তে থাকায় টানা বিধিনিষেধ চলছে।

এবার করোনার ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা শুরু হয় গত ঈদুল ফিতরের পরপরই। ভারত সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে রোগী দ্রুত বাড়তে থাকে। পরে তা আশপাশের জেলায়ও ছড়িয়ে পড়ে। মাসখানেকের ব্যবধানে দৈনিক শনাক্ত রোগীর সংখ্যা, মৃত্যু ও শনাক্তের হার কয়েক গুণ বেড়ে যায়।

পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হওয়ায় গত ২২ জুন থেকে ঢাকাকে সারা দেশ থেকে অনেকটা বিচ্ছিন্ন রাখার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। সেই প্রচেষ্টায় ঢাকার আশপাশের চারটি জেলাসহ মোট সাতটি জেলায় জরুরি সেবা ছাড়া সব ধরনের চলাচল ও কার্যক্রম ৩০ জুন মধ্যরাত পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে এরপরও করোনা সংক্রমণ বাড়তে থাকায় ২৮ জুন থেকে সারা দেশে সব গণপরিবহন ও মার্কেট-শপিং মল বন্ধ করা হয়েছে। গত ১ জুলাই থেকে চলছে সর্বাত্মক লকডাউন, বন্ধ রয়েছে সব সরকারি-বেসরকারি অফিস। সর্বাত্মক লকডাউন ১৪ জুলাই পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

তাহসিন সরকার বাঁধন/জেএইচ/এমএস

স্বত্ব © ২০২৫ সংবাদ সাতদিন